> ## Documentation Index
> Fetch the complete documentation index at: https://docs.sayed.app/llms.txt
> Use this file to discover all available pages before exploring further.

# তৃতীয় অধ্যায়: ক্রয়সংক্রান্ত নীতিসমূহ

> Chapter Three: general procurement principles: tender validity and security, specifications, cancellation, approval and award, contract management, records, post-review, eligibility, joint ventures, conflict of interest, and complaints and appeals (বিধি ২২-৭৭).

## অংশ-১: সাধারণ

### বিধি ২২। ক্রয়সংক্রান্ত আইন, ইত্যাদি সাধারণের প্রাপ্যতা

আইন এবং ইহার অধীন প্রণীত বিধি, আদেশ, নির্দেশ, নীতিমালা বা অন্যান্য দলিলপত্র সর্বসাধারণের নিকট সহজ প্রাপ্য করা ও উহার যথাযথ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে, বিপিপিএ নিম্নরূপ দায়িত্ব পালন করিবে, যথা—

* (ক) আইন ও তদধীন প্রণীত বিধিমালার বাংলা ভাষ্য এবং ইংরেজিতে অনূদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ মুদ্রণ ও প্রকাশ;
* (খ) ক্রয়কারী কর্তৃক ক্রয়কার্য পরিচালনা সহজতর করণার্থ ক্রয়সংক্রান্ত দলিলপত্র পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রকাশ;
* (গ) দফা (ক) ও (খ)-এর অধীন প্রকাশিত আইনের বাংলা ও ইংরেজি পাঠ, বিধিমালা সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র সর্বসাধারণের সহজ প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উহা বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ; এবং
* (ঘ) উক্ত দলিলসমূহের হালনাগাদকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ।

### বিধি ২৩। যোগাযোগের ধরন

* (১) এই বিধিমালার অধীন ক্রয়কারী ও ক্রয়কাজে অংশগ্রহণকারী পক্ষের মধ্যে (যেমন-আবেদনকারী, দরপত্রদাতা, সরবরাহকারী, ঠিকাদার, সেবাপ্রদানকারী বা পরামর্শক) যাবতীয় যোগাযোগ লিখিত হইতে হইবে এবং উক্ত যোগাযোগের আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করিবার জন্য উহা প্রেরক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

* (২) ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই বিধিমালার অষ্টম অধ্যায়ের বিধান প্রযোজ্য হইবে।

### বিধি ২৪। ক্রয়কৌশল (Procurement strategy) প্রণয়ন এবং ক্রয়পদ্ধতি নির্বাচন

* (১) উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো ক্রয়চাহিদাকে একাধিক প্যাকেজে ও লটে বিন্যস্ত করিবার ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী এই বিধিমালার বিধি ২৫ অনুসরণে কোনো ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে প্রস্তাবিত ক্রয়কার্য এবং ক্রয়ের বিষয় সতর্কতার সহিত পর্যালোচনা করিয়া এবং ক্রয়ের বৈশিষ্ট্য ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া প্যাকেজে ও লটে বিন্যস্তকরণ এবং প্রয়োগযোগ্য ক্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীন প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নিরূপিত চাহিদার বিপরীতে বাজার পরিস্থিতি, ক্রয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি, সম্ভাব্য সমাধানের বিকল্পসমূহের বিশ্লেষণ, স্থানীয় ইকনোমিক অপারেটরগণের সামর্থ্য, টেকসইতা, ক্রয়কারীর সামর্থ্য, প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা, ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় লইয়া তফসিল-৪ মোতাবেক একটি ক্রয়কৌশল প্রণয়ন করিবে যা প্রকল্প দলিলে সন্নিবেশিত হইবে এবং উহার অনুবর্তীক্রমে উক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক ক্রয়পরিকল্পনা প্রণীত হইবে।

* (২) উপবিধি (১)-এ বর্ণিত ক্রয়কৌশল প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ক্রয়কারী কর্তৃক বাজার পরিস্থিতি তথা বাজারে বিদ্যমান সমাধানের বিকল্প সম্পর্কে অবহিত হইবার লক্ষ্যে সম্ভাব্য ইকনোমিক অপারেটরগণের সমন্বয়ে প্রারম্ভিক বাজার সম্পৃক্ততার (Early market engagement) উদ্যোগ গ্রহণ করা যাইবে এবং সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইটে ন্যূনতম ১৪ (চৌদ্দ) দিন সময় প্রদানপূর্বক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিয়া সম্ভাব্য দরদাতা বা ইকনোমিক অপারেটরদের আমন্ত্রণপ্রদান, অতঃপর তাহাদের আগ্রহের ভিত্তিতে প্রাকক্রয় সভা (Pre-procurement conference) আয়োজন করিতে হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, প্রারম্ভিক বাজার সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় গৃহীত ক্রয়কার্যে কোনোভাবেই যেন সীমাবদ্ধকর প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়ে ক্রয়কারী সতকর্তা অবলম্বন করিবে:

  আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধিতে উল্লিখিত প্রারম্ভিক বাজার সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নির্দিষ্টকৃত কোনো ক্রয়চাহিদা বা প্রস্তুতকৃত বিনির্দেশের মাধ্যমে কোনো ক্রয়প্রক্রিয়াকরণে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী বাধ্য থাকিবে না।

* (৩) ক্রয়কারী পণ্যের প্যাকেজ গঠন ও ক্রয়পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবে—

  * (ক) ক্রেতব্য পণ্যের ধরন ও প্রাক্কলিত ব্যয়;
  * (খ) স্থানীয় বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রাপ্যতা;
  * (গ) স্থানীয় বাজারে প্রাপ্য সংশ্লিষ্ট পণ্যের মান, উৎস ও ব্র‍্যান্ড;
  * (ঘ) মনোনীত পণ্যের মূল্য;
  * (ঙ) প্রয়োজনীয় পরিমাণ পণ্যসরবরাহে স্থানীয় সরবরাহকারীদের সামর্থ্য;
  * (চ) সংশ্লিষ্ট জাতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য এবং উৎপাদিত পণ্যের মান;
  * (ছ) বাজার পরিস্থিতি এবং প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা;
  * (জ) ক্রয়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তা;
  * (ঝ) প্রাপকের ভাণ্ডারের ধারণক্ষমতা এবং প্রস্তাবিত সরবরাহের শর্তাদি ও সূচি; এবং
  * (ঞ) স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ-সংক্রান্ত ঝুঁকি।

* (৩) ক্রয়কারী, পুনঃপুন আবশ্যক এইরূপ পণ্য সরবরাহের জন্য, বিধি ১০৯ অনুযায়ী ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট ব্যবহার করিতে পারে এবং সুবিধাজনক হইলে লটভিত্তিক বা আইটেমভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করিতে পারে।

* (৪) ক্রয়কারী প্যাকেজ প্রণয়নে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করিবে এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের সংখ্যা যেন হ্রাস না পায় উহা নিশ্চিত করিবার জন্য একটি প্যাকেজে বেশিসংখ্যক আইটেম অন্তর্ভুক্ত করিবে না।

* (৫) সাধারণত একই ধরনের সরবরাহকারীগণ কর্তৃক সরবরাহ করা হইয়া থাকে, শুধু এইরূপ আইটেমসমূহের সমম্বয়ে ক্রয়কারী প্রতিটি লট সুবিন্যস্ত করিবে।

* (৬) দরপত্র প্রক্রিয়ায় উৎপাদনকারীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করিবার অভিপ্রায় থাকিলে, বিশেষ ধরনের সরবরাহের (যেমন—স্বাস্থ্য সেক্টরের পণ্য, খুচরা যন্ত্রাংশ, ইত্যাদি) জন্য আইটেমভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা যাইবে।

* (৭) ক্রয়কারী, কার্যের প্যাকেজ গঠন ও ক্রয়পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবে—

  * (ক) কার্যের প্রকৃতি ও প্রাক্কলিত ব্যয়;
  * (খ) নির্মাণ সেক্টরের বিদ্যমান অবস্থা;
  * (গ) স্থানীয় ঠিকাদারদের সামর্থ্য;
  * (ঘ) প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা;
  * (ঙ) ভৌগোলিক অবস্থান;
  * (চ) কার্যসম্পাদনে প্রয়োজনীয় সময়;
  * (ছ) প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়।

* (৮) ক্রয়কারী, ভৌতসেবার প্যাকেজ গঠন ও ক্রয়পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবে—

  * (ক) ভৌতসেবার প্রকৃতি, মান এবং প্রাক্কলিত ব্যয়;
  * (খ) সংশ্লিষ্ট সেবা সেক্টরের বিদ্যমান অবস্থা;
  * (গ) ক্রয়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তা;
  * (ঘ) স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য;
  * (ঙ) প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা;
  * (চ) সেবাসম্পাদনের প্রত্যাশিত তারিখ;
  * (ছ) প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়।

### বিধি ২৫। ক্রয়পরিকল্পনা (Procurement plan) প্রণয়ন, ইত্যাদি

* (১) ক্রয়পরিকল্পনা প্রণয়ন সকল ক্রয়কারীর জন্য বাধ্যতামূলক হইবে।

* (২) ক্রয়পরিকল্পনায় মূল্য বা পদ্ধতি নির্বিশেষে ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত সকল অভীষ্ট বস্তু বা বিষয়, যথা, পণ্য, কার্য, ভৌতসেবা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবার শ্রেণিভিত্তিক বিন্যাসপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

* (৩) উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচি এবং পরিচালন বাজেটের জন্য আলাদাভাবে ক্রয়পরিকল্পনা প্রণয়ন করিতে হইবে।

* (৪) ক্রয়কারী উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচির অধীন ক্রয়ের ক্ষেত্রে, তফসিল-৫ এর অংশ-ক অনুসারে প্রকল্পের পূর্ণ মেয়াদকালের জন্য সার্বিক ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে এবং উহা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) বা কারিগরি/ কারিগরি সহায়তা প্রকল্প (TPP/TAPP) প্রস্তাবের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে।

* (৫) ক্রয়কারী, প্রত্যেক অর্থবৎসরের শুরুতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে প্রত্যাশিত তহবিল প্রবাহের বিষয়টি বিবেচনাক্রমে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচির সার্বিক ক্রয়পরিকল্পনা এবং প্রাক্কলিত ব্যয় (Cost estimate) বাৎসরিক ভিত্তিতে এবং যুক্তিসংগতভাবে হালনাগাদ করিবে।

* (৬) ক্রয়কারী উহার সার্বিক বা বার্ষিক ক্রয়পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় কোনো নির্দিষ্ট ক্রয়পদ্ধতি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা পরিহারের উদ্দেশ্যে, সাধারণত একটি প্রকল্প বা কর্মসূচি বা ক্রয়চাহিদার কোনো অংশ নিম্নতর মূল্যমানের একাধিক প্যাকেজে বিভক্ত করিবে না।

* (৭) ক্রয়কারী, মূল্যায়নের সময় আড়াআড়ি অবহার (Cross-discounts) প্রদান সংক্রান্ত বিধানের প্রয়োগ সহজ করিবার উদ্দেশ্যে, সার্বিক ক্রয়পরিকল্পনায় অনুমোদিত কোনো প্যাকেজ সাধারণত ৫ (পাঁচ)টির অধিক লটে বিভক্ত করিবে না।

* (৮) ক্রয়কারী কোনো ক্রয়চাহিদাকে ক্ষুদ্রতর একাধিক প্যাকেজে বা কোনো প্যাকেজকে একাধিক ক্ষুদ্রতর লটে বিভক্ত করিবার সময় অথবা বিপরীতক্রমে একাধিক প্যাকেজ বা লটকে বৃহত্তর একটি প্যাকেজ বা লটে একত্রিত করিবার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বিবেচনা করিবে—

  * (ক) সুপারিশকৃত আকারের প্যাকেজ বা লটের জন্য গ্রহণযোগ্য (Responsive) দরপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সামর্থ্য;
  * (খ) সুপারিশকৃত আকারের প্যাকেজ বা লটের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য ইকনোমিক অপারেটরগণের সংখ্যা ও সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা; এবং
  * (গ) সম্ভাব্য কার্য চুক্তির ক্ষেত্রে, উক্ত কার্যের জন্য নির্ধারিত স্থানের ভৌগোলিক অবস্থানের বিবেচনায় উহার বাস্তবায়নজনিত সুবিধা।

* (৯) উপবিধি (৫)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ক্রয়কারী দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ-সংবলিত দলিল চূড়ান্তকরণের পূর্বে বা দরপত্র বা প্রস্তাব আহ্বানের পূর্বে উন্নয়ন বা পরিচালন বাজেটের অধীন ক্রয়কারী কর্তৃক বিধি ৯ অনুসরণে গঠিত কমিটি দ্বারা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্রয় নির্বিশেষে স্থানীয় মুদ্রায়, কোনো নির্দিষ্ট ক্রয়ের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় (Official cost estimate) প্রস্তুত করিবে এবং দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় প্রস্তুতকালে পরিবহণ ব্যয়, ওভারহেড, মুনাফা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যয় (যেমন- বিমা পলিসি গ্রহণ, ইত্যাদি), ভৌগোলিক অবস্থান, চুক্তি বাস্তবায়নে প্রযোজ্য কারিগরি ও বাণিজ্যিক শর্তাদি, জটিলতা (Complexity), অনগ্রসরতা, জেলা সদর বা ক্রয় কার্যস্থল হইতে দূরত্ব, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, মূল্য সংযোজন কর (VAT), কাস্টম শুল্ক (Custom duties) এবং আয়করসহ (IT) আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রযোজ্য বিষয়সমূহ আবশ্যিকভাবে বিবেচনা করিবে।

* (১০) উপবিধি (৯)-এর অধীন প্রস্তুতকৃত দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচির বা পরিচালন বাজেটের সার্বিক বা বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় উল্লিখিত প্রাক্কলিত ব্যয় হইতে অধিক হইলে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান এবং অধিক না হইলে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (যদি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিম্নে হন) কর্তৃক অনুমোদনপূর্বক ক্রয়কারীর নিকট ফেরত প্রদান করিতে হইবে এবং ক্রয়কারী অতঃপর, সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ের ক্ষেত্র ব্যতীত, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় সিলগালা করিয়া রাখিবে, যাহা দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির নিকট দরপত্র খোলার প্রাক্কালে হস্তান্তর করিবে এবং দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি দরপত্র উন্মুক্তকরণ সভায় দাপ্তরিক প্রাক্কলিতমূল্য ঘোষণাপূর্বক দরপত্র উন্মুক্তকরণ শিটে উহা লিপিবদ্ধ করিবে।

* (১১) ক্রয়কারী, প্রত্যেক অর্থবৎসরের শুরুতে, পরিচালন বাজেটের অধীন ক্রয়ের জন্য শুধু একটি বার্ষিক ক্রয়পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে।

* (১২) কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচির জন্য হালনাগাদকৃত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা এবং পরিচালন বাজেটের জন্য প্রণীত বার্ষিক ক্রয়পরিকল্পনা ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।

* (১৩) উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচির জন্য সামগ্রিক ক্রয় পরিকল্পনা ও হালনাগাদকৃত বার্ষিক ক্রয়পরিকল্পনা এবং পরিচালন বাজেটের জন্য বার্ষিক ক্রয়পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী ক্ষেত্রমতো তফসিল-৫-এর অংশ-ক, অংশ-খ, অংশ-গ, অংশ-ঘ, অংশ-ঙ ও অংশ-চ-তে বর্ণিত ছক অনুসরণ করিবে।

* (১৪) প্রত্যেক অর্থবৎসরের শুরুতে ইজিপি পোর্টালের মাধ্যমে উপবিধি (১২) অনুসরণক্রমে উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচি এবং পরিচালন বাজেটের জন্য পৃথক পৃথক বার্ষিক ক্রয়পরিকল্পনা প্রণয়ন বা হালনাগাদ, অনুমোদন এবং প্রকাশ করা সকল ক্রয়কারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে।

### বিধি ২৬। ক্রয়পরিকল্পনা হালনাগাদকরণ, সংশোধন, ইত্যাদি

* (১) ক্রয়প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, পুনঃদরপত্র আহ্বান এবং অন্যান্য অদৃষ্টপূর্ব (Unforeseen) পরিবর্তন বা সীমাবদ্ধতা বিবেচনাক্রমে ক্রয়কারী নিজস্ব প্রয়োজনে ক্রয়পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য বিধানপূর্বক সাধারণত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে উহা হালনাগাদ বা সংশোধন করিবে।

* (২) কোনো সার্বিক ক্রয়পরিকল্পনা বা বার্ষিক ক্রয়পরিকল্পনা হালনাগাদ বা সংশোধনের ক্ষেত্রে, যথোপযুক্ত কারণ থাকা সাপেক্ষে, বিধি ২৫ এর উপবিধি (৬), (৭) ও (৮) মোতাবেক কোনো প্যাকেজকে একাধিক ক্ষুদ্রতর প্যাকেজে বা লটে বিভক্তিকরণ বা একাধিক প্যাকেজকে একটি বৃহৎ প্যাকেজে সন্নিবেশকরণ বা ক্রয়পদ্ধতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে:

* (৩) উপবিধি (২)-এর অধীন কোনো একক প্যাকেজকে একাধিক ক্ষুদ্রতর প্যাকেজে বা একাধিক লটে বিভক্ত করা হইলে, উহার কোনো একটি প্যাকেজ বা লটের জন্য চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ প্রদানের পূর্বে, প্যাকেজসমূহ বা লটসমূহের সামষ্টিক মূল্য যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের এখতিয়ারভুক্ত সেই কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিটি প্যাকেজ বা লটের দরপত্র অনুমোদনের জন্য পেশ করিতে হইবে।

  **উদাহরণ ১**।—যদি ২০০ (দুই শত) কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ২৫ কি. মি. দীর্ঘ রাস্তা-কাম-বাঁধ নির্মাণের জন্য কোনো ক্রয় প্যাকেজকে ৫ (পাঁচ)টি লটে বিভক্ত করিয়া দরপত্র আহ্বান করা হয়, তাহা হইলে উহার সামষ্টিক চুক্তিমূল্য (২০০ কোটি টাকা) যে পর্যায়ের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের (এইক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি) এখতিয়ারভুক্ত, সেই পর্যায়ের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করিতে হইবে।

  **উদাহরণ ২**।—যদি ১২০ (একশত বিশ) কোটি টাকা মূল্যের ক্রয়ের দরপত্র আইটেমভিত্তিক আহ্বান করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে বিলম্ব এড়ানোর জন্য পর্যায়ক্রমে উহার বাস্তবায়ন যুক্তিযুক্ত বিবেচিত হইলে উহার যেকোনো একটি আইটেমের জন্য চুক্তিসম্পাদনের পূর্বে উক্ত টেন্ডারের ভিত্তিতে সম্পাদিতব্য সকল চুক্তি-সংক্রান্ত হালনাগাদ অগ্রগতি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের (এই ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি) নিকট পেশ করিতে হইবে।

### বিধি ২৭। ক্রয়কার্যে প্রতিযোগিতা

* (১) ক্রয়প্রক্রিয়ায় অবাধ ও কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণার্থে ক্রয়কারী—

  * (ক) সম্ভাব্য দরপত্রদাতাগণ কর্তৃক প্রকল্প বা কার্যের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনের যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিবে;
  * (খ) কার্য বা জটিল সরবরাহ চুক্তির ক্ষেত্রে, বিশেষত বিদ্যমান কার্য বা যন্ত্রপাতির নবরূপদানের (Refurbishing) জন্য, সম্ভাব্য দরপত্রদাতাগণ ক্রয়কারীর প্রতিনিধিদের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া যাহাতে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন বা ব্যাখ্যা চাহিতে পারে তজ্জন্য প্রাকদরপত্র সভা আহ্বান করিবে;
  * (গ) দফা (খ)-এর অধীন কোনো প্রাকদরপত্র সভা অনুষ্ঠিত হইলে, উক্ত সভার কার্যবিবরণী যেসকল সম্ভাব্য দরপত্রদাতা দরপত্র দলিল ক্রয় করিয়াছেন এবং যাহারা দরপত্র দলিল ক্রয় করিয়াছেন কিন্তু সভায় যোগদান করেন নাই তাহাদের সকলকে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে প্রদান করিবে; এবং
  * (ঘ) দরপত্র দলিলের ভুলত্রুটি সংশোধন বা প্রদত্ত অতিরিক্ত তথ্য পরিশিষ্ট (Addendum) আকারে বিধি ১১৫ অনুযায়ী সকল দরপত্রদাতাগণের নিকট বিতরণ করিবে।

* (২) যে মানদণ্ডের ভিত্তিতে আবেদনকারী, দরপত্রদাতা বা পরামর্শকগণের যোগ্যতা নিরূপণ করা হইবে উহা সংশ্লিষ্ট দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করিয়া আবেদনকারী বা দরপত্রদাতাকে আহ্বানে সাড়া প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রদান করিতে হইবে এবং উক্ত সময় প্রযোজ্য দলিলে সুনির্দিষ্টভাবে ঊল্লেখ করিতে হইবে।

## অংশ-২: দরপত্র বা প্রস্তাবের বৈধতার মেয়াদ নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা জামানত

### বিধি ২৮। দরপত্র বা প্রস্তাবের বৈধতার মেয়াদ নির্ধারণ

* (১) দরপত্র বা প্রস্তাবের বৈধতার মেয়াদ, দরপত্র বা প্রস্তাবের জটিলতা (Complexity) এবং উহা মূল্যায়ন ও অনুমোদনের জন্য আবশ্যক সময় বিবেচনায় নির্ধারণ করিতে হইবে, তবে উহা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমা অনুসরণ করিতে হইবে।

* (২) উপবিধি (১)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো বিশেষ ক্রয় কর্মকাণ্ডের শর্তের সহিত সংগতি রক্ষার প্রয়োজনে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা, দরপত্র বা প্রস্তাবের বৈধতার মেয়াদ কমাইতে বা বাড়াইতে পারিবেন।

### বিধি ২৯। দরপত্র বা প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা

ক্রয়কারী তফসিল-৬-এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে, তবে আবশ্যিকভাবে দরপত্র বা প্রস্তাবের বৈধতার মেয়াদের মধ্যে দরপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়ন, অনুমোদন এবং চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ (Notification of Award) জারি করিবে বা কৃতকার্য পরামর্শকের অনুকূলে প্রস্তাব গ্রহণ পত্র (Letter of Acceptance) জারির মাধ্যমে চুক্তিস্বাক্ষরের জন্য আমন্ত্রণ জানাইবে।

### বিধি ৩০। বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধি

* (১) ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে যুক্তিযুক্ত বিবেচিত হইলে, দরপত্র বা প্রস্তাবের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রান্তের পূর্বে, উহার বৈধতার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২ (দুই) বার বৃদ্ধির জন্য ক্রয়কারী কোনো দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অনুরোধ করিতে পারিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, প্রথমবার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান এবং দ্বিতীয়বার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, পরবর্তী উচ্চতর পর্যায়ের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

* (২) উপবিধি (১)-এর অধীন বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য কোনো অনুরোধ করা হইলে উক্ত অনুরোধপত্রে দরপত্র বা প্রস্তাবের মেয়াদ অবসানের নূতন তারিখ উল্লেখ করিতে হইবে এবং মেয়াদ বৃদ্ধির উক্ত অনুরোধপত্র তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীগণের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

### বিধি ৩১। দরপত্র জামানত

* (১) অসদুদ্দেশ্যে দরপত্র দাখিল নিরুৎসাহিত করিবার উদ্দেশ্যে, ক্রয়কারী দরপত্র দলিলে এই মর্মে শর্ত আরোপ করিতে পারিবে যে, প্রতিটি দরপত্রের সহিত, দরপত্রদাতার পছন্দ অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ব্যাংক ড্রাফট, পে অর্ডার, বা দরপত্র দলিলে নির্দিষ্টকৃত ছকে ব্যাংক গ্যারান্টি, জামানত হিসাবে দাখিল করিতে হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, তফসিল-২-এ উল্লিখিত মূল্যসীমা পর্যন্ত কার্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্রের সহিত জামানত হিসাবে বাংলাদেশের কোনো তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ব্যাংক ড্রাফট বা পেঅর্ডার হিসাবে দাখিল করিতে হইবে।

* (২) এই বিধির অধীনে আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রে কোনো দরপত্রদাতা দরপত্রের সহিত বাংলাদেশের যে-কোনো তফসিলি ব্যাংক হইতে ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করিতে পারিবে, তবে উক্তরূপ ক্রয়ে কোনো সুখ্যাতিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যাংক কর্তৃক দরপত্র দলিলে নির্দিষ্টকৃত ছকে ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করিবার ক্ষেত্রে, উক্ত গ্যারান্টি বলবৎযোগ্য করিবার জন্য বাংলাদেশে উহার কোনো সহযোগী ব্যাংক কর্তৃক সমর্থিত হইতে হইবে।

* (৩) অহেতুক অংশগ্রহণকারী দরপত্রদাতাগণকে নিরুৎসাহিত করিবার জন্য দরপত্র জামানতের অঙ্ক পর্যাপ্তভাবে নির্ধারণ করিতে হইবে এবং উহা দরপত্র দলিলে মোটামুটি স্থির অঙ্কে (Rounded fixed amount) উল্লেখ করিতে হইবে এবং কখনও প্রাক্কলিত চুক্তিমূল্যের শতকরা হারে উল্লেখ করা যাইবে না এবং উক্ত স্থির অঙ্ক তফসিল-২ অনুসারে নির্ধারণ করিতে হইবে।

  **উদাহরণ**।—যদি কোনো দরপত্রের প্রাক্কলিত চুক্তিমূল্য ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা হয়, তাহা হইলে উক্ত চুক্তি মূল্যের ৩% হারে দরপত্র জামানত হইবে ১৫ (পনের) হাজার টাকা, ২% হারে ১০ (দশ) হাজার টাকা এবং ১% হারে ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা এবং দরপত্রদাতা যাহাতে প্রাক্কলিত চুক্তিমূল্যের পরিমাণ সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য ধারণা লাভ করিতে না পারে, সেই জন্য দরপত্র জামানত উল্লিখিত হারের ভিত্তিতে উপনীত টাকার পরিমাণ হইতে কিছুটা কম পরিমাণ নির্ধারণ করিতে হইবে। এই ক্ষেত্রে ৩% হারে ১৪ (চৌদ্দ) হাজার টাকা, ২% হারে ৯ (নয়) হাজার টাকা ও ১% হারে ৬ (ছয়) হাজার টাকা নির্ধারণ করা যাইতে পারে।

* (৪) দরপত্রদাতা কর্তৃক ক্রয়কারীর অনুকূলে দরপত্র জামানত প্রদত্ত হইবে।

* (৫) এক বা একাধিক আইটেমের জন্য আইটেমভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা হইলে, তফসিল-২-এ উল্লিখিত হারে দরপত্র দাতা কর্তৃক প্রস্তাবিত আইটেমসমূহের মোট মূল্যের শতকরা হারে একটি দরপত্র জামানত দাখিল করিবার জন্য বলা যাইতে পারে:

  তবে শর্ত থাকে থাকে যে, উক্ত ক্ষেত্রে দরপত্র জামানত একটি আলাদা খামে দাখিল করিতে হইবে।

* (৬) দরপত্র লটভিত্তিক আহ্বান করা হইলে, প্রত্যেকটি লটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শতকরা হারের ভিত্তিতে দরপত্র জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা যাইবে, তবে দরপত্র দলিলে উক্ত জামানতের পরিমাণ, উপবিধি (৫)-এর ক্ষেত্র ব্যতীত, তফসিল-২-এ উল্লিখিত স্থির অঙ্কে উল্লেখ করিতে হইবে।

* (৭) বিপরীত নিলাম পদ্ধতি, সরাসরি দরপত্র পদ্ধতি এবং কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতির অধীন পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে, দরপত্র জামানত দাখিলের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করা যাইবে না।

* (৮) বিধি ৩০-এ বর্ণিত পরিস্থিতিতে কোনো দরপত্রদাতার নিকট যথাসময়ে কোনো দাবি উত্থাপনের প্রয়োজনে দরপত্রের বৈধ মেয়াদ পূর্তির তারিখের পর কমপক্ষে ২৮ (আটাশ) দিন পর্যন্ত দরপত্র জামানত বৈধ থাকিতে হইবে।

* (৯) এই বিধির অধীন বর্ধিত মেয়াদের দরপত্র জামানত কোন তারিখ পর্যন্ত গ্রহণ করা হইবে, তদবিষয়ে ক্রয়কারী দরপত্রদাতাকে অবহিত করিবে।

### বিধি ৩২। দরপত্র জামানতের মেয়াদ বৃদ্ধি

* (১) দরপত্রদাতা, দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধিতে সম্মত হওয়া সাপেক্ষে, উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উপবিধি (৩) অনুসারে দরপত্র জামানতের বৈধতার মেয়াদও বৃদ্ধি করিতে হইবে।

* (২) কোনো দরপত্রদাতা দরপত্র বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে সম্মত না হইলে, তাহার দরপত্র পরবর্তীকালে মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত হইবে না এবং উক্ত ক্ষেত্রে দরপত্র জামানত, যতশীঘ্র সম্ভব, দরপত্রদাতাকে ফেরত প্রদান করিতে হইবে।

* (৩) দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হইলে, দরপত্র জামানতের মেয়াদ দরপত্রের বর্ধিত মেয়াদ পূর্তির তারিখের পর কমপক্ষে ২৮ (আটাশ) দিন বৃদ্ধি করিতে হইবে।

### বিধি ৩৩। দাখিলকৃত দরপত্র জামানতের সঠিকতা যাচাইকরণ

* (১) মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক, মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্তকরণের পূর্বে, জামানত ইস্যুকারী ব্যাংকের নিকট হইতে দরপত্রদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত দরপত্র জামানতের সঠিকতা লিখিতভাবে যাচাই করিতে হইবে।

* (২) কোনো দরপত্র জামানত সঠিক বলিয়া পাওয়া না গেলে, উক্ত জামানত সংশ্লিষ্ট দরপত্র পরবর্তীকালে মূল্যায়নের জন্য বিবেচনা করা যাইবে না এবং এইক্ষেত্রে ক্রয়কারী আইনের ধারা ৬৪ (৫) অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

### বিধি ৩৪। দরপত্র জামানত বাজেয়াপ্তকরণ

কোনো দরপত্র জামানত বাজেয়াপ্ত করা যাইবে, যদি দরপত্রদাতা—

* (ক) দরপত্র উন্মুক্তকরণের পর দরপত্র জামানতের বৈধতার মেয়াদের মধ্যে দরপত্র প্রত্যাহার করে; বা
* (খ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, কার্যসম্পাদন জামানত দিতে ব্যর্থ হয় বা যাচাইঅন্তে সঠিক পাওয়া না যায়; বা
* (গ) চুক্তিসম্পাদন করিতে অস্বীকার করে; বা
* (ঘ) বিধি ১১৮(১২)-এর অধীন কোনো গাণিতিক ভুল সংশোধনের কারণে দরপত্র মূল্যের সংশোধন গ্রহণ করিতে অস্বীকার করে; বা
* (ঙ) বিধি ১৪৯-এ বর্ণিত পেশাগত অসদাচরণে সম্পৃক্ত হয়।

### বিধি ৩৫। দরপত্র জামানত ফেরত প্রদান

* (১) দরপত্র উন্মুক্তকরণের পর দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি কর্তৃক কোনো দরপত্র জামানত দরপত্রদাতাকে ফেরত দেওয়া যাইবে না।

* (২) ক্রয়কারী কর্তৃক মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের অব্যবহিত পর অগ্রহণযোগ্য দরপত্রসমূহের দরপত্র জামানত, ধারা ৫৩-এর বিধান-সাপেক্ষে, ফেরত দিতে হইবে।

* (৩) ক্রয়কারী কর্তৃক মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের পর মূল্যায়িত গ্রহণযোগ্য ১ম, ২য় ও ৩য় সর্বনিম্ন দরপত্রের জামানত ব্যতীত অন্যান্য মূল্যায়িত গ্রহণযোগ্য দরপত্রদাতাগণের দরপত্র জামানত, আইনের ধারা ৫৩-এর বিধান- সাপেক্ষে, তাহাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেরত দেওয়া যাইবে।

* (৪) সর্বনিম্ন মূল্যায়িত গ্রহণযোগ্য দরপত্রের দরপত্রদাতার সহিত চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই কেবল অবশিষ্ট দরপত্রসমূহের দরপত্র জামানত ফেরত দেওয়া যাইবে, তবে সকল ক্ষেত্রেই দরপত্র জামানত বৈধতার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বেই ফেরত প্রদান করিতে হইবে।

### বিধি ৩৬। কার্যসম্পাদন জামানত (Performance security)

* (১) কৃতকার্য দরপত্রদাতাকে চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ প্রদানের পর তফসিল-২-এ বর্ণিত হার অনুসরণক্রমে দরপত্র উপাত্ত শিট (Tender data sheet)-এ নির্দিষ্টকৃত পরিমাণের কার্যসম্পাদন জামানত প্রদান করিতে হইবে, যাহা সার্বিকভাবে চুক্তিসংশ্লিষ্ট জামানতের (Contractual security) অংশ হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, তফসিল-২-এর বিধি ৩৭-এর উপবিধি (১)-এর বিপরীতে উল্লিখিত ক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে অনুমিত রক্ষণযোগ্য অর্থও (Retention money) চুক্তিসংশ্লিষ্ট জামানতের (Contractual security) অংশহিসাবে গণ্য হইবে:

  আরও শর্ত থাকে যে, সরকারের নিজস্ব তহবিলের অর্থ দ্বারা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বা আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হইতে পণ্যক্রয়ের ক্ষেত্রে কার্যসম্পাদন জামানত গ্রহণের পরিবর্তে তফসিল-২-এ বর্ণিত হারে, পরিশোধযোগ্য বিল থেকে, নিরাপত্তা জামানত হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কর্তন করা যাইবে এবং পরবর্তীকালে দরপত্র দলিলে বর্ণিত শর্ত মোতাবেক উহা সংরক্ষণ ও ফেরত প্রদান করিতে হইবে।

* (২) ফ্রন্ট লোডিং-এর কারণে দরপত্রে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হইয়াছে অথবা কোনো দরপত্রের আইটেমসমূহে সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যহীন দর প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির নিকট প্রতীয়মান হইলে, উক্ত কমিটি তফসিল-২-এ নির্দিষ্টকৃত চুক্তিসংশ্লিষ্ট জামানত পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবে এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে ক্রয়কারী উক্ত সুপারিশ অনুসারে রক্ষণযোগ্য অর্থবৃদ্ধি করিবে।

* (৩) ক্রয়কারীর নিকট তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত পেঅর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট বা ব্যাংক গ্যারান্টি আকারে কার্যসম্পাদন জামানত দাখিল করিতে হইবে।

* (৪) আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশি কোনো তফসিলি ব্যাংক হইতে অথবা বাংলাদেশে সহযোগী ব্যাংক আছে এইরূপ আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত কোনো ব্যাংক কর্তৃক কার্যসম্পাদন জামানত ইস্যু করিতে হইবে যাহাতে উহা বলবৎযোগ্য হয়।

* (৫) পণ্য, কার্য বা ভৌতসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পণ্যসরবরাহ সময়সীমার বা কার্যসমাপ্তির তারিখের পর ২৮ (আটাশ) দিন পর্যন্ত কার্যসম্পাদন জামানত বৈধ থাকিতে হইবে।

* (৬) যদি কার্যসমাপ্তির তারিখ বৃদ্ধি করা আবশ্যক হয়, তাহা হইলে প্রত্যাশিত কার্যসমাপ্তির নূতন তারিখের পরবর্তী ২৮ (আটাশ) দিনের জন্য কার্যসম্পাদন জামানতের বৈধতা বৃদ্ধি করিতে হইবে।

* (৭) ত্রুটিজনিত দায়-এর মেয়াদে (Defects liability period) উত্থাপিত দায়সমূহের বিপরীতে ইকনোমিক অপারেটরের প্রাপ্য অর্থ হইতে বিধি ৩৭ মোতাবেক কর্তিত রক্ষণযোগ্য অর্থ রক্ষিত থাকিবে।

* (৮) মূল প্রস্তুতকারী বা উহার একমাত্র এজেন্টের নিকট হইতে যন্ত্রাংশ সরাসরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে, কার্যসম্পাদন জামানত প্রদান বাধ্যতামূলক হইবে না।

* (৯) পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হইতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবা ক্রয়ে, ক্রয়কারী তফসিল-২-এ বর্ণিত হার অনুসরণপূর্বক প্রয়োজন ও বাস্তবতার নিরিখে কার্যসম্পাদন জামানত নির্ধারণক্রমে প্রস্তাব দলিলে উল্লিখিত নির্দিষ্ট হারে কার্যসম্পাদন জামানত আরোপ করিতে পারিবে।

* (১০) বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবা ক্রয়ে ব্যক্তি পরামর্শকের উপর কার্যসম্পাদন জামানত আরোপ করা যাইবে না।

### বিধি ৩৭। রক্ষণযোগ্য অর্থ (Retention money)

* (১) সমুদয় কার্যসম্পাদন বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভৌতসেবা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক চলমান পরিশোধযোগ্য বিল হইতে এবং পণ্যের ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য চূড়ান্ত বিল হইতে ঠিকাদারের বা সরবরাহকারীর প্রাপ্য অর্থ হইতে তফসিল-২ অনুসারে নির্ধারিত শতকরা হারে রক্ষণযোগ্য অর্থ কর্তনযোগ্য হইবে।

* (২) ক্রয়কারী বা প্রকল্প পরিচালক বা অন্য কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিধি ৫১(৩০) অনুযায়ী সকল ত্রুটি সংশোধন সংক্রান্ত সনদপত্র (Defects correction certificate) প্রদানের পর অথবা কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত না হইবার ক্ষেত্রে শূন্য ত্রুটি সনদ প্রদানের পর তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে রক্ষণযোগ্য সমুদয় অর্থপরিশোধ করা হইবে।

## অংশ-৩: বিনির্দেশ প্রস্তুতকরণ এবং গোপনীয়তা রক্ষা

### বিধি ৩৮। পণ্য, কার্য, ইত্যাদির কারিগরি বিনির্দেশ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালি

* (১) ক্রয়কারী কোনো সুনির্দিষ্ট ক্রয়ের প্রয়োজনীয় শর্তসমূহের বিবরণ প্রদানের সময়, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি প্রদান করিবে—

  * (ক) ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত পণ্য, কার্য বা সেবার নাম ও বিবরণ;
  * (খ) পণ্য, কার্য বা সেবার মান;
  * (গ) প্রার্থিত কার্যসম্পাদন যোগ্যতা (Required performance standard); ও কর্মক্ষমতার মেয়াদকাল;
  * (ঘ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, টেকসই ক্রয়ের উপাদানসমূহের বিবরণ;
  * (ঙ) নিরাপত্তার মান ও মাত্রা;
  * (চ) ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত পণ্য মোড়কজাতকরণ, চিহ্নিতকরণ ও লেবেল আঁটার জন্য ব্যবহার্য প্রতীক ও পরিভাষা;
  * (ছ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া;
  * (জ) পণ্যের উপযোগিতা নিরূপণের জন্য কোনো পরীক্ষা পদ্ধতি।

* (২) ক্রয়কারী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কারিগরি বিনির্দেশে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে—

  * (ক) প্রতিযোগিতা সীমিত করিতে পারে এইরূপ সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নকশা বা বর্ণনামূলক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ না করিয়া, কার্যসম্পাদন যোগ্যতা বা উৎপাদন ক্ষমতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করিতে হইবে;

    **উদাহরণ**।—জেনারেটর ক্রয়ের জন্য উহার কারিগরি বিনির্দেশ প্রস্তুতের সময় উহার কার্যসম্পাদন যোগ্যতার শর্তাদি নিম্নরূপ নির্ধারণ করা যাইতে পারে, যথা—

    * (অ) জেনারেটরের প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ;
    * (আ) জেনারেটর চালু থাকা অবস্থায় প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ব্যবহৃত জ্বালানির সর্বোচ্চ পরিমাণ;
    * (ই) জেনারেটর চালু থাকা অবস্থায় উহার সর্বোচ্চ শব্দ নিঃসরণ মাত্রা (Noise level)।
  * (খ) আন্তর্জাতিক মান নির্ধারিত থাকিলে উহার ভিত্তিতে বা স্বীকৃত জাতীয়মান বা কোড বা বর্গনাম (Generic name) এর স্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করিতে হইবে।

* (৩) কারিগরি বিনির্দেশে কোনো পণ্যের ট্রেডমার্ক বা পণ্যের ব্যবসায়িক নাম (trade name), পেটেন্ট, নকশা বা ধরন, এক বা একাধিক উৎস দেশের নাম (Specific one or few country(ies) of origin), উৎপাদনকারী বা সেবাসরবরাহকারীর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা যাইবে না।

  **উদাহরণ** ।—(১) ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির নাম উল্লেখ করিয়া (Named vehicle) দরপত্র আহ্বান করিতে পারিবে না বা কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারীর গাড়ির কারিগরি বিনির্দেশের সহিত সরাসরি সম্পর্কযুক্ত বিস্তারিত কারিগরি বিনির্দেশ উল্লেখ করিতে পারিবে না, যাহাতে উক্তরূপে উল্লিখিত কারিগরি বিনির্দেশের কঠিন (tight) শর্তের কারণে অন্যান্য গাড়ি প্রস্তুতকারীগণ দরপত্র দাখিল করিতে সক্ষম না হয়; ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তুতকারীগণের গাড়ি এক ও অভিন্ন নয়, কিন্তু অনেক গাড়ির গুণাগুণ ও কার্য সম্পাদন যোগ্যতা খুব কাছাকাছি হইতে পারে। এইক্ষেত্রে গাড়ির কারিগরি বিনির্দেশ সাধারণভাবে প্রস্তুত করা হইলে উক্ত ধরনের সকল গাড়ি প্রস্তুতকারীগণ বা তাহাদের এজেন্ট দরপত্রে অংশগ্রহণ করিতে সক্ষম হইবে। যেমন—কোনো গাড়ির ওজন ১,০২১ কেজি হইতে হইবে, তাহা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করিয়া কারিগরি বিনির্দেশে এইভাবে উল্লেখ করা সমীচীন যে, গাড়ির ওজন ১,০০০ কেজি হইতে ১,০৫০ কেজির মধ্যে হইতে হইবে।

  উদাহরণ।—(২) কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে, কারিগরি বিনির্দেশে “কেবল আইএসও কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত কম্পিউটার গ্রহণযোগ্য হইবে” মর্মে উল্লেখ করা যাইবে, কিন্তু কোনোক্রমেই কোনো সুনির্দিষ্ট ব্র‍্যান্ডের কম্পিউটারের নাম উল্লেখ করা যাইবে না।

* (৪) উপবিধি (৩)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি বিনির্দেশের সাধারণরূপ প্রস্তুতক্রমে উহা দরপত্রদাতাগণের নিকট সহজে বোধগম্য করিয়া উপস্থাপন করিবার জন্য ক্রয়কারীর পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতা না থাকে, তাহা হইলে ক্রয়কারী কারিগরি বিনির্দেশে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্র‍্যান্ডের পণ্যের বিবরণ উল্লেখ করিতে পারিবে, তবে এই ক্ষেত্রে উহাতে “বা একইরূপ বা সমতুল্য” শব্দগুচ্ছ যোগ করিতে হইবে।

* (৫) ক্রয়কারী, যতদূর সম্ভব, পণ্য, কার্য বা সেবাসংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী বা সুবিধাভোগীগণের নিবিড় সহযোগিতা গ্রহণক্রমে বিনির্দেশ প্রস্তুত করিবে এবং অন্যান্যের মধ্যে নিম্নবর্ণিত প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক অনুমোদিত বা প্রকাশিত মানদণ্ড অনুসরণ করিবে, যথা:—

  * (ক) ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড অর্গানাইজেশন (International Organisation for Standardisation);
  * (খ) ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন (International Electrotechnical Commission); এবং
  * (গ) বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (BSTI) বা অন্য কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কোনো মানদণ্ড।

* (৬) পুনঃপুন ক্রয় করা হইয়া থাকে এইরূপ সাধারণভাবে ব্যবহার্য পণ্য (যেমন—কাগজ, অফিস সরঞ্জামাদি বা দৈনন্দিন ব্যবহৃত অন্য কোনো পণ্য) ক্রয়ের ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী উক্ত পণ্য প্রস্তুতকারীর সহিত আলোচনাক্রমে বিনির্দেশের মানদণ্ড নির্দিষ্ট করিয়া উহা ক্রয়কারীর ওয়েবসাইটে, যদি থাকে, প্রকাশ করিতে পারিবে।

### বিধি ৩৯। ভৌতসেবা ক্রয়ের নিমিত্ত সেবাসম্পাদন বিনির্দেশ প্রস্তুত

ক্রয়কারী ভৌতসেবাসংশ্লিষ্ট কোনো সুনির্দিষ্ট ক্রয়ের প্রয়োজনীয় শর্তসমূহের বিবরণ প্রদানের সময়, বিধি ৩৮-এ বর্ণিত প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সহিত নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি প্রদান করিবে—

* (ক) ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত ভৌতসেবার নাম, ধরন ও বিবরণ;
* (খ) সেবার প্রত্যাশিত মান ও ফলাফল বিনির্দেশ (Expected output);
* (গ) সেবাসম্পাদনে প্রয়োজনীয় সম্পদ, যন্ত্রপাতির বিনির্দেশ ও পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবলের বিবরণ (Required inputs);
* (ঘ) ভৌগোলিক অবস্থান ও সাইটের অবস্থা;
* (ঙ) সেবাসম্পাদন পরিমিতি;
* (চ) ঝুঁকি ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা;
* (ছ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেকসই তা নিশ্চিতকরণের উপাদানসমূহের সংশ্লেষ।

### বিধি ৪০। বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবার কর্মপরিধি নির্ধারণ

আবেদনকারীগণের প্রস্তাব প্রস্তুতিতে সহায়তা প্রদানের জন্য, বিধি ১৩৮ অনুসারে পরামর্শকদের কর্মপরিধি নির্ধারণ করিতে হইবে।

### বিধি ৪১। বিনির্দেশ বা কর্মপরিধি প্রণয়নের দায়িত্ব

এই বিধিমালার বিধি ৯ অনুযায়ী ক্রয়কারী কর্তৃক গঠিত বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি পণ্য, কার্য বা ভৌতসেবা ক্রয়ে কারিগরি বিনির্দেশ (Technical specifications) বা অন্যান্য বিনির্দেশ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবা ক্রয়ে কর্মপরিধি (Terms of Reference) প্রণয়ন করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ক্রয়কারী কারিগরি বিনির্দেশ (Technical specifications) বা অন্যান্য বিনির্দেশ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবা ক্রয়ে কর্মপরিধি (Terms of Reference) প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সহায়তাও গ্রহণ করিতে পারিবে;

আরও শর্ত থাকে যে, কোনো ক্রয়কারী সংস্থা কর্তৃক ক্রয়ে সচরাচর প্রয়োজনীয় পণ্য, কার্য বা ভৌতসেবার প্রমিত কারিগরি ও অন্যান্য বিনির্দেশ প্রণয়ন করিতে চাহিলে উহারা নিজস্ব কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করিয়া তাহা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

### বিধি ৪২। ক্রয় প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশে বাধা-নিষেধ, ইত্যাদি

* (১) আবেদনপত্র, দরপত্র, কোটেশন, আগ্রহব্যক্তকরণপত্র বা প্রস্তাবসমূহ উন্মুক্তকরণের পর চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি না করা পর্যন্ত, কোনো দরপত্রদাতা বা আবেদনকারী, উহার আবেদনপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব সম্পর্কে স্পষ্টীকরণের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করা না হইয়া থাকিলে বা নেগোসিয়েশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো না হইলে বা অভিযোগ দাখিলের জন্য আবশ্যক না হইলে, সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারীর সহিত কোনোরূপ যোগাযোগ করিবে না।

* (২) দরপত্রদাতা বা আবেদনকারী কোনোক্রমেই আবেদনপত্র, দরপত্র, আগ্রহ ব্যক্তকরণপত্র বা প্রস্তাবসমূহের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কোনোভাবে প্রভাবিত করিবার চেষ্টা করিবে না।

* (৩) কোনো দরপত্রদাতা বা আবেদনকারী দরপত্র, কোটেশন, আবেদনপত্র, আগ্রহব্যক্তকরণপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়ন বা চুক্তিসম্পাদন সংক্রান্ত ক্রয়কারীর সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করিবার চেষ্টা করিলে উক্ত দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীর দরপত্র, আবেদন বা প্রস্তাব বাতিলক্রমে আইনের ধারা ৬৪(৫)-এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

### বিধি ৪৩। গৃহীত দরপত্র, ইত্যাদির নিরাপদ হেফাজত

ক্রয়কারী, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমা অনুযায়ী মূল্যায়ন কমিটির সভাপতির নিকট হস্তান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত, গৃহীত সকল আবেদনপত্র, দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব নিরাপদ হেফাজতে রাখার নিশ্চয়তা বিধান করিবে এবং উক্ত দলিলপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতির নিকট হস্তান্তরিত হইবার পর উহার নিরাপত্তার জন্য উক্ত কমিটির সভাপতি দায়ী থাকিবে।

## অংশ-৪: দরপত্র, প্রস্তাব, ইত্যাদি বাতিলকরণ

### বিধি ৪৪। দরপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন বাতিলের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালি

* (১) ক্রয়কারী উপবিধি (২)-এ উল্লিখিত পরিস্থিতিতে মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তৎসংক্রান্ত সুপারিশ ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান কর্তৃক অনুমোদনের পর সকল দরপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন বাতিল করিতে পারিবে।

* (২) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে, সকল দরপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন বাতিল করা যাইবে, যদি—
  * (ক) দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় বাস্তবসম্মত হওয়া সত্ত্বেও সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরপত্র বা কোটেশন উক্ত প্রাক্কলিত ব্যয় অপেক্ষা অধিক হয়; বা
  * (খ) ক্রয় প্রক্রিয়ায় কার্যকর প্রতিযোগিতার অভাব থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় (যথা—সম্ভাব্য কতিপয় দরপত্রদাতা কর্তৃক অংশগ্রহণ না করা); বা
  * (গ) কোনো সরবরাহ বা কার্যসমাপ্তির জন্য নির্ধারিত সময় যুক্তিসংগত বা বাস্তবসম্মত হওয়া সত্ত্বেও, দরপত্রদাতাগণ তাহাদের প্রস্তাবে উক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহা সম্পন্ন করিবার প্রস্তাব দাখিল করিতে সক্ষম না হয়; বা
  * (ঘ) সকল দরপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন অগ্রহণযোগ্য হয়; বা
  * (ঙ) দরপত্র প্রক্রিয়ায় বা দরপত্র দলিলে এমন কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয় যাহার দরুন ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ অব্যাহত রাখিলে সরকারি ক্রয়ের উদ্দেশ্য ব্যাহত হইবে মর্মে প্রতীয়মান হয়; বা
  * (চ) ক্রয় প্রক্রিয়াকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এইরূপ পেশাগত অসদাচরণের বিষয়টি সপ্তম অধ্যায় অনুসারে প্রমাণিত হয়; বা
  * (ছ) বিধি ১৪৪ অনুযায়ী নেগোসিয়েশন ব্যর্থ হয়।

* (৩) উপবিধি ২ (ক)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দর বাজারমূল্যের সহিত সংগতিপূর্ণ হইলে উক্ত দরপত্র বা কোটেশন বাতিল বাধ্যতামূলক হইবে না।

* (৪) সকল গ্রহণযোগ্য দরপত্রদাতা বা আবেদনকারী দরপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন দাখিলোত্তর যোগ্যতা যাচাই নির্ণায়ক অনুসারে গ্রহণযোগ্য হইতে ব্যর্থ হইবার কারণ ব্যতীত, অন্য কোনো কারণে কোনো দরপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে ক্রয়কারী উক্ত কারণসমূহ সতর্কতার সহিত পর্যালোচনা করিবে।

### বিধি ৪৫। বাতিল পরবর্তী গৃহীতব্য ব্যবস্থা

* (১) কোনো দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব বাতিলের পর উহা নূতনভাবে আহ্বানের ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী—
  * (ক) দাপ্তরিক প্রাক্কলন বা বাজেট বা উভয়ই সম্মিলিতভাবে পুনর্নির্ধারণ করিবে; এবং
  * (খ) তৎপরবর্তীকালে চুক্তির শর্ত, নকশা ও বিনির্দেশ এবং চুক্তির পরিধি, পৃথকভাবে বা প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে, সংশোধন করিবার বিষয়টি বিবেচনা করিবে।

* (২) যদি বিধি ৪৪(২)(খ)-তে উল্লিখিত কারণে সকল দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব বাতিল করা হয়, তাহা হইলে ক্রয়কারী নূতন দরপত্র, কোটেশন বা আগ্রহব্যক্তকরণের আবেদনপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে, এই মর্মে নিশ্চয়তা বিধান করিবে যে—
  * (ক) দরপত্র বা আগ্রহব্যক্তকরণের অনুরোধ-সংবলিত বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে এবং মূল্যসীমার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে, অধিকতর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়; এবং
  * (খ) কোটেশনের ক্ষেত্রে, কোটেশনের অনুরোধ-সংবলিত দলিল ইতঃপূর্বে যাহাদের প্রদান করা হইয়াছিল তাহাদের অতিরিক্ত অন্যান্য ব্যক্তিগণের নিকটও জারি করা হয়।

* (৩) গ্রহণযোগ্য না হইবার কারণে কোনো দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব বিধি ৪৪(২) অনুসারে বাতিল করা হইলে, সংশোধিত দলিলের ভিত্তিতে নূতনভাবে দরপত্র, কোটেশন, আগ্রহব্যক্তকরণের অনুরোধ-সংবলিত আবেদনপত্র বা প্রস্তাব আহ্বান করা যাইতে পারে, যাহাতে ইতঃপূর্বে যাহারা অংশগ্রহণ করিয়াছে বা প্রাকযোগ্য বা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হইয়াছে তাহারা সকলে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় বা তাহাদেরকে পুনঃআহ্বান জানানো যায়।

* (৪) সপ্তম অধ্যায় অনুসারে পেশাগত অসদাচরণের বিষয়টি প্রমাণিত হইলে, বিধি ১৪৯(৮) অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

### বিধি ৪৬। বাতিলের কারণ অবহিতকরণ

* (১) ক্রয়কারী, সকল দরপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের, পর তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে, তৎসম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকল দরপত্রদাতা ও আবেদনকারীকে অবহিত করিবে।

* (২) ক্রয়কারী, আবেদনকারী বা দরপত্রদাতার লিখিত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব বাতিলের কারণ অবহিত করিবে।

* (৩) ক্রয়কারী, যুক্তিসংগত কারণে ও ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব দাখিলের সর্বশেষ সময়সীমা উত্তীর্ণের পূর্বে, যে-কোনো সময়, সংশ্লিষ্ট ক্রয় প্রক্রিয়া বাতিল করিতে পারিবে, এবং উক্তরূপে কোনো ক্রয় প্রক্রিয়া বাতিল করা হইলে ক্রয়কারী কর্তৃক গৃহীত সকল আবেদন, দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব উন্মুক্ত না করিয়া সংশ্লিষ্ট দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীকে ফেরত প্রদান করিবে।

## অংশ-৫: ক্রয় অনুমোদন প্রক্রিয়া, চুক্তিসম্পাদন নোটিশ এবং উহা প্রকাশ

### বিধি ৪৭। দরপত্র বা প্রস্তাব অনুমোদন

* (১) আইন ও এই বিধিমালার বিধান যথাযথভাবে অনুসরণক্রমে, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ আইনের ধারা ৮-এর অধীন মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

* (২) মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করিয়া সুপারিশকৃত চুক্তিমূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ—
  * (ক) উক্ত সুপারিশ অনুমোদন করিতে পারিবে; বা
  * (খ) উক্ত সুপারিশ সম্পর্কিত কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ক্রয়কারীর মাধ্যমে উক্ত কমিটির নিকট হইতে ব্যাখ্যা আহ্বান করিতে পারিবে; বা
  * (গ) কারণ ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক—
    * (অ) উক্ত সুপারিশ বাতিলক্রমে পুনর্মূল্যায়নের জন্য উক্ত কমিটিকে অনুরোধ করিতে পারিবে; বা
    * (আ) উক্ত সুপারিশ বাতিল করিয়া আইন ও এই বিধিমালার বিধান অনুসরণক্রমে নূতন ভাবে ক্রয় কার্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।

* (৩) ‘কোম্পানী আইন, ১৯৯৪’ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন)-এর অধীন নিবন্ধিত কোনো কোম্পানি যদি কোনো ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারের পরিচালন বা উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রাপ্ত সরকারি তহবিল ব্যবহার করে, তাহা হইলে, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং চুক্তিসম্পাদনের অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে, উক্ত কোম্পানি, অর্থ বিভাগের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত বিধি-বিধান বা আদেশ অনুসরণ করিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, কোম্পানির নিজস্ব তহবিল দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত ক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং চুক্তিসম্পাদনের অনুমোদন প্রদানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, কোম্পানি আইনের অধীন নিজস্ব প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুসরণ করিবে।

### বিধি ৪৮। ক্রয় অনুমোদন প্রক্রিয়া

* (১) ক্রয়কারী, মূল্যায়ন কমিটি এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, আইনের অধীন কোনো ক্রয়চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি করা পর্যন্ত, এই বিধিতে উল্লিখিত অনুমোদন পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করিবে।

* (২) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের জন্য ক্রয় প্রস্তাবের সহিত—
  * (ক) ক্রয়কারী এই মর্মে ঘোষণা প্রদান করিবে যে, সংশ্লিষ্ট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিধি ২৫-এর উপবিধি (৯) অনুসরণে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় প্রস্তুত করা হইয়াছে; এবং
  * (খ) উপস্থাপিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এই মর্মে ঘোষণা প্রদান করিবে যে, দরপত্র মূল্যায়নে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের সহিত সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দর সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না উহা যৌক্তিকতাসহ নিশ্চিত করা হইয়াছে।

* (৩) বিধি ১৩(১)(খ)-এ উল্লিখিত উপজেলা বা অন্যান্য পর্যায় ব্যতীত, কোনো অবস্থাতেই মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ একই ব্যক্তি (Person) হইতে পারিবে না।

* (৪) ক্রয় প্রক্রিয়া অনুমোদনের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে, যথা—
  * (ক) মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে—
    * (১) আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান, প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, বা কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হইলে—
      * (অ) মূল্যায়ন কমিটি, আইন ও এই বিধিমালার বিধান অনুসারে মূল্যায়ন কার্যাদি সম্পন্নের পর, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও ক্রয় চুক্তিসম্পাদন সম্পর্কে উহার সুপারিশ, দরপত্র বা প্রস্তাব দলিল ব্যতীত, একটি সিলমোহরযুক্ত বন্ধ খামে ক্ষেত্রমতো, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান, প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট অনুমোদনের জন্য সরাসরি দাখিল করিবে;
      * (আ) উপদফা (অ)-এর অধীন প্রাপ্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিধি ৪৭ অনুযায়ী অনুমোদন বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের পর ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান, প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উহাতে স্বাক্ষর প্রদান করিয়া উক্ত বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্রয়কারীর নিকট ফেরত দিবে;
      * (ই) উপদফা (অ) এবং (আ)-তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ক্রয়কারী আঞ্চলিক, উপআঞ্চলিক, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের হইলে, মূল্যায়ন কমিটি উহার সুপারিশসহ মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব দলিল ব্যতীত, একটি সিলমোহরযুক্ত বন্ধ খামে সরাসরি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে এবং উক্ত কর্তৃপক্ষ উক্ত প্রতিবেদনে উহার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করিবার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্রয়কারীর নিকট ফেরত দিবে।
    * (২) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয় হইলে—
      * (অ) মূল্যায়ন কমিটি, “ক্রয় প্রস্তাব” শিরোনামে একটি সারসংক্ষেপ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও চুক্তিসম্পাদন সম্পর্কে উহার সুপারিশ, দরপত্র বা প্রস্তাব দলিল ব্যতীত, একটি সিলমোহরযুক্ত বন্ধ খামে সরাসরি ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিকট দাখিল করিবে;

      * (আ) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান পরবর্তীকালে উহা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া স্বীয় পর্যবেক্ষণ সহকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে:

        তবে শর্ত থাকে যে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান নিজেই যদি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হন, তাহা হইলে তিনি ক্রয় প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও সুপারিশ সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট প্রেরণ করিবে এবং সচিব উক্ত প্রস্তাবের উপর স্বীয় মন্তব্য লিপিবদ্ধ করিয়া উহা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীর নিকট উপস্থাপন করিবে;

      * (ই) উপদফা (আ) এর অধীন উপস্থাপিত ক্রয় প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিধি ৪৩ অনুযায়ী অনুমোদন বা উক্ত বিষয়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের পর, মন্ত্রী উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উহা ক্রয়কারীর নিকট ফেরত দিবে।
    * (৩) সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি হইলে—
      * (অ) মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন ও চুক্তিসম্পাদন সম্পর্কে উহার সুপারিশসহ ক্রয়প্রস্তাব উপবিধি (৩)-এর দফা (ক)-এর উপদফা (২)(অ) ও (আ)-তে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণক্রমে মন্ত্রীর নিকট উপস্থাপন করিতে হইবে;
      * (আ) উক্তরূপে উপস্থাপিত ক্রয়প্রস্তাব বিবেচনান্তে মন্ত্রী উহার উপর তাঁহার মন্তব্য সন্নিবেশিত করিয়া সংশ্লিষ্ট দলিলসমূহ সচিবের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং সচিব উক্ত ক্রয়প্রস্তাবের বিষয়ে তফসিল-৭ অনুসারে (নমুনা ছক) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করিয়া সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রসমূহ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করিবেন;
      * (ই) উপদফা (অ) এবং (আ)-এর অধীন উপস্থাপিত ক্রয়প্রস্তাব বিধি ৪৭ অনুযায়ী অনুমোদন বা উক্ত বিষয়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের পর, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্রয়কারীর নিকট প্রেরণ করিতে হইবে;
    * (৪) মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ক্রয়ের ক্ষেত্রে সচিব উক্ত ক্রয়ের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হইলে—
      * (অ) মূল্যায়ন কমিটি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দরপত্র বা প্রস্তাবের তুলনামূলক বিবরণী সংবলিত শিট ও চুক্তিসম্পাদনের বিষয়ে সুপারিশ, দরপত্র বা প্রস্তাব দলিল ব্যতীত, একটি সিলমোহরকৃত বন্ধ খামে সরাসরি সচিবের নিকট দাখিল করিবে;
      * (আ) উপদফা (অ) এর অধীন দাখিলকৃত মূল্যায়ন প্রতিবেদন সচিব পর্যালোচনা করিয়া তাহার সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন এবং উহা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্রয়কারীর নিকট ফেরত দিবেন।
  * (খ) সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে,
    * (১) আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রকল্প পরিচালক, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা হইলে—
      * (অ) বিধি ৪৭ অনুযায়ী মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদন বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে উপবিধি (৩)-এর দফা (ক)-এর উপদফা (১) (অ) ও (আ)-তে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে;
    * (২) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ হইলে—
      * (অ) মূল্যায়ন কমিটি ‘ক্রয়প্রস্তাব’ শিরোনামে একটি সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করিবে এবং উক্ত সারসংক্ষেপ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও ক্রয় চুক্তি সম্পর্কে উহার সুপারিশ, দাখিলকৃত দরপত্র বা প্রস্তাব দলিল ব্যতীত, একটি সিলমোহরযুক্ত বন্ধ খামে সরাসরি ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা উক্ত সংস্থার প্রধান নির্বাহীর নিকট দাখিল করিবে;

      * (আ) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা প্রধান নির্বাহী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া স্বীয় পর্যবেক্ষণ সহকারে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রসহ উক্ত ক্রয়প্রস্তাব পরিচালনা পর্ষদের নিকট উপস্থাপন করিবে—

        তবে শর্ত থাকে যে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা উক্ত সংস্থার প্রধান নির্বাহী নিজেই যদি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হন, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রসহ ক্রয়প্রস্তাব উক্ত পরিচালনা পর্ষদের নিকট সরাসরি প্রেরণ করিতে হইবে; এবং

      * (ই) উপদফা (অ) ও (আ)-এর অধীন উপস্থাপিত ক্রয়প্রস্তাব বিধি ৪৭ অনুযায়ী অনুমোদন, বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের পর পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্রয়প্রস্তাবটি ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ফেরত দিবে।
    * (৩) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয় হইলে, ক্রয়প্রস্তাব বিধি ৪৭ অনুযায়ী অনুমোদন বা অধীন অন্য কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য, উপবিধি (৩)-এর দফা (ক)-এর উপদফা (২)-এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।
    * (৪) সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি হইলে, উক্ত কমিটির নিকট ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উপবিধি (৩)-এর দফা (ক)-এর উপদফা (৩)-এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে এবং যে পদ্ধতি অনুসরণক্রমে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নিকট প্রস্তাব প্রেরণ করা হইয়াছিল, সেই একই পদ্ধতি অনুসরণক্রমে উক্ত কমিটির সিদ্ধান্ত ক্রয়কারীর নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

* (৫) উপবিধি (৩)-এর দফা (ক) ও (খ)-এর অধীন কোনো ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদিত হইলে, ক্রয়কারী উক্ত বিষয়ে নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করিবে—
  * (ক) ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির পর তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে ক্রয়কারী, উক্ত দরপত্র বা প্রস্তাবের বিষয়ে আইন বা এই বিধিমালার অধীন কোনো অভিযোগ বা আপিল বিবেচনাধীন না থাকিলে, চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি করিবে; এবং
  * (খ) ক্রয়প্রস্তাব প্রক্রিয়ার সহিত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করিবে।

* (৬) ক্রয়কারী, ক্রয়মূল্য তফসিল-২-এ উল্লিখিত পরিমাণ বা তদূর্ধ্ব পরিমাণের হইলে, ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোন পর্যায়ে কতটা সময় ব্যয়িত হইয়াছে উহা এবং কোনো বিলম্ব হইয়া থাকিলে, উক্ত বিলম্বের কারণ উল্লেখপূর্বক ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ক্রয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিপিপিএ-এর নিকট প্রেরণ করিবে।

* (৭) দরপত্র উন্মুক্ত করিবার সময় হইতে চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারির সময় পর্যন্ত কার্যাদি সম্পন্নের জন্য ক্রয়কারী, মূল্যায়ন কমিটি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, কারিগরি সাব-কমিটি ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ আবশ্যিকভাবে তফসিল-৬-এ উল্লিখিত সময়সীমা অনুসরণ করিবে।

* (৮) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (যেক্ষেত্রে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের নিম্নতর পর্যায়ের) বা ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান তফসিল-৬-এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তাহাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব (মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়ন বা প্রতিবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া মন্ত্রণালয়ে অগ্রায়ণ) পালনে ব্যর্থ হইলে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব যৌক্তিক কারণ থাকা সাপেক্ষে উক্ত পর্যায়ের জন্য যথোপযুক্ত সময় বর্ধন করিতে পারিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালার অধীন মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ন্যস্ত কর্মকাণ্ডের (মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া অনুমোদনের নিমিত্ত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ সভায় উত্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অগ্রায়ণ) জন্য তফসিল-৬-এ উল্লিখিত সময়সীমা উত্তীর্ণ হইয়া গেলে বিপিপিএ-এর নিকট সম্মতি গ্রহণ করিয়া তাহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

* (৯) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, কারিগরি সাব কমিটি তফসিল-৬-এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তাহাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান যৌক্তিক কারণ থাকা সাপেক্ষে উক্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রণয়নের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২ (দুই) সপ্তাহের জন্য বর্ধন করিতে পারিবে।

* (১০) সকল ক্রয়কারী ক্রয়প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে তফসিল-৩-এ প্রদত্ত চেকলিস্টসমূহ অনুসরণ করিবে।

### বিধি ৪৯। চুক্তিসম্পাদন নোটিশ প্রকাশকরণ

* (১) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদনের পর বিধি ৪৮(৫)(ক) মোতাবেক ক্রয়কারী তফসিল-৮-এ উল্লিখিত আদর্শ ছক ব্যবহার করিয়া কৃতকার্য দরদাতার অনুকূলে চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি করিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারির অব্যবহিত পরেই অন্যান্য দরদাতাগণসহ ক্রয়সংশ্লিষ্ট অংশীদারগণের অবগতির স্বার্থে তফসিল-৯-এ বর্ণিত ছকে ক্রয়চুক্তি অ্যাওয়ার্ড-সংক্রান্ত তথ্যাদি ক্রয়কারীর নোটিশ বোর্ডে বা উহার নিজস্ব ওয়েবসাইটে, যদি থাকে, এবং বিপিপিএ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিতে হইবে, যা তফসিল ২-এ বর্ণিত সময়ের জন্য নোটিশ বোর্ডে বা ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করিতে হইবে।

* (২) ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষরের পর ক্রয়কারী তফসিল-১০-এ বর্ণিত ছকে উহার নোটিশ বোর্ডে অথবা নিজস্ব ওয়েবসাইটে, যদি থাকে, চুক্তিসম্পাদন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করিবে এবং তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বের চুক্তির ক্ষেত্রে কৃতকার্য ইকনোমিক অপারেটরের মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্যাদিসহ (Beneficial ownership) চুক্তিসম্পাদন-সংক্রান্ত তথ্য বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইট বা ওয়েব-পোর্টালে প্রকাশ করিবে।

* (৩) উপবিধি (২)-এ বর্ণিত চুক্তি ও মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যাদি তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়ের জন্য নোটিশ বোর্ডে বা ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করিতে হইবে।

* (৪) কোনো দরপত্রদাতা বা পরামর্শক তাহার দাখিলকৃত দরপত্র বা প্রস্তাব গৃহীত না হইবার কারণ সম্পর্কে ক্রয়কারীর নিকট জানিতে চাহিলে, ক্রয়কারী উক্ত দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীকে শুধু তাহার দাখিলকৃত দরপত্র বা প্রস্তাবের আপেক্ষিক অবস্থান ও ঘাটতিসমূহ অবহিত করিবে, কিন্তু তাহার নিকট অন্য কোনো দরপত্রদাতা বা আবেদনকারী সম্পর্কে কোনো তথ্যপ্রকাশ করিবে না।

* (৫) উপবিধি (৪)-এর অধীন অবহিতকরণের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা রক্ষা করিতে হইবে।

## অংশ-৬: চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা

### বিধি ৫০। চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা

* (১) চুক্তিসম্পাদনের পর হইতে উক্ত চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন বা বাতিল এবং উহার অধীন মূল্যপরিশোধ অথবা বিরোধ বা দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়কারী কর্তৃক সম্পাদিতব্য সকল প্রশাসনিক, আর্থিক, ব্যবস্থাপনাগত ও কারিগরি বিষয়াদি চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।

* (২) সরবরাহ, মূল্যপরিশোধ, মাননিয়ন্ত্রণ, চুক্তিবাস্তবায়ন, ক্ষতিপূরণ (Compensation), বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ (Liquidated damage) প্রদান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিষ্পত্তির জন্য সম্মত শর্তাদি-সংবলিত স্বাক্ষরিত চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকল্পে ক্রয়কারী কার্যকর চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কলাকৌশল অবলম্বনের লক্ষ্যে পেশাগত রীতি-নীতি প্রয়োগ করিবে।

* (৩) ক্রয়কারী নিশ্চিত করিবে যে, ক্রেতব্য পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়চুক্তিতে নির্ধারিত কারিগরি শর্তাবলি পূরণ করে এবং এতদুদ্দেশ্যে ক্রয়কারী পরিদর্শন ও পরীক্ষণের (Testing) সুবিধা সৃষ্টি, পরিদর্শন টিম গঠন, পরীক্ষাগার (Laboratory) এবং পরিদর্শন ও পরীক্ষণ ব্যবস্থাদির যৌথ বা সম্মিলিত ব্যবহারের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজন অনুসারে পরিদর্শন ও পরীক্ষণ কাজের জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তিসম্পাদন করিতে পারিবে।

* (৪) চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে:
  * (ক) কর্মপরিকল্পনা পুনরীক্ষণ ও অনুমোদন;
  * (খ) গুণগতমান পরিদর্শন ও পরীক্ষণ এবং কর্মপরিকল্পনা অনুসারে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর, কার্যসম্পাদনের পরিমাণ নির্ণয়সহ চুক্তিবাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ;
  * (গ) ভেরিয়েশন অর্ডার, চুক্তি স্থগিতকরণ বা অবসান, মূল্য পুনর্নির্ধারণ, চুক্তির প্রতিবিধানমূলক ব্যবস্থাদি (যথা: ক্ষতিপূরণ আরোপ, বিলম্বে প্রাপ্য পরিশোধ) প্রয়োগ এবং বিরোধ বা দাবি নিষ্পত্তি পদ্ধতির ব্যবস্থাপনা;
  * (ঘ) মূল্যপরিশোধসহ চুক্তিবাস্তবায়ন-সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়াদি এবং বাজেট, মূল্যবিশ্লেষণ ও হিসাবরক্ষণ-সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা;
  * (ঙ) চুক্তিবাস্তবায়ন-সংক্রান্ত দলিলাদির বিন্যাস ও ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর চুক্তিবাস্তবায়ন-সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রণয়ন।

* (৫) প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চুক্তির দায়বদ্ধতা প্রতিপালন, সময়, ব্যয় ও মাননিয়ন্ত্রণকল্পে সূচনা হইতে সমাপ্তি এবং হস্তান্তর অবধি নির্মাণকার্যের তত্ত্বাবধান ছাড়াও প্রকল্পের ডিজাইনের পুনরীক্ষণ করিতে পারিবে।

* (৬) কার্যের বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধানের উদ্দেশ্যে ক্রয়কারী, একজন সুযোগ্য প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অতঃপর এই বিধিতে যাহাকে প্রকল্প ব্যবস্থাপক বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে, তাহার নিকট প্রকল্প বা চুক্তি ব্যবস্থাপনা ন্যস্ত করিবে।

* (৭) কার্যকরভাবে চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ক্রয়কারী প্রয়োজনীয় ভৌত সুবিধাদি এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংস্থান করিবে এবং উক্তরূপ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকিতে পারে, তবে কেবল উহাদের মধ্যেই সীমিত থাকিবে না:
  * (ক) চুক্তিপ্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য ডিজাইন ও পরিবীক্ষণমূলক কার্যাবলির সংস্থানসহ প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকৌশল ও ডিজাইন সার্ভিস প্রদান;
  * (খ) মূল্যপরিশোধ এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা;
  * (গ) চুক্তিপরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য তথ্যের সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের আদান-প্রদান ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি; এবং
  * (ঘ) আইনগত পরামর্শ গ্রহণ।

* (৮) দরপত্রদাতাগণের জন্য নির্দেশনায় প্রদত্ত বর্ণনার ভিত্তিতে চুক্তিমূল্য হিসাব করিতে হইবে, যাহা প্রকৃত সরবরাহকৃত পণ্য বা প্রকৃত বাস্তবায়িত কার্য বা প্রকৃত সম্পাদিত সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এককদর অথবা প্রকৃত সরবরাহকৃত পণ্য বা প্রকৃত বাস্তবায়িত কার্য বা প্রকৃত সম্পাদিত সেবা নির্বিশেষে সামগ্রিক চুক্তি বা উহার অংশবিশেষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থোক মূল্যের ভিত্তিতে হইতে পারে।

* (৯) মূল্যসমন্বয়ের সংস্থান সংবলিত কার্যচুক্তি বা সেবাসম্পাদন চুক্তি ব্যতীত, চুক্তিমূল্য অপরিবর্তনীয় হইবে এবং এইসকল ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এককদর পরিবর্তন করা যাইবে না।

* (১০) চুক্তিতে মূল্যসমন্বয়ের বিধান থাকিলে, যে সকল শর্তসাপেক্ষে মূল্যসমন্বয়ের অনুমতি দেওয়া যাইবে (যেমন—দ্রব্যাদি, শ্রম ও জ্বালানি বাবদ ব্যয়বৃদ্ধি, ইত্যাদি), মূল্যসমন্বয়ের সমর্থনে অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক পরিস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রায় পরিবর্তিত হইয়াছে কি-না এবং হইয়া থাকিলে বৃদ্ধির পরিমাণ কত, কতবার মূল্যসমন্বয় করা যাইবে এবং কি পদ্ধতি অনুসরণক্রমে তাহা করা হইবে, এতৎসংক্রান্ত ফরমুলা ও সূচক চুক্তিতে উল্লেখ করিতে হইবে।

* (১১) মূল চুক্তিমূল্যে অনুমোদিত শতকরা হার অপেক্ষা অধিক হারে পণ্য বা কার্যের চাহিদার পরিমাণগত হিসাব এবং সেবার ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পাইলে, একটি নূতন ক্রয়-প্রক্রিয়া সূচিত করিতে হইবে, অথবা সরাসরি বা একক উৎস হইতে ক্রয়ের সমর্থনে যৌক্তিকতা প্রদর্শন করিতে হইবে।

* (১২) ক্রয়কারী বিধি ৫২, ৫৩ ও ৫৪ অনুযায়ী চুক্তির মূল শর্তে আনীত পরিবর্তনসমূহ প্রতিফলিত করিবার উদ্দেশ্যে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুসারে চুক্তিসংশোধন করিবে।

* (১৩) চুক্তির সংশোধনীতে সাধারণত বিধি ৫১-এর উপবিধি (৩) ও (৪) অনুসারে প্রত্যাশিত কার্যসমাপ্তির তারিখ সম্প্রসারণ এবং অন্য কোনো গ্রহণীয় পরিবর্তনের বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।

* (১৪) যে সকল ক্ষেত্রে ইকনোমিক অপারেটর, পণ্যসরবরাহ বা কার্যসম্পাদন বা সেবাসম্পাদনে বিলম্বের কারণে চুক্তির বিশেষ শর্তসমূহে (Particular Conditions of Contract) উল্লিখিত সম্মত অঙ্কের অর্থপরিশোধে বাধ্য থাকে, সেই সমস্ত দায় পরিশোধের ব্যাপারে ক্রয়কারী নিম্নরূপ অনুবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, যথা:

  * (ক) বিলম্বের সময় এককের ভিত্তিতে প্রদেয় সম্মত অর্থআদায়;
  * (খ) ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদেয় অর্থআদায়; এবং
  * (গ) বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ হিসাবে অর্থপ্রদানের কারণে, ইকনোমিক অপারেটরকে চুক্তি বাস্তবায়নের দায়-দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান না করা।

* (১৫) ক্রয়কারী চুক্তিপরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার পরিবীক্ষণের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাহিদা মোতাবেক দলিলাদি, প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করিবে।

* (১৬) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর (আয়কর, ভ্যাট, শুল্ক, ইত্যাদি) সংশ্লিষ্ট কোনো আইন, বিধি, আদেশ, ইত্যাদি দ্বারা করহার পরিবর্তন করা হইলে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের অনুমোদনক্রমে চুক্তিমূল্য এমনরূপে সংশোধন (হ্রাস বা বৃদ্ধি) করিতে হইবে যেনো উক্ত আইনগত পরিবর্তনের কারণে ইকনোমিক অপারেটরের প্রাপ্য নিট অর্থের কোনো পরিবর্তন না হয়।

* (১৭) এই বিধিমালার বিধি ৫২ ও ৫৬-তে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় মূল ক্রয়চুক্তিতে সংশোধন আনিবার প্রয়োজন হইলে, যে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মূল চুক্তিসম্পাদনের অনুমোদন প্রদান করিয়াছিল, সরকারের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশের সহিত সংগতি রাখিয়া, উক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যসীমার ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ জারি করা যাইবে।

  **উদাহরণ-১**।—ধরিয়া লওয়া যাক, পণ্যসরবরাহ বিষয়ক উন্নয়ন বাজেটভুক্ত কোনো একটি ক্রয়ের মূল চুক্তিমূল্য ১২ (বারো) কোটি টাকা। আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী উক্ত ক্রয়ের অনুমোদন প্রদান করিয়াছিল ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান। এই বিধিমালায় প্রদত্ত বিধান অনুসরণে অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ প্রক্রিয়াকরণ করা হইল যাহার মূল্যমান ৮৪ (চুরাশি) লক্ষ টাকা (যাহা মূল চুক্তিমূল্যের শতকরা ৭ ভাগ)। এক্ষণে উপবিধি (১৭) অনুসরণে উক্ত অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশটি অনুমোদনের জন্য ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান এর নিকট উপস্থাপন করিতে হইবে।

  **উদাহরণ-২**।—ধরিয়া লওয়া যাক, কার্যসম্পাদন-বিষয়ক পরিচালন বাজেটভুক্ত কোনো একটি ক্রয়ের মূল চুক্তিমূল্য ৯৬ (ছিয়ানব্বই) কোটি টাকা। আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী উক্ত ক্রয়ের অনুমোদন প্রদান করিয়াছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই বিধিমালায় প্রদত্ত বিধান অনুসরণে ভেরিয়েশন প্রক্রিয়াকরণ করা হইলো যাহার মূল্যমান ৬(ছয়) কোটি টাকা (যাহা মূল চুক্তিমূল্যের শতকরা ৬.২৫ ভাগ)। স্বাভাবিকভাবে উক্ত ভেরিয়েশনটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য হলেও (চুক্তিমূল্যের শতকরা দশ ভাগের কম হওয়ায়), ভেরিয়েশনজনিত সংশোধিত চুক্তিমূল্য (১০২ কোটি) অনুমোদনের বিষয়টি আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী যেহেতু ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির এখতিয়ারে পড়ে, সেহেতু উপবিধি (১৭) অনুসরণে উক্ত ভেরিয়েশনটি অনুমোদনের সুপারিশের জন্য ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভায় উপস্থাপন করিতে হইবে।

* (১৮) উপবিধি (১৭)-তে বর্ণিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বে কিন্তু তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যসীমার মধ্যে কোনো মূলচুক্তির ব্যাপ্তি মোতাবেক কাজ জরুরিভিত্তিতে সমাপ্ত করা আবশ্যক হইলে, যে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মূল চুক্তিসম্পাদনের অনুমোদন প্রদান করিয়াছিল, উহার পরবর্তী উচ্চতর পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে, সরকারের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশের সহিত সংগতি রাখিয়া, ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ প্রদান করা যাইবে।

  উদাহরণ।—ধরিয়া লওয়া যাক, কার্যসম্পাদন-সংক্রান্ত উন্নয়ন বাজেটভুক্ত কোনো একটি ক্রয়ের মূল চুক্তিমূল্য ২২ (বাইশ) কোটি টাকা। আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী উক্ত ক্রয়ের অনুমোদন প্রদান করিয়াছিল ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান। এই বিধিমালায় প্রদত্ত বিধান অনুসরণে ভেরিয়েশন অর্ডার প্রক্রিয়াকরণ করা হইলো যাহার মূল্যমান ৫.২৫ (পাঁচ) কোটি টাকা (যাহা মূল চুক্তিমূল্যের শতকরা ২৩.৮ ভাগ)। এক্ষণে, উপবিধি (১৮) অনুসরণে উক্ত ভেরিয়েশন আদেশটি অনুমোদনের জন্য পরবর্তী উচ্চতর পর্যায় অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করিতে হইবে।

* (১৯) উপবিধি (১৭)-এ বর্ণিত বিধানের অনুসরণে যেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে ভেরিয়েশন প্রস্তাবের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয় বা সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, সেইক্ষেত্রে সংশোধিত চুক্তিমূল্য মূল চুক্তিমূল্যের অধিক না হইলে এবং ভেরিয়েশনে প্রস্তাবিত চুক্তিবহির্ভূত আইটেমসমূহের মোটমূল্য তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যসীমা অতিক্রম না করিলে উক্তরূপ ভেরিয়েশন অর্ডার, উপবিধি (১৭)-এ বর্ণিত বিধানের ব্যতিক্রম হিসাবে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান অনুমোদন করিবেন।

* (২০) ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে ভেরিয়েশন অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ভেরিয়েশন বা অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ প্রস্তাব এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সুপারিশের পাশাপাশি বিধি ১৫ অনুযায়ী গঠিত ভেরিয়েশন প্রতিপাদন কমিটি কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে প্রণীত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিম্নপর্যায়ের ভেরিয়েশন অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যসীমাবিশিষ্ট ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে ভেরিয়েশন প্রতিপাদন কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকিবে না।

* (২১) ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে উহা প্রস্তুতকরণ হইতে শুরু করিয়া অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উহা অনুমোদিত হওয়া পর্যন্ত সময়সীমা তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার অধিক হইবে না।

### বিধি ৫১। কার্যচুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা

* (১) সময়, ব্যয় ও মাননিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে অনুবর্তী ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করিবে এবং এই মর্মে নিশ্চয়তা বিধান করিবে যে, চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত সময়-সীমার মধ্যে ঠিকাদার যেন—

  * (অ) কার্যসম্পাদনের সাধারণ পদ্ধতি, ব্যবস্থা, ধারাবাহিকতা ও সময়সূচি প্রদর্শনপূর্বক প্রকল্প ব্যবস্থাপকের বরাবরে একটি কর্মসূচি দাখিল করে;
  * (আ) চুক্তির শর্তাবলিতে বর্ণিত সময়সীমা অতিক্রম না করিয়া নির্দিষ্ট সময় অন্তর ব্যবস্থাপকের বরাবরে কর্মপরিকল্পনার হালনাগাদ বিবরণী দাখিল করে; এবং
  * (ই) কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদকালে প্রকল্প ব্যবস্থাপকের বরাবরে নগদ অর্থপ্রবাহের একটি হালনাগাদ অর্থপ্রবাহের (Cash flow) পূর্বাভাস দাখিল করে।

* (২) উপবিধি (১)-এর অধীন কর্মপরিকল্পনা দাখিল না করা পর্যন্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপক পরিশোধ সংক্রান্ত সনদসমূহ (Payment certificates) হইতে চুক্তির বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থপরিশোধ স্থগিত করিতে পারিবে।

* (৩) যদি ক্ষতিপূরণের কোনো ঘটনা ঘটে বা ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করা হয়, যাহার দরুন ঠিকাদার কর্তৃক অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ ব্যতিরেকে প্রত্যাশিত কার্যসমাপ্তির তারিখের মধ্যে কার্যসমাপ্ত করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে ক্রয়কারী তফসিল-২-এ বর্ণিত শতকরা হারের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত কার্যসমাপ্তির তারিখ সম্প্রসারিত করিবে।

* (৪) প্রত্যাশিত কার্যসমাপ্তির তারিখ সম্প্রসারণ করা হইবে কি-না এবং হইলে কতদিন হইবে সেই ব্যাপারে ক্রয়কারী তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

* (৫) প্রকল্প ব্যবস্থাপক ঠিকাদার কর্তৃক সম্পাদিত কার্য পরীক্ষা করিবে এবং কার্যের মানসংক্রান্ত চুক্তির দায়বদ্ধতা হইতে ঠিকাদারকে অব্যাহতি প্রদান ব্যতিরেকে শনাক্তকৃত ত্রুটিপূর্ণ কার্যের ব্যাপারে ঠিকাদারকে অবহিত করিবে।

* (৬) প্রকল্প ব্যবস্থাপক ঠিকাদারকে কোনো ত্রুটি অনুসন্ধান বা প্রকল্প ব্যবস্থাপকের বিবেচনায় ত্রুটি রহিয়াছে এইরূপ সন্দেহযুক্ত কোনো কার্য উদঘাটন ও পরীক্ষণের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিতে পারিবে।

* (৭) চুক্তির বাস্তবায়ন সমাপ্ত হইবার পর হইতে সূচিত এবং চুক্তিতে যথাযথভাবে নির্ধারিত ত্রুটিজনিত দায়ের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হইলে প্রকল্প ব্যবস্থাপক তদবিষয়ে ঠিকাদারকে নোটিশ প্রদান করিবে এবং ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ত্রুটিজনিত দায়ের মেয়াদ সম্প্রসারিত হইবে।

* (৮) যদি প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্তৃক প্রদত্ত নোটিশের সময়সীমার মধ্যে ঠিকাদার ত্রুটি সংশোধন না করে, তাহা হইলে প্রকল্প ব্যবস্থাপক উক্ত ত্রুটি সংশোধনের ব্যয়নিরূপণ করিবে এবং ঠিকাদার উক্তরূপে নিরূপিত মূল্য পরিশোধ করিবে।

* (৯) চুক্তিতে অগ্রিম প্রদানের কোনো বিধান থাকিলে, ক্রয়কারীর নিকট গ্রহণযোগ্য ছকে ও গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিলসাপেক্ষে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, চুক্তিতে নির্ধারিত পরিমাণে এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে প্রকল্প ব্যবস্থাপক ঠিকাদারের অনুকূলে অগ্রিম অর্থপ্রদান করিতে পারিবে।

* (১০) ঠিকাদার উক্ত অগ্রিম প্রদত্ত অর্থ শুধু চুক্তিসম্পাদনের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, যন্ত্রপাতি, দ্রব্যাদি এবং আয়োজনের ব্যয় (Mobilisation) বাবদ ব্যবহার করিতে পারিবে এবং প্রদত্ত অগ্রিম যেরূপে ব্যয় হইয়াছে তাহা প্রকল্প ব্যবস্থাপকের নিকট চালান বা দলিলাদি দাখিলের মাধ্যমে প্রমাণ করিবে।

* (১১) প্রকৃত কার্যসম্পাদনের শতকরা হারের ভিত্তিতে ঠিকাদারের পাওনা হইতে আনুপাতিক হারে কর্তনকরত প্রদত্ত অগ্রিম আদায় করিতে হইবে।

* (১২) প্রদত্ত অগ্রিম পূর্ণ সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি বলবৎ থাকিবে, তবে ঠিকাদার কর্তৃক অগ্রিম সমন্বয়ের অনুপাতে উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ হ্রাস পাইতে থাকিবে এবং প্রদত্ত অগ্রিমের উপর কোনো সুদ আরোপিত হইবে না।

* (১৩) চুক্তিমূল্য নিরূপণে ব্যবহৃত কার্যের পরিমাণগত হিসাব-সংবলিত তফসিল মূল্য পরিশোধের ভিত্তি হইবে।

* (১৪) ঠিকাদার সম্পাদিত কার্যের প্রাক্কলিত মূল্য হইতে পূর্ববর্তী সনদে প্রত্যয়িত ক্রমপুঞ্জিত মূল্য বাদ দিয়া মাসিক বিবরণী প্রকল্প ব্যবস্থাপকের নিকট দাখিল করিবে।

* (১৫) প্রকল্প ব্যবস্থাপক ঠিকাদারের মাসিক বিবরণী পরীক্ষা করিবেন এবং ঠিকাদারের অনুকূলে পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ প্রত্যয়িত করিবে।

* (১৬) প্রকল্প ব্যবস্থাপক কার্যের পরিমাণগত হিসাব-সংবলিত তফসিলে উল্লিখিত দর মোতাবেক সম্পন্ন আইটেমসমূহের মূল্যনিরূপণ করিবে।

* (১৭) পরবর্তী সময়ে প্রাপ্ত কোনো তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্প ব্যবস্থাপক পূর্ববর্তী কোনো সনদে প্রত্যয়িত কোনো আইটেম বাদ দিতে বা পূর্ববর্তী কোনো সনদে প্রত্যয়িত কোনো আইটেমের অনুপাত হ্রাস করিতে পারিবে।

* (১৮) বিধি ৫২, ৫৩ ও ৫৪-এর বিধান অনুসরণক্রমে প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্তৃক ভেরিয়েশন অর্ডার প্রণয়ন করিতে হইবে।

* (১৯) সম্পাদিত কার্যের মূল্যে ভেরিয়েশন ও ক্ষতিপূরণজনিত ঘটনার (Compensation events) মূল্য অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।

* (২০) যদি কোনো আইটেমের বিপরীতে সম্পাদিত কার্যের চূড়ান্ত পরিমাণ, কার্যের পরিমাণগত হিসাব-সংবলিত বিবরণে (Bill of quantity) বর্ণিত পরিমাণ অপেক্ষা শতকরা ২৫ (পঁচিশ) ভাগের অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যবস্থাপক ভেরিয়েশন অর্ডারের প্রেক্ষাপট এবং সীমা বিবেচনাক্রমে উক্ত বিশেষ আইটেমের পরিবর্তিত পরিমাণের এককদরের সমন্বয় সাধন করিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপে পরিবর্তন প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল চুক্তিমূল্যের শতকরা ১ (এক) ভাগের অধিক হইতে হইবে।

* (২১) অগ্রিম প্রদত্ত অর্থ এবং অনুমিত রক্ষণযোগ্য অর্থ বাবদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পরিশোধযোগ্য অর্থের প্রয়োজনীয় সমন্বয় করিতে হইবে।

* (২২) ক্রয়কারী, প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্তৃক প্রত্যয়িত অর্থ, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে, পরিশোধ করিবে।

* (২৩) ভিন্নরূপ কোনো কিছু উল্লেখ না থাকিলে, সকল পরিশোধ এবং কর্তন চুক্তিমূল্যে বর্ণিত মুদ্রা বা মুদ্রাসমূহের অনুপাত অনুযায়ী হইবে।

* (২৪) কার্যের পরিমাণগত হিসাব-সংবলিত তফসিলে সংখ্যায় ব্যক্ত করা হইয়াছে এইরূপ আইটেমসমূহের মূল্য বা হার উদ্ধৃত করা না হইয়া থাকিলে, সেই সকল আইটেমের মূল্য চুক্তির অন্যান্য হার এবং মূল্যে অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

* (২৫) সম্পাদিত কার্যের মূল্য, ভেরিয়েশন মূল্যসমন্বয়, ক্ষতিপূরণজনিত ঘটনা, বোনাস বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদেয় অর্থনিরূপণে অগ্রিম প্রদত্ত অর্থ বা উহা পরিশোধের বিষয় বিবেচ্য হইবে না।

* (২৬) ক্ষতিপূরণজনিত ঘটনাসমূহের ক্ষেত্রে চুক্তির সাধারণ ও বিশেষ শর্তাদি অনুসরণ করিতে হইবে।

* (২৭) মূলচুক্তিতে প্রত্যাশিত বা সম্প্রসারিত সমাপ্তির তারিখ হইতে প্রতিদিন বিলম্বের জন্য ঠিকাদার চুক্তিতে নির্ধারিত দৈনিক বা সাপ্তাহিক হারে বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে—

  * (ক) বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদেয় জরিমানার মোট পরিমাণ চুক্তিতে নির্ধারিত পরিমাণ অপেক্ষা অধিক হইবে না; এবং
  * (খ) ক্রয়কারী কর্তৃক ঠিকাদারের পাওনা হইতে বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদেয় অর্থ কর্তন করিতে হইবে।

* (২৮) উপবিধি (২৭)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মূলচুক্তিতে উল্লিখিত প্রত্যাশিত সমাপ্তির তারিখ যুক্তিসংগত কারণে সম্প্রসারণ করা হইলে বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ আরোপযোগ্য হইবে না।

* (২৯) বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ পরিশোধ ঠিকাদারকে উহার দায়-দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিবে না।

* (৩০) প্রকল্প ব্যবস্থাপক, সংশ্লিষ্ট কার্যসমাপ্ত হইয়া থাকিলে এবং ঠিকাদারের দাবি অনুযায়ী প্রদেয় টাকার অঙ্ক সঠিক হইলে, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত পাওনা প্রত্যায়ন করিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে,

  * (ক) যদি উক্ত হিসাব সঠিক না থাকে, তাহা হইলে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজনের বর্ণনাসহ প্রকল্প ব্যবস্থাপক তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে ত্রুটিজনিত দায়ের একটি তালিকা প্রদান করিবে;
  * (খ) যদি প্রকল্প ব্যবস্থাপকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন সম্পন্ন করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে তিনি একটি ত্রুটি সংশোধন সংক্রান্ত সনদ (Defects correction certificate) প্রদান করিবে; এবং
  * (গ) পুনঃদাখিলের পরও যদি চূড়ান্ত হিসাববিবরণী অসন্তোষজনক থাকে, তাহা হইলে প্রকল্প ব্যবস্থাপক পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত একটি পরিশোধ সনদ জারি করিবে।

* (৩১) বাস্তবে যেরূপে নির্মিত হইয়াছে উহার নকশা (As-built drawing) অথবা পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ম্যানুয়াল প্রয়োজন হইলে ঠিকাদার চুক্তিপত্রে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে তাহা সরবরাহ করিবে।

* (৩২) ঠিকাদার চুক্তিপত্রে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উপবিধি (৩১)-এ উল্লিখিত নকশা বা ম্যানুয়াল সরবরাহ না করিলে, বা উহা প্রকল্প ব্যবস্থাপকের অনুমোদন প্রাপ্ত না হইলে, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ঠিকাদারের পাওনা হইতে চুক্তিতে নির্ধারিত অর্থপরিশোধ স্থগিত করিবে।

* (৩৩) প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্তৃক কার্য সমাপ্তির সনদ প্রদান করা হইবে, এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক উপবিধি (৩০) অনুসারে কার্যসমাপ্ত হইয়াছে মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হইলে উহা জারি করিবে।

* (৩৪) ক্রয়কারী, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে কার্যস্থল এবং কার্য বুঝিয়া লইবে।

* (৩৫) ত্রুটিজনিত দায়ের মেয়াদ সমাপ্ত হইবার পূর্বেই ঠিকাদার তাহার বিবেচনায় চুক্তি মোতাবেক পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করত প্রকল্প ব্যবস্থাপকের নিকট একটি বিস্তারিত হিসাব দাখিল করিবে।

### বিধি ৫২। ভেরিয়েশন অর্ডার জারি

* (১) কার্য বা ভৌতসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা, ডিজাইন অথবা বিন্যাসের পরিবর্তনের কারণে কার্য বা সেবার সংযোজন বা বিয়োজন, প্রকল্পের সাধারণ ব্যাপ্তি ও ভৌত সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সাপেক্ষে, কার্য বা সেবার নূতন আইটেম অন্তর্ভুক্তিসহ পরিমাণগত বৃদ্ধি বা হ্রাসের জন্য ক্রয়কারী মূল ঠিকাদারের মাধ্যমে কার্য বা সেবা সম্পাদনের নিমিত্ত ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করিতে পারিবে।

* (২) ক্রয়কারী, প্রকল্প এলাকার ভূ-গর্ভস্থ অথবা প্রচ্ছন্ন ভৌত অবস্থা চুক্তিতে বর্ণিত অবস্থা হইতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্নতর হইবার কারণে, অথবা সাধারণভাবে চুক্তির সংস্থান মোতাবেক প্রত্যাশিত বা স্বীকৃত নহে প্রকল্পস্থলের এইরূপ অজ্ঞাত এবং অস্বাভাবিক ধরনের ভৌত অবস্থার কারণে মূলকার্যের সমাপ্তি, উন্নতিবিধান অথবা সংরক্ষণের প্রয়োজনে মূলচুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না এইরূপ কোনো নূতন কার্যের জন্যও ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করিতে পারিবে।

### বিধি ৫৩। ভেরিয়েশন অর্ডার প্রণয়ন

* (১) বিধি ৫২-এর উপবিধি (১) ও (২) অনুযায়ী ভেরিয়েশনের উদ্ভব ঘটিতে পারে এমন কোনো অবস্থা সম্পর্কে অবগত হইবার পর ঠিকাদার বা সেবা প্রদানকারী, যথাসম্ভব দ্রুত তবে তফসিল-২ এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে, উক্ত ভেরিয়েশনের প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য ব্যয়বিবরণসহ লিখিত নোটিশ প্রদান করিবে, যাহাতে প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্তৃক বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই করা যাইতে পারে এবং এইরূপ নোটিশ দাখিলে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ঠিকাদার বা সেবাপ্রদানকারী কোনো দাবি উপস্থাপন করিতে পারিবেন না।

* (২) ভেরিয়েশন অর্ডার নিম্নবর্ণিতরূপে প্রণয়ন ও দাখিল করিতে হইবে—

  * (ক) যদি প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করেন যে, ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করা আবশ্যক, তাহা হইলে তিনি প্রস্তাবিত আদেশ প্রণয়ন করিবে এবং উক্ত আদেশে ঠিকাদার বা সেবাপ্রদানকারী কর্তৃক দাখিলকৃত নোটিশসহ প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, সম্পাদিতব্য কার্য বা সেবার যৌক্তিকতাসহ আইটেম অনুসারে অতিরিক্ত কার্য বা সেবার পরিমাণভিত্তিক হিসাব, পরিদর্শন ও অনুসন্ধানের তারিখ, লগবহি, উক্ত কার্য বা সেবার প্রতি আইটেমের প্রাক্কলিত ইউনিট মূল্যের বিবরণাদি অন্তর্ভুক্ত করিয়া ক্রয়কারীর নিকট দাখিল করিবে।
  * (খ) কার্য বা সেবার সহিত সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা, পরিমাণ এবং নূতন কার্য বা সেবাসংশ্লিষ্ট আইটেমসমূহের জন্য প্রস্তাবিত এককমূল্য পুনরীক্ষণের পর ভেরিয়েশন অর্ডার সঠিক ও সন্তোষজনক হইলে উক্ত ভেরিয়েশন অর্ডার বিধি ৫০-এর উপবিধি (১৭) ও (১৮) মোতাবেক প্রক্রিয়াকরণ করিতে হইবে।

### বিধি ৫৪। ভেরিয়েশন এর মূল্যনির্ধারণ

* (১) অতিরিক্ত আইটেমের কার্য বা সেবার জন্য নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণক্রমে ঠিকাদার বা সেবাপ্রদানকারীকে উহার মূল্যপ্রদান করিতে হইবে—

  * (ক) অতিরিক্ত কার্য বা সেবার আইটেমসমূহ মূলচুক্তির একইরূপ হইলে, উক্ত অতিরিক্ত আইটেমসমূহের মূল্যপরিশোধের ক্ষেত্রে মূলচুক্তির এককমূল্য প্রযোজ্য হইবে।
  * (খ) নূতন কার্য বা সেবার যেসকল আইটেম মূলচুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেইসকল আইটেমের এককমূল্য নির্ধারণের ভিত্তি নিম্নরূপ হইবে:
    * (অ) ঠিকাদারের বা সেবা প্রদানকারীর ব্যয় প্রাক্কলনে (Cost estimate) প্রদত্ত মূল্যবিভাজনে (Price breakdown) থাকা সাপেক্ষে, অন্যান্য আইটেমের জন্য মূলচুক্তিতে ব্যবহৃত প্রত্যক্ষ এককমূল্য (Direct unit cost), (যেমন-সিমেন্ট, রড, সেবা প্রদানে প্রয়োজনীয় উপকরণ, শ্রমদর, যন্ত্রপাতির ভাড়া, ইত্যাদির এককমূল্য); বা
    * (আ) ক্রয়কারী ও ঠিকাদার বা সেবা প্রদানকারীর উভয়ের নিকট গ্রহণযোগ্য বাজার মূল্য অনুযায়ী স্থিরমূল্য (Fixed prices);
    * (ই) উপদফা (অ) বা (আ)-এর ভিত্তিতে নূতন কার্যের আইটেমের প্রত্যক্ষ একক ব্যয়নির্ধারণের জন্য ঠিকাদার বা সেবা প্রদানকারী কর্তৃক দরপত্রে ব্যবহৃত মার্ক আপ ফ্যাক্টর (যেমন—কর, ওভারহেড ও মুনাফা) যোগ করিয়া নূতন কার্য বা সেবা আইটেমসমূহের এককদর নির্ধারণ করিতে হইবে।

* (২) কোনো অতিরিক্ত কার্য বা সেবার বিপরীতে ঠিকাদার কর্তৃক মূল্যপরিশোধের অনুরোধের সহিত দাবিকৃত পাওনার বিস্তারিত হিসাব ও পরিমাণের উল্লেখসহ অনুমোদিত ছকে একটি বিবরণ দাখিল করিতে হইবে এবং পাওনা পরিশোধের দাবি ঠিকাদারের ধারাবাহিক মূল্যপরিশোধ (Progress payment) প্রতিবেদনের সহিত অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

* (৩) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো অবস্থাতেই কোনো ঠিকাদার বা সেবাপ্রদানকারী ভেরিয়েশন অর্ডারের অধীন কোনোরূপ কার্যসম্পাদন বা সেবাসম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করিবে না।

* (৪) উপবিধি (৩)-এর ব্যতিক্রম হিসাবে, তহবিলের সংস্থান থাকা সাপেক্ষে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান কোনো ভেরিয়েশন অর্ডারের অধীন নিম্নবর্ণিত যে কোনো শর্তে অনতিবিলম্বে কার্যসম্পাদন বা সেবাসম্পাদন শুরু করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে:

  * (ক) জরুরিভিত্তিতে কার্যসম্পাদন বা সেবাসম্পাদন শুরু করা না হইলে যদি জনসেবা (Public service) বিঘ্নিত হইবার বা জীবন ও সম্পত্তি বা উভয়ের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে; বা
  * (খ) সময় যখন মুখ্য বিবেচ্য:

  তবে শর্ত থাকে যে,

  * (অ) সংশ্লিষ্ট সময় পর্যন্ত অনুমোদিত হয় নাই প্রকল্পের এইরূপ কার্য বা সেবা মূল্যের ক্রমপুঞ্জিত বৃদ্ধির পরিমাণ, তফসিল-২-এ বর্ণিত শতকরা হারের মধ্যে সীমিত থাকিবে; এবং
  * (আ) কার্য বা সেবা শুরুর অব্যবহিত পর এই ধরনের ভেরিয়েশন অর্ডার প্রণয়ন করিয়া বিধি ৪৮ অনুসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমোদনের জন্য দাখিল করিতে হইবে।

* (৫) যথাযথ অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ভেরিয়েশন অর্ডারের অধীন সন্তোষজনকভাবে সম্পাদিত কার্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাইতে পারে।

### বিধি ৫৫। পণ্যচুক্তি ব্যবস্থাপনা

* (১) প্রকল্প ব্যবস্থাপক কারিগরি বিনির্দেশের সহিত পণ্যের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করিয়া দেখিবে এবং উহার মান ও পরিমাণ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করিবে।

* (২) ক্রয়কারী, চুক্তিবদ্ধ পণ্যের প্রাক জাহাজীকরণ পরিদর্শন সম্পাদন করিবার জন্য বহিস্থ এজেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।

* (৩) প্রকল্প ব্যবস্থাপক সরবরাহসূচি (Delivery schedule) এবং শর্তাবলি প্রতিপালিত হইতেছে কি-না তাহা পরীক্ষা করিয়া দেখিবে এবং বিলম্ব নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করিবে।

* (৪) যদি ক্ষতিপূরণের কোনো ঘটনা ঘটে বা অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ জারি করা হয়, যাহার দরুন সরবরাহকারী কর্তৃক অতিরিক্ত ব্যয়নির্বাহ ব্যতিরেকে প্রত্যাশিত সরবরাহ সমাপ্তির তারিখের মধ্যে সরবরাহ সমাপ্ত করা সম্ভব না হয়, সেইক্ষেত্রে ক্রয়কারী তফসিল-২-এ বর্ণিত শতকরা হারের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত সরবরাহ সমাপ্তির তারিখ সম্প্রসারিত করিবে।

* (৫) প্রত্যাশিত সরবরাহের তারিখ সম্প্রসারণ করা হইবে কি-না এবং হইলে কত দিন হইবে ক্রয়কারী সেই বিষয়ে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

* (৬) ইকনোমিক অপারেটর কর্তৃক চুক্তি মোতাবেক পণ্য সরবরাহ করা হইলে ক্রয়কারী কর্তৃক বিধি ১৬ অনুযায়ী গঠিত কারিগরি পরীক্ষণ ও গ্রহণ কমিটি, উক্ত ক্রয়চুক্তির বিপরীতে সরবরাহকৃত পণ্যের কারিগরি মান ও পরিমাণ পরীক্ষান্তে নিরূপিত চাহিদার বিপরীতে উহার উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া পণ্য গ্রহণ (Accept) বা অপর কোনো যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করিবে।

* (৭) প্রকল্প ব্যবস্থাপক, চুক্তির শর্তাদি এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য ঋণপত্র অনুসারে, যথাসময়ে মূল্য পরিশোধ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

* (৮) প্রকল্প ব্যবস্থাপক রক্ষণাবেক্ষণ গ্যারান্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং নির্ভরপত্র মোতাবেক দায়বদ্ধতার প্রতিপালন নিশ্চিত করিবে;

* (৯) প্রকল্প ব্যবস্থাপক চুক্তির সাধারণ শর্তাবলি (General Conditions of Contract) এবং বিশেষ শর্তাবলিতে উল্লিখিত অন্যান্য শর্ত প্রতিপালনের নিশ্চয়তা বিধান করিবে।

### বিধি ৫৬। পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ

মূল সরবরাহকারীকে সমধর্মী পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহের আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালন করিতে হইবে:

* (ক) আইন ও বিধিমালায় নির্ধারিত শর্তপালন এবং বিকল্প ক্রয় পদ্ধতিসমূহের আবশ্যকতাকে কোনো উপায়ে পরিহার করিবার উদ্দেশ্যে সামগ্রিক চুক্তি বা ক্রয়াদেশকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংখ্যায় এবং মূল্যসীমায় বিভক্ত করিয়া অথবা চুক্তি বাস্তবায়নকে কৃত্রিম পর্বে অথবা সাব কন্ট্রাক্টে বিভাজনপূর্বক অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশের মাধ্যমে ক্রয় করা যাইবে না;
* (খ) পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহ আদেশ জারির ক্ষেত্রে মূলচুক্তি বহির্ভূত কোনো আইটেম ক্রয় করা যাইবে না; এবং
* (গ) সরবরাহ, সেবা বা স্থাপন সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি বর্ধিতকরণ, যদি প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে মূলচুক্তি সম্পাদিত হইয়া থাকে।

### বিধি ৫৭। বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা সংক্রান্ত চুক্তি ব্যবস্থাপনা

* (১) সেবাক্রয়ের ক্ষেত্রে সময়, ব্যয় ও মাননিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সূচনা হইতে সমাপ্তি পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইতে পারে—

  * (ক) নির্ধারিত দায়িত্বের আওতায় প্রণীত ডিজাইন, সমীক্ষা ও অন্যান্য বিষয়াদির মান পরীক্ষণ;
  * (খ) থোক মূল্যের চুক্তির ক্ষেত্রে সেবা প্রদানের অগ্রগতি এবং সময়মতো উহা সম্পাদনের বিষয় এবং সময়ভিত্তিক চুক্তির ক্ষেত্রে জনমাসের কাজের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ;
  * (গ) সকল প্রকার পরামর্শকসেবা-সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে পরামর্শকের প্রতিবেদন এবং চুক্তির পরিশিষ্টে বর্ণিত মুখ্য জনবলের প্রাপ্যতা পরিবীক্ষণ;
  * (ঘ) চুক্তির সংস্থান মোতাবেক পরামর্শকের প্রতিবেদনের উপর সময়মতো মন্তব্য এবং ফিডব্যাক প্রদান;
  * (ঙ) কর্মপরিকল্পনা এবং নির্ধারিত কাজের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের প্রতি অনুবর্তিতা;
  * (চ) চুক্তির সংস্থান মোতাবেক পরামর্শককে সময়মতো সহায়তা প্রদান;
  * (ছ) মাসিক মূল্যপরিশোধ বা প্রদত্ত সেবার বিপরীতে মূল্যপরিশোধ;
  * (জ) কাজের ব্যাপ্তির কোনোরূপ পরিবর্তন যথাযথ কি-না তাহা নির্ধারণ;
  * (ঝ) বিলম্ব, অতিরিক্ত কাজ এবং চুক্তি বর্ধিতকরণের প্রয়োজনীয়তা পরিবীক্ষণ;
  * (ঞ) ক্ষতিপূরণ (Indemnification) সংক্রান্ত বিষয়াদি; এবং
  * (ট) চুক্তির সাধারণ শর্তাবলি, চুক্তির বিশেষ শর্তাবলি এবং প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ-সংবলিত দলিলে বর্ণিত অন্যান্য শর্ত।

* (২) পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে, যৌক্তিক কারণে, চুক্তিতে উল্লিখিত কোনো মুখ্য পেশাদার ব্যক্তি (Key expert) ও অন্যান্য পেশাদার ব্যক্তি (Non-key expert) প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে যথাক্রমে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান ও ক্রয়কারীর পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ প্রতিস্থাপন কেবল সমতুল্য বা অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী দ্বারাই করিতে হইবে।

* (৩) যদি ক্ষতিপূরণের কোনো ঘটনা ঘটে বা ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করা হয়, যাহার দরুন পরামর্শক কর্তৃক অতিরিক্ত ব্যয়নির্বাহ ব্যতিরেকে প্রত্যাশিত সেবা সমাপ্তির তারিখের মধ্যে সেবাসমাপ্ত করা সম্ভব না হয়, সেইক্ষেত্রে ক্রয়কারী তফসিল-২-এ বর্ণিত শতকরা হারের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত সেবা সমাপ্তির তারিখ সম্প্রসারিত করিবে।

* (৪) প্রত্যাশিত সেবাসমাপ্তির তারিখ সম্প্রসারণ করা হইবে কি-না এবং হইলে কতদিন হইবে, ক্রয়কারী সেই বিষয়ে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

* (৫) পরামর্শক সেবাসম্পাদন চুক্তির সাধারণ ব্যাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সাপেক্ষে কার্যপরিধিতে কোনো পরিবর্তন আনয়নের প্রয়োজন হইলে চুক্তিতে নিয়োজিত জনবলের কর্মসময় পরিবর্তন বা চুক্তিভুক্ত আইটেমের বিনির্দেশ পরিবর্তন বা পরিমাণগত হ্রাস-বৃদ্ধি বা চুক্তি বহির্ভূত আইটেমের সংযোজনের কারণে ভেরিয়েশনের উদ্ভব ঘটিলে বিধি ৫২, ৫৩ ও ৫৪ মোতাবেক নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

### বিধি ৫৮। ভৌতসেবা সংক্রান্ত চুক্তিব্যবস্থাপনা

* (১) ভৌতসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে সময়, ব্যয় ও মান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সূচনা হইতে সমাপ্তি পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইতে পারে—
  * (ক) ভৌতসেবার মান ও পরিমাণ পরীক্ষণ ও উহার পদ্ধতি;
  * (খ) কর্মপরিকল্পনা এবং নির্ধারিত সেবার জন্য সময়ানুবর্তিতা;
  * (গ) সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট;
  * (ঘ) চুক্তির সংস্থান মোতাবেক সেবাপ্রদানকারীকে সহায়তা প্রদান;
  * (ঙ) সেবার মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি;
  * (চ) ভৌতসেবার ব্যাপ্তির কোনোরূপ পরিবর্তন যথাযথ কি-না তাহা নির্ধারণ;
  * (ছ) বিলম্ব, অতিরিক্ত সেবা ও চুক্তি বর্ধিতকরণের প্রয়োজন পরিবীক্ষণ;
  * (জ) ক্ষতিপূরণ (Indemnification) সংক্রান্ত বিষয়াদি; এবং
  * (ঝ) চুক্তির সাধারণ শর্তাবলি, চুক্তির বিশেষ শর্তাবলিতে বর্ণিত অন্যান্য শর্ত।

* (২) চুক্তিতে অগ্রিম প্রদানের কোনো বিধান থাকিলে, ক্রয়কারীর নিকট গ্রহণযোগ্য ছকে ও গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল সাপেক্ষে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, চুক্তিতে নির্ধারিত পরিমাণে এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ক্রয়কারী সেবাপ্রদানকারীর অনুকূলে অগ্রিম অর্থপ্রদান করিতে পারিবে।

* (৩) সেবাপ্রদানকারী উক্ত অগ্রিম প্রদত্ত অর্থ শুধু চুক্তিসম্পাদনের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, যন্ত্রপাতি, দ্রব্যাদি এবং আয়োজনের ব্যয় (Mobilisation) বাবদ ব্যবহার করিতে পারিবে, এবং প্রদত্ত অগ্রিম যেরূপে ব্যয় হইয়াছে তাহা ক্রয়কারীর নিকট সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিলের মাধ্যমে প্রমাণ করিবে।

* (৪) প্রকৃত সেবাসম্পাদনের শতকরা হারের ভিত্তিতে সেবাপ্রদানকারীর পাওনা হইতে আনুপাতিক হারে কর্তন করত প্রদত্ত অগ্রিম আদায় করিতে হইবে।

* (৫) প্রদত্ত অগ্রিম পূর্ণ সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি বলবৎ থাকিবে, তবে প্রদানকারী কর্তৃক অগ্রিম সমন্বয়ের অনুপাতে উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ হ্রাস পাইতে থাকিবে এবং প্রদত্ত অগ্রিমের উপর কোনো সুদ আরোপিত হইবে না।

* (৬) যদি ক্ষতিপূরণের কোনো ঘটনা ঘটে বা ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করা হয়, যাহার দরুন সেবাপ্রদানকারী কর্তৃক অতিরিক্ত ব্যয়নির্বাহ ব্যতিরেকে প্রত্যাশিত সেবা সমাপ্তির তারিখের মধ্যে সেবাসমাপ্ত করা সম্ভব না হয়, সেইক্ষেত্রে ক্রয়কারী তফসিল-২-এ বর্ণিত শতকরা হারের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত সেবাসমাপ্তির তারিখ সম্প্রসারিত করিবে।

* (৭) প্রত্যাশিত সেবাসমাপ্তির তারিখ সম্প্রসারণ করা হইবে কি-না এবং হইলে কতদিন হইবে ক্রয়কারী সেই বিষয়ে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

* (৮) ভৌতসেবা সম্পাদন চুক্তির সাধারণ ব্যাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সাপেক্ষে চুক্তিভুক্ত আইটেমের বিনির্দেশ পরিবর্তন বা পরিমাণগত হ্রাস-বৃদ্ধি বা চুক্তিবহির্ভূত আইটেমের সংযোজনের কারণে ভেরিয়েশনের উদ্ভব ঘটিলে বিধি ৫২, ৫৩ ও ৫৪ মোতাবেক নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

### বিধি ৫৯। চুক্তি বাতিল ও বিরোধ নিষ্পত্তি

* (১) কোনো পক্ষ কর্তৃক চুক্তির মৌলিক কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হইলে, উক্ত লঙ্ঘনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অপরপক্ষ, ক্রয়কারী বা ইকনোমিক অপারেটর, চুক্তির সাধারণ শর্তাবলি অনুসারে চুক্তি বাতিল করিতে পারিবে।

* (২) উপবিধি (১)-এ উল্লিখিত ক্ষেত্র ছাড়াও নিম্নবর্ণিত কারণে চুক্তিতে আবদ্ধ যে-কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হইবার উপক্রম হইলে চুক্তি বাতিল করিতে পারিবে:—
  * (ক) দৈব দুর্ঘটনার (Force Majeure) কারণে; এবং
  * (খ) আর্থিক অস্বচ্ছলতা (Insolvency) বা আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হইবার কারণে।

* (৩) জনস্বার্থে উপযুক্ত বলিয়া প্রতীয়মান হইলে ক্রয়কারী চুক্তির সাধারণ শর্তাবলি অনুসারে কোনো ক্রয়চুক্তি বাতিল করিতে পারিবে।

* (৪) ইকনোমিক অপারেটর ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হইলে, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে উক্ত ব্যক্তির আইনগত অস্তিত্ব বিলুপ্ত হইলে, ক্রয়কারী উক্ত চুক্তি বাতিল করিবে;

* (৫) যে-কোনো পক্ষ হইতেই চুক্তি বাতিল করা হউক না কেনো, বাতিল অবহিতকরণের পত্রে চুক্তি বাতিলের কারণ উল্লেখ করিতে হইবে।

* (৬) ক্রয়কারী কর্তৃক চুক্তির সাধারণ ও বিশেষ শর্তাবলির আওতায় চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিকট হইতে অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

* (৭) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিকট চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব গৃহীত হইলে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে বা তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমা অনুসরণে বিধি ১৭ মোতাবেক গঠিত চুক্তি বাতিল প্রস্তাব পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

* (৮) কোনো চুক্তির অবসান হইলে, উক্ত চুক্তি বাস্তবে এবং আর্থিকভাবে সমাপ্তকরণের জন্য পরবর্তী কার্যধাপসমূহ চুক্তির শর্তাদিতে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

* (৯) চুক্তি বাস্তবায়ন হইতে উদ্ভূত বিরোধ বা অন্যবিধ দাবিসমূহ চুক্তির সংস্থান অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আপস-মীমাংসা এবং সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

* (১০) উপবিধি (৯)-এর অধীন আপস-মীমাংসা এবং সালিশের রূপরেখা এবং পদ্ধতি বিপিপিএ, সাধারণ বা ক্ষেত্রমতো, বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্ধারণ করিবে।

## অংশ-৭: ক্রয়সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ

### বিধি ৬০। ক্রয়সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণের মেয়াদ, ইত্যাদি

* (১) ক্রয়কারী, আইনের ধারা ৬৭ এর অধীন বিপিপিএ-কে ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়াদির পরিবীক্ষণের দায়িত্ব পালন এবং অর্থবহ ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ এবং হিসাব নিরীক্ষণ কাজ সম্পাদনে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়ের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত সকল কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ও দলিলপত্র সংরক্ষণ করিবে।

* (২) ক্রয় পরিকল্পনা গ্রহণের শুরু হইতে চুক্তিবদ্ধ দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালিত হওয়া পর্যন্ত সময়ের ক্রয়কার্য সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করিতে হইবে।

* (৩) ক্রয়কার্য-সংক্রান্ত রেকর্ডে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র ও তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে—
  * (ক) পণ্য, কার্য, ভৌতসেবা বা বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা ক্রয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রে বিবেচ্য ক্রয় পদ্ধতি ব্যতীত অন্য ক্রয় পদ্ধতি ব্যবহারের যৌক্তিকতা;
  * (খ) আবেদনপত্র, দরপত্র, প্রস্তাব, কোটেশন বা অন্য কোনো অনুরোধ-সংবলিত আহ্বানপত্রের কপিসহ প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি;
  * (গ) সংশ্লিষ্ট চুক্তির মূল প্রাক্কলিত ব্যয়ের কপি;
  * (ঘ) দরপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন দাখিলকারী দরপত্রদাতা বা আবেদকারীগণের নাম ও ঠিকানা এবং চুক্তিমূল্যসহ চুক্তি সম্পাদনকারী দরপত্রদাতা বা পরামর্শকের নাম ও ঠিকানা;
  * (ঙ) প্রাকযোগ্যতা, দরপত্র, প্রস্তাব বা অন্য কোনো অনুরোধ-সংবলিত আহ্বানপত্রের (Solicitation documents) কপি;
  * (চ) দরপত্র বা প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ শিট;
  * (ছ) দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীগণের সহিত সকল পত্র যোগাযোগের কপি;
  * (জ) মূল্যায়নের জন্য পূর্ব ঘোষিত নির্ণায়কসমূহ ও উহার প্রয়োগ, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং গৃহীত দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাবসমূহের তুলনামূলক বিবরণীর কপি;
  * (ঝ) মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও চুক্তি দলিল অনুমোদন সম্পর্কিত কাগজপত্র;
  * (ঞ) কোনো ক্রয় কার্যক্রম শুরু করিবার পর উক্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হইয়া থাকিলে তৎসম্পর্কিত তথ্য;
  * (ট) ক্রয় কার্যক্রম সংক্রান্ত অভিযোগ ও আপিলের কাগজপত্র;
  * (ঠ) পণ্য সরবরাহ ও গ্রহণের প্রতিবেদন, কার্যসমাপ্তির প্রতিবেদন ও কার্যের পরিমাপ বহি (Measurement book) এবং সেবা প্রদান সম্পন্ন হইবার প্রতিবেদন;
  * (ড) চুক্তিতে আনীত সংশোধনীসমূহ এবং চুক্তিমূল্য, সরবরাহ বা কার্যসমাপ্তির সময়সূচি সংক্রান্ত চুক্তির শর্তাদি প্রভাবিত করে এইরূপ কোনো অতিরিক্ত কাজ বা ভেরিয়েশন অর্ডার এর কপিসমূহ; এবং
  * (ঢ) পণ্য, কার্য ও সেবা ক্রয় বাবদ মূল্যপরিশোধ সংক্রান্ত বিল ও ইনভয়েসসহ সকল রেকর্ডপত্র।

* (৪) এই বিধি মোতাবেক ক্রয়সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রসমূহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী, ক্ষেত্রমতো তফসিল-১১-এর অংশ-ক এবং অংশ-খ-এর নির্দেশনা ও চেকলিস্ট অনুসরণ করিতে হইবে।

### বিধি ৬১। ক্রয়সংক্রান্ত কার্যক্রমের রেকর্ডপত্র প্রাপ্তিসাধ্যকরণ

* (১) চুক্তিস্বাক্ষর বা চুক্তিস্বাক্ষরের পূর্বে ক্রয়কার্যক্রম বাতিলের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কোনো ক্রয় কার্যক্রম সমাপ্ত হইলে, উক্ত কার্যক্রমের রেকর্ডপত্র সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির প্রাপ্তিসাধ্য করিতে হইবে।

* (২) উপবিধি (১)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো উপযুক্ত আদালতের আদেশ ব্যতীত ক্রয়কারী নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে কোনো তথ্য প্রকাশ করিবে না, যদি উহা—
  * (ক) বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি হয়; বা
  * (খ) আইন প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে; বা
  * (গ) জনস্বার্থের পরিপন্থি হয়; বা
  * (ঘ) ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী পক্ষসমূহের আইনসংগত ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে; বা
  * (ঙ) অবাধ প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে; বা
  * (চ) প্রাপ্ত দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব মূল্যায়ন সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ ব্যতীত, উক্ত দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব পরীক্ষা ও মূল্যায়ন এবং উহার বিষয়বস্তু সংক্রান্ত হয়।

## অংশ-৮: ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ

### বিধি ৬২। ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ

* (১) নিরপেক্ষ পরামর্শক কর্তৃক নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ক্রয়কার্যের রেকর্ড পুনরীক্ষণ করিতে হইবে এবং উহার ফলাফল বিপিপিএ-কে অবহিত করিতে হইবে, যাহাতে বিপিপিএ উহার পরিবীক্ষণ সংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের প্রতিপালন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা, বিলম্ব ও উক্ত বিষয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা হিসাবে করণীয় সম্পর্কে উহার সুপারিশ সরকার ও সর্বসাধারণকে অবহিত করিতে পারে।

* (২) পরামর্শক নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি নিশ্চিত করিবে—
  * (ক) আইন ও এই বিধিমালার বিধান অনুসরণক্রমে ক্রয়কারী কর্তৃক ক্রয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত ও বাস্তবায়িত হইয়াছে কি-না; এবং
  * (খ) আইন ও এই বিধিমালার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকল্পে, অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার হইয়াছে কি-না।

### বিধি ৬৩। নিরপেক্ষ পরামর্শক কর্তৃক ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ

* (১) কোনো ক্রয়কারী কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট অর্থবৎসরে তফসিল-২-এ উল্লিখিত পরিমাণের ক্রয়সম্পাদনের লক্ষ্যে চুক্তিসম্পাদন করা হইয়া থাকিলে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান নিরপেক্ষ পরামর্শক দ্বারা উহার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রয়কারী কর্তৃক সম্পাদিত ক্রয়কার্যের (চুক্তি সম্পাদনকৃত অথবা উক্ত অর্থবৎসরে ক্রয় সম্পন্ন করা হইয়াছে এইরূপ) ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ সম্পন্ন করিবার ব্যবস্থা করিবে।

* (২) বিধি ১২৪ ও ১২৫-এর বিধান অনুসরণক্রমে যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ পরামর্শক নিয়োগ করিতে হইবে।

* (৩) কোনো অর্থবৎসরে সম্পাদিত চুক্তির মোট সংখ্যা ও মূল্যের ন্যূনতম এমন একটি সমানুপাতিক অংশ পুনরীক্ষণের আওতায় আনিতে হইবে, যাহাতে কমপক্ষে তফসিল-২-এ উল্লিখিত ন্যূনতম সংখ্যা ও মূল্যের চুক্তি পুনরীক্ষণের আওতায় আসে।

* (৪) পরামর্শক তাহার সহিত সম্পাদিত নিয়োগ চুক্তিতে বর্ণিত কর্মের পরিধি ও সীমার আওতায় স্বাধীনভাবে পুনরীক্ষণের জন্য যে-কোনো ক্রয়চুক্তি বাছাই করিতে পারিবে।

* (৫) ক্রয়কারী নিরপেক্ষ পরামর্শক নির্বাচন এবং ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে, বিপিপিএ কর্তৃক জারীকৃত ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ কার্যপ্রণালি অনুসরণ করিবে।

* (৬) ক্রয়কারী এই মর্মে নিশ্চয়তা বিধান করিবে যে, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে যেন পুনরীক্ষণ সম্পন্ন করিয়া ক্রয়কারী এবং বিপিপিএ-এর নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

* (৭) আইন ও এই বিধিমালার অধীন পরিবীক্ষণের দায়িত্ব পালনকল্পে, বিপিপিএ নিজস্ব লোকবল দ্বারা, যদি থাকে, বা নিরপেক্ষ পরামর্শক নিযুক্তির মাধ্যমে কোনো ক্রয়কারীর ক্রয় কর্মকাণ্ডের নমুনাভিত্তিক পুনরীক্ষণের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।

* (৮) ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ কাজসম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সংস্থান ক্রয়কারী এবং বিপিপিএ-এর বাজেটে রাখিতে হইবে।

* (৯) বিপিপিএ ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণের ফলাফল এবং সুপারিশ উহার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।

## অংশ-০৯: ব্যক্তির যোগ্যতা

### বিধি ৬৪। বৈষম্যহীনতাসংক্রান্ত অনুসরণীয় বিধান

* (১) সরকার কর্তৃক জারীকৃত কোনো স্থায়ী আদেশ বা স্বাক্ষরিত চুক্তিতে নিম্নবর্ণিত কোনো ক্ষেত্রে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণ সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হইলে, সেইক্ষেত্রে বৈষম্যহীনতার নীতি প্রযোজ্য হইবে না, যথা—
  * (ক) কোনো দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির অধীন সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী কর্তৃক প্রদত্ত তহবিলের অর্থ দ্বারা সম্পাদিতব্য ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের বিষয়টি শুধু বাংলাদেশ বা তহবিল প্রদানকারী রাষ্ট্রের দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীগণের মধ্যে সীমিত করা হইলে; বা
  * (খ) কোনো বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত তহবিলের অর্থ দ্বারা সম্পাদিতব্য ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের যোগ্যতা শুধু সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত দরপত্র দাতা বা আবেদনকারীগণের মধ্যে সীমিত করা হইলে; বা
  * (গ) ইতঃপূর্বে কোনো চুক্তির অধীন ত্রুটিপূর্ণ কার্যসম্পাদনের কারণে কোনো ব্যক্তিকে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত রাখা বা নিষিদ্ধ করা হইলে; বা
  * (ঘ) দুর্নীতি, প্রতারণা, চক্রান্ত, জবরদস্তি বা প্রতিবন্ধকতামূলক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকিবার কারণে কোনো ব্যক্তিকে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত রাখা বা নিষিদ্ধ করা হইলে; এবং
  * (ঙ) সরকার কর্তৃক কোনো দেশের সহিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক না রাখিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইলে, সেই দেশের উৎপাদিত পণ্য বা দরপত্রদাতাগণের ক্ষেত্রে।

* (২) ক্রয়কারী কর্তৃক সাধারণভাবে বা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দরপত্র বা প্রস্তাবে অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত রাখা হইয়াছে এইরূপ ইকনোমিক অপারেটর সংক্রান্ত তথ্য বিরত রাখার কারণ সংক্ষেপে উল্লেখপূর্বক উহার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে এবং উক্ত তথ্যাদি যুগপৎ বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য প্রেরণ করিবে।

### বিধি ৬৫। ব্যক্তির যোগ্যতা

* (১) ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে এই মর্মে প্রামাণিক তথ্য উপস্থাপন করিতে হইবে যে,
  * (ক) তাহারা আইন ও এই বিধিমালায় উল্লিখিত পেশাগত ও নৈতিকতার মানদণ্ড মানিয়া চলিতে সক্ষম; এবং
  * (খ) তাহারা যে চুক্তিসম্পাদনের উদ্দেশ্যে দরপত্র বা সেবা প্রদানের প্রস্তাব দাখিল করিয়াছে উহা বাস্তবায়ন করিতে সক্ষম।

* (২) ক্রয়ের ধরন ও আকারের ভিত্তিতে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি কর্তৃক অবশ্য পূরণীয় যোগ্যতার শর্ত দরপত্র দলিলে বিশদভাবে উল্লেখ করিতে হইবে এবং উহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা—
  * (ক) আইনগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিশ্চয়তা প্রদান করিবে যে, প্রস্তাবিত ক্রয়কার্য সম্পাদনের নিমিত্ত কোনো ক্রয়কারীর সহিত তাহার চুক্তিসম্পাদনের আইনগত অধিকার রহিয়াছে;
  * (খ) ব্যবসা পরিচালনা করার নিমিত্ত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রাপ্ত অনুমতি;
  * (গ) করপরিশোধ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনের বিষয়ে উক্ত ব্যক্তি নিশ্চয়তা প্রদান করিবে যে, তাহারা প্রচলিত আইনের অধীন করপরিশোধের শর্তাদি পূরণ করিয়াছে;
  * (ঘ) নৈতিক বিধি প্রতিপালনের ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি নিশ্চয়তা প্রদান করিবে যে, আইনের ধারা ৬৪ এবং এই বিধিমালার অধীন কোনো ক্রয়কারী কর্তৃক তাহাদের কোনো ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণ করা হইতে অযোগ্য ঘোষণা (Debarred) করা হয় নাই বা স্থগিতাদেশ (Suspension) প্রদান করা হয় নাই অথবা কোনো আদালত কর্তৃক তাহাদেরকে প্রতারণা, দুর্নীতি, ষড়যন্ত্র, জবরদস্তি বা প্রতিবন্ধকতামূলক কার্যকলাপের জন্য দণ্ডপ্রদান করা হয় নাই অথবা বাংলাদেশে কার্যক্রম চলমান রহিয়াছে এমন কোনো উন্নয়ন সহযোগী কর্তৃক তাহাদের ক্রয়সংশ্লিষ্ট কোনো কারণে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নাই;
  * (ঙ) উপদফা (ঘ)-এর অধীন বারিতকরণ, তাহাদের স্বনামে, বেনামে বা ভিন্ন কোনো নামে প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেও, যদি থাকে, প্রযোজ্য হইবে;
  * (চ) আইনের ধারা ২১(১) মোতাবেক কৃতকার্য দরপত্রদাতা বা পরামর্শকের মালিকানা বিষয়ক তথ্যাদি (Beneficial ownership) প্রকাশের বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনের লক্ষ্যে ক্রয়প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সকল ব্যক্তি উক্ত তথ্যাদি ও সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের সময় প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে;
  * (ছ) পেশাগত ও কারিগরি সক্ষমতার ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রমতো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই মর্মে প্রামাণিক তথ্যপ্রদান করিবে যে, তাহার—
    * (অ) প্রস্তাবিত কার্যসম্পাদন, পণ্যসরবরাহ বা সেবাপ্রদানের জন্য পেশাগত ও কারিগরি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা রহিয়াছে;
    * (আ) যথোপযুক্ত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ভৌত সুবিধা থাকাসহ প্রয়োজনে, কোনো চুক্তির অধীন উক্ত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ভৌত সুবিধাদি ভাড়া বা লিজের মাধ্যমে সংগ্রহের সামর্থ্য রহিয়াছে;
    * (ই) সন্তোষজনকভাবে উৎপাদন বা তৈরির সামর্থ্য রহিয়াছে;
    * (ঈ) বিক্রয় পরবর্তী সেবা প্রদানের সুবিধাদি রহিয়াছে;
    * (উ) ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রহিয়াছে;
    * (ঊ) কার্যসম্পাদন, পণ্যসরবরাহ বা সেবাপ্রদান সংক্রান্ত অনুরূপ কাজে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বা ক্রয়কারী কর্তৃক নির্ধারিত, পূর্ব অভিজ্ঞতা রহিয়াছে;
    * (ঋ) কোনোরূপ সমস্যা সৃষ্টি ব্যতিরেকে সতর্কতা ও কঠোর শ্রমের মাধ্যমে কোনো ক্রয় চুক্তির অধীন কার্যসম্পাদনের সুনাম রহিয়াছে; এবং
    * (এ) চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সংখ্যা ও দক্ষতার বিচারে উপযুক্ত লোকবল রহিয়াছে; এবং
  * (জ) আর্থিক সামর্থ্য ও অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সন্তোষজনক আর্থিক সামর্থ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি (যথা—প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যালান্স শিট, বাৎসরিক টার্ন ওভার, টেন্ডার ক্যাপাসিটি ও নগদ অর্থ সংক্রান্ত তথ্যাদি, ইত্যাদি) প্রদান করিবে এবং এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করিবে যে—
    * (অ) তিনি অসচ্ছল নন অর্থাৎ প্রস্তাবিত ক্রয়কার্য সম্পাদনের জন্য তাহার প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য আছে;
    * (আ) সংকটজনক আর্থিক অবস্থার কারণে পাওনাদারদের অনুরোধে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যপরিচালনার জন্য আদালত কর্তৃক কোনো রিসিভার বা স্বাধীন নিরীক্ষক নিয়োগ করা হয় নাই;
    * (ই) তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয় নাই বা দেউলিয়া ঘোষণার জন্য কোনো প্রক্রিয়া চালু নাই, অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা এইরূপ নহে যে, তাহার সম্পদ অপেক্ষা দায় বেশি এবং তাহার ব্যবসায়িক কার্যপরিচালনায় সক্ষম নহেন;
    * (ঈ) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আর্থিক কারণে তাহাদের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে বিরত করা হয় নাই; এবং
    * (উ) উপদফা (অ), (আ), (ই) এবং (ঈ)-তে বর্ণিত কোনো কারণে বা অন্য কোনো কারণে তাহার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বিচারাধীন নাই।

* (৩) উপবিধি (২)-এ বর্ণিত যোগ্যতার সাধারণ মানদণ্ড এবং কোনো নির্দিষ্ট ক্রয়ের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনাক্রমে ক্রয়কারী প্রাকযোগ্যতা, দরপত্র বা প্রস্তাব দলিলে কোনো ব্যক্তির আবশ্যকীয় যোগ্যতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিবে।

* (৪) লটভিত্তিক দরপত্রের ক্ষেত্রে, দরপত্রদাতাগণ কর্তৃক এক বা একাধিক লটের জন্য দরপত্র দাখিল করা হইলে, যেই লট বা লটসমূহের জন্য দরপত্র দাখিল করা হইবে, ক্রয়কারী শুধু সেই লট বা লটসমূহের জন্য দরপত্রদাতাগণের কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতা প্রমাণের শর্তারোপ করিতে পারিবে।

* (৫) কোনো সম্ভাব্য (potential) ব্যক্তি এই বিধিতে বর্ণিত যোগ্যতার শর্তপূরণ করে কি-না তাহা যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে, ক্রয়কারী উক্ত ব্যক্তিকে যোগ্যতার শর্তাদি পূরণের সমর্থনে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট হইতে দলিলপত্র ও অন্য কোনো তথ্য দাখিলের নির্দেশ দিতে পারিবে।

* (৬) এই বিধিতে যাহা কিছু থাকুক না কেন, সীমিত দরপত্র পদ্ধতির আওতায় তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যমানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির যোগ্যতা নির্ধারণে অতীতে সম্পাদিত ক্রয়কার্যের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হইবে না।

### বিধি ৬৬। ব্যক্তির যোগ্যতার সমর্থনে আবশ্যকীয় দলিলপত্র

ক্রয়কারী, দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীকে নিম্নবর্ণিত দলিলপত্র দাখিলের জন্য অনুরোধ জানাইতে পারিবে—

* (ক) ব্যবসায়িক সক্ষমতার ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সনদ, যেমন: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ট্রেড লাইসেন্স, ইত্যাদি;

* (খ) কর পরিশোধ করিবার বিষয়টি প্রমাণের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী উক্ত বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সনদপত্র এবং দরপত্রদাতা বিদেশি নাগরিক হইলে তিনি যে দেশের নাগরিক সেই দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সনদপত্র এবং উক্ত সনদপত্রে ন্যূনতম নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের উল্লেখ থাকিতে হইবে-
  * (অ) কর নিবন্ধন নম্বর বা করদাতার পরিচিতি নম্বর (Tax payer’s identification number);
  * (আ) মূল্যসংযোজন কর নিবন্ধন নম্বর;

* (গ) ক্রয়কারীর সহিত চুক্তিসম্পাদনের বিষয়ে কোনো আদালত কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা উহার কোনো কর্মচারীর উপর কোনো বাধা নিষেধ আরোপ করা হয় নাই মর্মে উহার আইনগত সক্ষমতার সমর্থনে এফিডেভিট দাখিল করিতে হইবে;

* (ঘ) পেশাগত ও কারিগরি সক্ষমতার ক্ষেত্রে—
  * (অ) বাংলাদেশ, বা দরপত্রদাতা বা আবেদনকারী যে দেশের নাগরিক সেই দেশের সংশ্লিষ্ট পেশাগত বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত হইবার কাগজপত্র, অথবা যোগ্যতার সমর্থনে শপথপূর্বক ঘোষণাপত্র, বা দরপত্র বা আবেদনকারীর মূল দেশের বা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের শর্ত মোতাবেক কোনো পেশাগত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র;
  * (আ) ব্যক্তির কারিগরি সুযোগ-সুবিধা, বিদ্যমান যন্ত্রপাতি, মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা (যেমন—আইএসও সনদপত্র) এবং ডিজাইন, গবেষণা ও উন্নয়ন সুবিধাদির বিবরণ;
  * (ই) কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পৃথক পৃথক ক্রয় প্রক্রিয়ায় পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের বিবরণ এবং তৎসহ উহাতে জড়িত অর্থের পরিমাণ, সরবরাহের তারিখ এবং সরকারি বা বেসরকারি নির্বিশেষে সরবরাহ গ্রহীতার তথ্য সংবলিত তালিকা;
  * (ঈ) ক্রয়কারী, প্রয়োজনে, যোগাযোগ করিতে পারে এইরূপ ক্রয়কারীগণের তালিকা;
  * (উ) সরবরাহের জন্য নির্ধারিত পণ্যের নমুনা, বিবরণ ও ছবি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উক্ত পণ্যের বিশুদ্ধতার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র; এবং
  * (ঊ) ব্যক্তি কর্তৃক নিযুক্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক জনবলের সংখ্যাসংবলিত বিবরণ; এবং

* (ঙ) আর্থিক সামর্থ্যের ক্ষেত্রে—
  * (অ) ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্য সম্পর্কিত যথোচিত ব্যাংক প্রতিবেদন;
  * (আ) ব্যক্তি যে দেশে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে, সেই দেশের কোম্পানি আইনের বিধান অনুসারে ব্যালেন্স শিট প্রকাশ আবশ্যক হওয়া সাপেক্ষে উক্ত ব্যক্তির ব্যালেন্সশিট বা উহার প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতাংশ;
  * (ই) ব্যক্তির বার্ষিক লেনদেন (Turnover) এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট চুক্তির সহিত সম্পর্কিত পণ্যসরবরাহ, কার্যসম্পাদন বা সেবাপ্রদান সংক্রান্ত লেনদেনের বিবরণ; এবং
  * (ঈ) Tender capacity নিরূপণের লক্ষ্যে উহার সমর্থনে প্রয়োজনীয় দলিলাদি।

### বিধি ৬৭। প্রাকযোগ্যতার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালি

* (১) কোনো ক্রয়কার্যে প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হইলে দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীকে যোগ্যতা সংক্রান্ত অবশ্যপূরণীয় সকল শর্ত সম্পর্কে অবহিত করিতে হইবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে যোগ্যতাসংক্রান্ত অবশ্যপূরণীয় শর্তাদি সুস্পষ্টভাবে প্রাকযোগ্যতার দলিলে উল্লেখ করিতে হইবে।

* (২) উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হইলে, দরপত্র দলিলে যোগ্যতাসংক্রান্ত অবশ্যপূরণীয় শর্তাদি উল্লেখ করিতে হইবে।

* (৩) ক্রয়কারী, প্রাকযোগ্যতা বা দরপত্র দলিলে বর্ণিত মানদণ্ড অনুসারে, আবেদনকারী কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যাদি বিধি ১১৩ মোতাবেক মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

* (৪) আবেদনকারী কর্তৃক ন্যূনতম যোগ্যতার শর্তপূরণ করা না হইলে, তাহাদেরকে অযোগ্য বলিয়া ঘোষণা করিতে হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে,

  * (ক) কোনো আবেদনপত্রে এক বা একাধিক শর্তপূরণে ছোটখাট ত্রুটি বা ঘাটতি থাকিলেও যদি উক্ত ত্রুটি বা ঘাটতিসমূহ দরপত্র দাখিলের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সংশোধনযোগ্য হয়, তাহা হইলে আবেদনকারীকে ‘শর্তযুক্তভাবে প্রাকযোগ্য’ হিসাবে বিবেচনা করা যাইবে; এবং
  * (খ) উক্তরূপ শর্তযুক্ত প্রাকযোগ্যতার ক্ষেত্রে আরোপিত শর্ত বা শর্তাদিপূরণ করা সাপেক্ষে উক্ত আবেদনকারী মূল দরপত্র কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে।

* (৫) নির্দিষ্ট চুক্তির অধীন কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে, আবেদনকারীর সামর্থ্য নিরূপণের জন্য ক্রয়কারী নিম্নবর্ণিত মানদণ্ড অনুসরণ করিবে—
  * (ক) একই ধরনের প্রকল্প বা কর্মসূচিতে অভিজ্ঞতা ও অতীত কর্মদক্ষতা নিরূপণের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করা যাইবে—
    * (অ) সমাপ্ত অনুরূপ প্রকল্প বা কর্মসূচির ন্যূনতম সংখ্যা;
    * (আ) অনুরূপ সমাপ্ত প্রকল্প বা কর্মসূচির, পৃথক ও যৌথভাবে, চুক্তিমূল্যের পরিমাণ;
    * (ই) আবেদনকারী যে সকল দেশে ইতঃপূর্বে কার্যসম্পাদন করিয়াছে; এবং
    * (ঈ) সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী, বা দেশে বা বিদেশের অন্যান্য ক্রয়কারীর নিকট সরবরাহকৃত প্লান্ট (Plant), সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ সক্ষমতা (Supply capacity)।
  * (খ) লোকবল, যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণ বা উৎপাদন সুবিধাদি সম্পর্কিত দক্ষতা নিরূপণার্থে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করা যাইবে—
    * (অ) আবেদনকারীর প্রতিষ্ঠানের মুখ্য (Key) লোকবলের পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা;
    * (আ) চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আবেদনকারীর হেফাজতে বা দখলে থাকা আবশ্যক বলিয়া বিবেচিত ন্যূনতম যন্ত্রপাতির ধরন ও সংখ্যা, বা চুক্তির অধীন কার্য সম্পাদনের প্রয়োজনে চুক্তির প্রত্যাশিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত যন্ত্রপাতি ভাড়ায় বা লিজে সংগ্রহ করিবার জন্য কোনো চুক্তিমূলক ব্যবস্থা (Contractual arrangement);
    * (ই) প্রস্তুতকারকের সহিত সম্পাদিত কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম উৎপাদন ক্ষমতা; এবং
    * (ঈ) আবেদনপত্র মূল্যায়নের অংশ হিসাবে ক্রয়কারী কর্তৃক যন্ত্রপাতি বা স্থাপনা পরিদর্শনের অভিপ্রায় আছে কি-না;
  * (গ) কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত বিষয়সমূহে অবশ্যপূরণীয় শর্তাদি বিধি ৬৫(২)-এ বর্ণিত শর্তাদির অনুরূপ হইবে।

* (৬) ক্রয়কারী, উহার বিশেষ প্রয়োজনে, আইনের ধারা ৪৮, ৪৯, ৫০ এবং এই বিধিতে বর্ণিত আদর্শ প্রাকযোগ্যতা মূল্যায়নের বিশেষ নির্ণায়কসমূহ এবং দলিলাদি দাখিলের আবশ্যকতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করিতে পারিবে।

* (৭) কোনো আবেদনকারীই প্রাকযোগ্যতার নির্ণায়কসমূহ পূরণ করিতে সক্ষম না হইলে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের অনুমোদনক্রমে, সকল আবেদনপত্র বাতিল করা যাইবে।

* (৮) উপবিধি (৭)-এর অধীন আবেদনপত্র বাতিল করা হইলে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে ক্রয়কারী নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করিবে—

  * (ক) প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আহ্বানপত্রে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ পুনরীক্ষণক্রমে সন্তোষজনক বলিয়া বিবেচিত হইলে, ক্রয়কারী উক্ত আহ্বানসংবলিত বিজ্ঞাপন বহুল প্রচারের উদ্দেশ্যে পুনরায় প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, এবং বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ ও জটিল ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
  * (খ) প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আহ্বানপত্রে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ সংশোধন করিবার প্রয়োজন হইলে, উক্তরূপে সংশোধিত আহ্বানপত্র ইতঃপূর্বে আবেদনপত্র দাখিলকারী সকল ব্যক্তি বা ফার্মের অনুকূলে বিতরণের ব্যবস্থা করা যাইতে পারে; বা
  * (গ) দফা (ক) ও (খ)-তে বর্ণিত উভয় কারণই সম্মিলিতভাবে গ্রহণযোগ্য আবেদনপত্র দাখিল না হইবার কারণ বলিয়া বিবেচিত হইলে, পুনঃবিজ্ঞাপন প্রদান করাসহ সংশোধিত আহ্বানপত্র পূর্ববর্তী সকল আবেদনকারীর নিকট প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে।

* (৯) কোনো আবেদনকারী কর্তৃক যোগ্যতা অর্জনের উদ্দেশ্যে দাখিলকৃত তথ্য কোনো সময় অসম্পূর্ণ বা অসত্য বলিয়া প্রমাণিত হইলে, ক্রয়কারী উক্ত আবেদনকারীকে অযোগ্য বলিয়া ঘোষণা করিবে, তবে সেইক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার কারণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করিতে হইবে।

### বিধি ৬৮। ক্রয়কারী কর্তৃক যোগ্যতাসম্পন্ন সরবরাহকারী বা ঠিকাদারদের তালিকা সংরক্ষণ

* (১) অভ্যন্তরীণ ক্রয়ে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি এবং বিধি ১০৫ মোতাবেক আন্তর্জাতিক ক্রয়ে কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো ক্রয়কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী যোগ্যতাসম্পন্ন সম্ভাব্য বা তালিকাভুক্ত দরপত্রদাতাগণের তালিকা সংরক্ষণ করিবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে, দরপত্রদাতার যোগ্যতা বৎসরভিত্তিক পুনর্বিবেচনাক্রমে হালনাগাদ করিতে হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, আন্তর্জাতিক ক্রয়ে কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতিতে বিভাজ্য পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে আবশ্যকতা বিবেচনায় উক্ত তালিকা ষান্মাসিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করিতে পারিবে।

* (২) ক্রয়কারী উপবিধি (১)-এ উল্লিখিত ক্রয়পদ্ধতিসমূহের অধীন ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে আগ্রহী সম্ভাব্য ইকনোমিক অপারেটরগণের তালিকাভুক্তির উদ্দেশ্যে তাহাদের যোগ্যতার সমর্থনে প্রয়োজনীয় দলিলাদি দাখিলের জন্য আহ্বান জানাইতে পারিবে।

* (৩) ক্রয়কারী কর্তৃক, ইকনোমিক অপারেটরগণকে তালিকাভুক্ত করিবার ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে—
  * (ক) ক্রয়কারী সরবরাহ বা কার্যের বা ভৌতসেবার ধরনের এবং উক্ত ধরনের সহিত সংশ্লিষ্ট ইকনোমিক অপারেটরগণের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে তালিকা সংরক্ষণ করিবে;
  * (খ) দফা (ক)-তে বর্ণিত তালিকা, বিধি ১৪ অনুযায়ী গঠিত তালিকাভুক্তিকরণ কমিটি কর্তৃক প্রস্তুত করিতে হইবে এবং উক্ত তালিকা ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে;
  * (গ) বার্ষিক বিজ্ঞাপনে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্যপ্রদানের জন্য সকল আগ্রহী ব্যক্তিকে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময় প্রদান করিতে হইবে; এবং
  * (ঘ) তালিকাভুক্তিকরণ ও নবায়ন ফি তফসিল-২-এ উল্লিখিত পরিমাণে নির্ধারণ করিতে হইবে।

* (৪) সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে বিধি ৮০(১)(ঘ) মোতাবেক টেকসই সামাজিক ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রয়কারী কর্তৃক অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান (Micro and small enterprise), নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (Women-owned enterprise) এবং নূতন প্রতিষ্ঠানের (New enterprise) সমন্বয়ে সামাজিক ক্রয় ক্যাটেগরি শিরোনামে পৃথক তালিকা সংরক্ষণ করিতে পারিবে।

### বিধি ৬৯। সহঠিকাদার বা সহপরামর্শক নিয়োগ

* (১) ক্রয়কারী, আদর্শ দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ-সংবলিত দলিলে উল্লিখিত যথাযথ যোগ্যতা থাকার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা সাপেক্ষে, কোনো ইকনোমিক অপারেটরকে সহঠিকাদার বা সহপরামর্শক নিয়োগের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।

* (২) সহপরামর্শক হিসাবে কোনো দরপত্র বা প্রস্তাবে উল্লিখিত কোনো প্রতিষ্ঠান (Firm) একাধিক প্রস্তাবে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে, তবে উক্ত অংশগ্রহণ শুধু সহপরামর্শক হিসাবেই করিতে হইবে।

* (৩) কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগতভাবে বা যৌথ উদ্যোগের অংশীদার হিসাবে কোনো আবেদন দাখিল করে, তাহা হইলে একই ক্রয় প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো আবেদনকারীর সহপরামর্শক হিসাবে তিনি গ্রহণযোগ্য হইবেন না।

* (৪) দরপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত সহঠিকাদারের যোগ্যতা ঠিকাদারের যোগ্যতা মূল্যায়নে শুধু তাহার (সহঠিকাদারের) জন্য নির্ধারিত কাজের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যাইতে পারে।

* (৫) সহঠিকাদারের সাধারণ অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক সম্পদ দরপত্রদাতার সাধারণ অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সম্পদের সহিত যোগ করা যাইবে না।

* (৬) সহঠিকাদার বা সহপরামর্শক নিয়োগ সত্ত্বেও, সংশ্লিষ্ট ক্রয়চুক্তির অধীন পালনযোগ্য দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে সরবরাহকারী, ঠিকাদার ও পরামর্শকের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং উক্ত দায়দায়িত্ব সহঠিকাদার বা সহপরামর্শকের নিকট হস্তান্তর করা যাইবে না, বা কোনো অবস্থাতেই চুক্তিবদ্ধ দায়-দায়িত্ব সহঠিকাদার বা সহপরামর্শকের নিকট অর্পণের অনুমতি প্রদান করা যাইবে না।

* (৭) মুখ্য সরবরাহকারী বা ঠিকাদার বা পরামর্শক তাহার সহঠিকাদার বা সহ-পরামর্শকগণের ব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী থাকিবে, এবং সাব কন্ট্রাক্টসমূহের ব্যাপারে ক্রয়কারীর পর্যালোচনা সাধারণত মুখ্য সরবরাহকারী বা ঠিকাদার বা পরামর্শক কর্তৃক সাব কন্ট্রাক্টসমূহের ব্যবস্থাপনাগত মূল্যায়নের মধ্যেই সীমিত থাকিবে।

## অংশ-১০: যৌথ উদ্যোগ (JVCA)

### বিধি ৭০। যৌথ উদ্যোগ

* (১) ক্রয়কারী, এককভাবে বা যৌথ উদ্যোগ গঠনের মাধ্যমে, কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে কার্য, ভৌতসেবা, এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবা ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করিতে পারিবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, শুধু যৌথ উদ্যোগ গঠনের ইচ্ছা ব্যক্তকরণই যৌথ উদ্যোগের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হইবে না।

* (২) যৌথ উদ্যোগ সংক্রান্ত চুক্তি তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যের ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এবং তফসিল ১২-এ বর্ণিত ছক অনুসরণে সম্পাদন করিতে হইবে এবং উক্ত চুক্তির পক্ষভুক্ত সকল ব্যক্তি বা আইনসম্মতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

* (৩) উপবিধি (২)-এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে, দরপত্র বা প্রস্তাব কৃতকার্য হইলে যৌথ উদ্যোগ চুক্তিসম্পাদন করা হইবে মর্মে সকল অংশীদার কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি লেটার অফ ইনটেন্ট প্রস্তাবিত চুক্তিপত্রসহ দরপত্র বা প্রস্তাবের সহিত দাখিল করিতে হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত লেটার অব ইনটেন্ট যৌথ উদ্যোগের সকল অংশীদার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং নোটারি পাবলিক কর্তৃক প্রমাণীকৃত হইতে হইবে।

* (৪) যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে, উহার প্রত্যেক অংশীদার চুক্তির অধীন সকল দায় এবং নৈতিক বা আইনগত বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে দায়ী থাকিবে।

* (৫) ক্রয় প্রক্রিয়া চলাকালে এবং চুক্তিসম্পাদন করা হইলে চুক্তি বাস্তবায়নকালে, উপবিধি (২) ও (৩)-এর অধীন গঠিত যৌথ উদ্যোগের কোনো অংশীদার বা অংশীদারগণের পক্ষে সকল কর্ম সম্পাদন এবং সকল পাওনা গ্রহণের জন্য ক্ষমতা অর্পণপূর্বক যৌথ উদ্যোগ কর্তৃক একজন প্রতিনিধি মনোনীত করিতে হইবে।

* (৬) যৌথ উদ্যোগের মুখ্য অংশীদার এবং অন্যান্য অংশীদারগণের ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত প্রাকযোগ্যতা, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ-সংবলিত দলিলে উল্লেখ করা যাইতে পারে।

* (৭) উদ্ভূত কোনো বিরোধের কারণে কোনো যৌথ উদ্যোগের অংশীদারদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা হইলে, যৌথ উদ্যোগের সকল অংশীদারের বিরুদ্ধে, প্রাপ্তিসাধ্য হওয়া সাপেক্ষে, উক্ত আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা হইবে এবং শুধু একজন অংশীদার পাওয়া গেলে, উক্ত অংশীদার সকল অংশীদারের পক্ষে জবাব প্রদান করিবে এবং দায়েরকৃত অভিযোগ প্রমাণিত হইলে, সকল অংশীদারকে যে দণ্ড প্রদেয় হইত, উহা তাহার উপর এককভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, আইনগত কার্যধারা সমাপ্ত হইবার পূর্বে যদি অন্যান্য অংশীদারদের পাওয়া যায়, তাহা হইলে উক্ত অংশীদারদের বিরুদ্ধেও ক্রয়কারী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

* (৮) উপবিধি (৬) এবং (৭)-এর শর্তাদি পূরণসাপেক্ষে, দেশীয় ও বৈদেশিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ে গঠিত কোনো যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকগণের অংশ ৫০% (শতকরা পঞ্চাশ ভাগ) বা তাহার ঊর্ধ্বে হইলে গঠিত যৌথ উদ্যোগকে স্থানীয় অগ্রাধিকার (Domestic preference) প্রদান করা যাইবে।

* (৯) কোনো নির্দিষ্ট ক্রয় কার্যের জন্য গঠিত যৌথ উদ্যোগ, একবার গঠিত হইলে চুক্তিসম্পাদনের পূর্বে উহাতে কোনো পরিবর্তন আনয়ন করা যাইবে না, তবে চুক্তিসম্পাদন পরবর্তী সময়ে উপবিধি (১০)-এ বর্ণিত বিশেষ পরিস্থিতিতে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক কোনো পরিবর্তন সাধন করা যাইবে।

* (১০) কোনো নির্দিষ্ট ক্রয়কার্যের জন্য গঠিত যৌথ উদ্যোগের কোনো অংশীদার অযোগ্য বলিয়া প্রতিভাত হইলে বা সামগ্রিক কার্যসম্পাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলিতে পারে এইরূপ গুরুতর কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হইলে, শুধু সেইক্ষেত্রে মুখ্য অংশীদার ব্যতিরেকে অপর কোনো অংশীদার পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া যাইবে, তবে নূতন অংশীদারকে বিদায়ি অংশীদার অপেক্ষা উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন হইতে হইবে।

* (১১) যৌথ উদ্যোগের কোনো অংশীদার আইনের ধারা ৬৪ মোতাবেক দুর্নীতি, প্রতারণা, চক্রান্ত, জবরদস্তি, বা প্রতিবন্ধকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের অযোগ্য (Debarred) বলিয়া ঘোষিত হইয়া থাকিলে, উক্ত যৌথ উদ্যোগ কোনো ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে না এবং অনুরূপভাবে কোনো যৌথ উদ্যোগ উক্ত ধারা মোতাবেক ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলিয়া ঘোষিত হইয়া থাকিলে, উক্ত ঘোষণা যৌথ উদ্যোগের প্রত্যেক অংশীদারের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হইবে।

* (১২) যেক্ষেত্রে বিশেষ কোনো অংশের (Component) জন্য মনোনীত যৌথ উদ্যোগের কোনো অংশীদার উক্ত অংশের জন্য আবশ্যক ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত পূরণে সক্ষম, সেইক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের জন্য আবশ্যকীয় সর্বমোট যোগ্যতা নিরূপণের ক্ষেত্রে উক্ত অংশীদারের অতীত অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য সামর্থ্য অন্যান্য অংশীদারের যোগ্যতার সহিত যোগ করিতে হইবে।

* (১৩) নিম্নের উদাহরণসমূহের অনুরূপ ক্ষেত্রসমূহে, যৌথ উদ্যোগের অংশীদারদের বা তাহাদের মুখ্য জনবলের (Key staff) নির্দিষ্ট কারিগরি অভিজ্ঞতা ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে যোগ করা যাইবে না।

  উদাহরণ।—(১) কোনো ক্রয় দলিলে প্রকল্প ব্যবস্থাপকের যোগ্যতার শর্তে অনুরূপ ধরনের ও পরিমাণের কাজে ৫ (পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতার শর্ত থাকিলে, উক্ত ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের কোনো একজন অংশীদারের প্রকল্প ব্যবস্থাপকের ৩ (তিন) বৎসর এবং অপর আরেক অংশীদারের প্রকল্প ব্যবস্থাপকের ২ (দুই) বৎসরের অভিজ্ঞতা যোগ করিয়া মোট ৫ (পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হইয়াছে বলিয়া নিরূপণ করা যাইবে না।

  উদাহরণ।—(২) কোনো ক্রয় দলিলে দরপত্রদাতার কমপক্ষে ১০০ (একশত) মিটার স্প্যানের আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের অতীত অভিজ্ঞতার শর্ত থাকিলে, যৌথ উদ্যোগের অংশীদারগণের অনুরূপ ব্রিজ নির্মাণের পৃথক পৃথক অভিজ্ঞতা একত্রে গণনা করিয়া (যেমন-৫০মি.+৩০মি.+২০মি.=১০০মি.) উক্ত নির্ণায়ক বা শর্ত পূরণ হইয়াছে বলিয়া নিরূপণ করা যাইবে না।

  উদাহরণ।—(৩) কোনো ক্রয় দলিলে যৌথ উদ্যোগের যোগ্যতার শর্তে কোনো নির্দিষ্ট ধরনের নির্মাণ কাজে দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলকারী প্রতিষ্ঠানের ৫(পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতা অবশ্যই থাকিতে হইবে মর্মে শর্ত থাকিলে, উক্ত ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের কোনো একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ৩(তিন) বৎসর এবং অপর আরেক অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ২(দুই) বৎসরের অভিজ্ঞতা যোগ করিয়া মোট ৫(পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতার শর্ত যৌথ উদ্যোগের দ্বারা পূরণ হইয়াছে বলিয়া নিরূপণ করা যাইবে না।

* (১৪) কার্যসম্পাদন জামানত, বিমা, ক্ষতিবহন প্রতিশ্রুতি (Indemnity), ঠিকাদার ও সহঠিকাদার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়াদি আইনসম্মতভাবে গঠিত যৌথ উদ্যোগের পক্ষে প্রদান বা সম্পাদন করিতে হইবে।

## অংশ-১১: স্বার্থের সংঘাত

### বিধি ৭১। স্বার্থের সংঘাত

* (১) বিদ্যমান বা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত যাহা ক্রয়কারীকে সর্বোত্তম সেবা প্রদানে বিঘ্ন সৃষ্টি করিতে পারে বা সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে উহা বিরূপ প্রভাব ফেলিবে বলিয়া যুক্তিসংগতভাবে ধারণা করা যায়, উক্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ক্রয়কারীকে অবহিতকরণ আবেদনকারীর দায়িত্ব বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা অবহিতকরণে ব্যর্থতার কারণে তফসিল-১৩-তে বর্ণিত সারণি (Consultants’ conflicts of interest: Range of possible cases)-তে বর্ণিত পরিস্থিতিতে উক্ত পরামর্শক অযোগ্য ঘোষিত বা উহার চুক্তি বাতিল হইতে পারে।

* (২) কোনো পরামর্শক এবং উহার সহিত সম্বন্ধযুক্ত বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাগত পরামর্শ প্রদান এবং সর্বদা ক্রয়কারীর স্বার্থ সমুন্নত রাখার শর্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকিয়া অন্য কোনো কার্যসম্পাদন বা উহার স্বীয় যৌথ স্বার্থের সহিত সংঘাত সৃষ্টি হইতে পারে এইরূপ কার্যকলাপ হইতে বিরত থাকিবে এবং ভবিষ্যতে কোনো দায়িত্ব প্রাপ্তির প্রত্যাশায় কার্যসম্পাদন করিবে না।

* (৩) কোনো ক্রয়কারী কর্তৃক ইতঃপূর্বে কোনো প্রকল্পে পণ্যসরবরাহ, কার্যসম্পাদন, বা ভৌতসেবা প্রদানের জন্য যদি কোনো ব্যক্তি নিয়োজিত হইয়া থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা উহার সহিত সম্বন্ধযুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান পরবর্তীকালে উক্ত পণ্য, কার্য বা সেবার ক্ষেত্রে পরামর্শক সেবা প্রদানের অযোগ্য বিবেচিত হইবে।

* (৪) কোনো প্রকল্প প্রণয়ন বা বাস্তবায়নের জন্য কোনো ব্যক্তিকে পরামর্শক সেবা প্রদানের জন্য নিয়োজিত করা হইয়া থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি বা উহার সহিত সম্বন্ধযুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান পূর্বে প্রদত্ত পরামর্শক সেবা হইতে উদ্ভূত বা সরাসরি সম্পর্কযুক্ত পণ্য সরবরাহ, পরামর্শক সেবা, ভৌতসেবা বা কার্যসম্পাদনের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হইবে।

* (৫) কোনো পরামর্শক, উহার লোকবল ও সহপরামর্শকবৃন্দসহ, বা উহার সহিত সম্বন্ধযুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত করা যাইবে না, যদি উক্ত পরামর্শক কর্তৃক একই ক্রয়কারী বা অন্য কোনো ক্রয়কারীর জন্য একই ধরনের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংঘাতের সৃষ্টি করে।

* (৬) ক্রয়কার্যে জড়িত ক্রয়কারীর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সহিত কোনো পরামর্শক এবং উহার সহপরামর্শক ও কর্মীবৃন্দের কাহারও কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকিলে উহার সহিত চুক্তিসম্পাদন করা যাইবে না, যদি না পরামর্শক নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালে উক্ত সম্পর্কজনিত সংঘাতের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হইয়া থাকে।

* (৭) ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণ করিতেছে বা করিয়াছে এইরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সহিত সংশ্লিষ্ট ক্রয়কার্যে জড়িত ক্রয়কারীর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো স্বার্থের সংশ্লিষ্টতা থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহিত উহার সম্পর্কের বিষয়ে একটি ঘোষণা প্রদান করিবে এবং উক্ত ক্রয়কার্যের বিনির্দেশ এবং যোগ্যতার নির্ণায়কসমূহ প্রস্তুতকরণ হইতে আরম্ভ করিয়া সংশ্লিষ্ট পণ্যসরবরাহ বা কার্যসম্পাদন বা সেবাসম্পাদন এবং ক্রয়সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা পরিপূর্ণভাবে পালিত না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়ের কোনো পর্যায়ে উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না।

## অংশ-১২: অভিযোগ ও আপিল

### বিধি ৭২। অভিযোগ করিবার অধিকার

নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে বা পরিস্থিতিতে কোনো ক্রয়কারীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা যাইবে, যথা—

* (ক) প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে—
  * (১) বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হইবার তারিখে প্রাকযোগ্যতার দলিল প্রস্তুত করা না থাকিলে বা সম্ভাব্য আবেদনকারীর অনুরোধে উহা প্রাপ্তিসাধ্য না করা গেলে; বা
  * (২) সম্ভাব্য আবেদনকারীর স্পষ্টীকরণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে যথাসময়ে তৎসম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান না করা হইলে; বা
  * (৩) প্রাকযোগ্যতার দলিলে উল্লিখিত নির্ণায়কের আলোকে মূল্যায়ন কমিটি যোগ্যতা মূল্যায়ন করিতে ব্যর্থ হইলে; বা
  * (৪) প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণে অন্যায়ভাবে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হইয়াছে মর্মে ধারণা করিবার সংগত কারণ থাকিলে; বা
  * (৫) দুর্নীতি বা চক্রান্তমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে সন্দেহ হইলে।

* (খ) উন্মুক্ত, সীমিত, সরাসরি, দুই পর্যায়, এক পর্যায় দুই খাম, কোটেশন বা বিপরীত নিলাম পদ্ধতির ক্ষেত্রে—
  * (১) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, বিধি ১১০ অনুসরণক্রমে বিজ্ঞাপন প্রদান করা না হইয়া থাকিলে; বা
  * (২) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হইবার তারিখে দরপত্র দলিল প্রস্তুত না হইয়া থাকিলে বা সম্ভাব্য দরপত্রদাতা বা কোটেশনদাতার অনুরোধে উহা প্রাপ্তিসাধ্য করা না গেলে; বা
  * (৩) সম্ভাব্য দরপত্রদাতার অনুরোধে যথাসময়ে ব্যাখ্যা প্রদান না করা হইলে; বা
  * (৪) কেবল একটি বা স্বল্পসংখ্যক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পূরণ করা সম্ভব, এইরূপ কারিগরি বিনির্দেশ প্রস্তুত করা হইলে; বা
  * (৫) প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের শর্ত মোতাবেক, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রাকদরপত্র সভা অনুষ্ঠান করিতে ব্যর্থ হইলে বা উক্ত সভার জন্য পূর্ব নির্ধারিত তারিখ, স্থান ও সময় পরিবর্তিত হইলে যথাসময়ে উহা সম্ভাব্য দরপত্রদাতাগণকে অবহিত না করিবার কারণে সম্ভাব্য কতিপয় দরপত্রদাতা সভায় যোগদান করিতে সক্ষম না হইলে; বা
  * (৬) দরপত্র আহ্বানের বিজ্ঞাপনে প্রদত্ত বিবৃতি মোতাবেক দরপত্র উন্মুক্ত করিতে ব্যর্থ হইলে বা দরপত্র উন্মুক্তকরণের সময় অসংগত আচরণ করা হইলে; বা
  * (৭) বিশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার ফলে এক বা একাধিক দরপত্র নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই উন্মুক্তক্রমে উহার গোপনীয়তা ফাঁস করিয়া দেওয়া বা প্রকাশ্য সভায় দরপত্র উন্মুক্তকরণে ব্যর্থ হইলে; বা
  * (৮) দরপত্র দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রাপ্ত সকল দরপত্র উন্মুক্তকরণ করা না হইলে; বা
  * (৯) মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র দলিলে উল্লিখিত নির্ণায়ককের আলোকে দরপত্র মূল্যায়ন করিতে ব্যর্থ হইলে; বা
  * (১০) ক্রয়কারী কর্তৃক কৃতকার্য দরপত্রদাতার সহিত নেগোসিয়েশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হইলে; বা
  * (১১) দুর্নীতি বা চক্রান্তমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে সন্দেহ হইলে; বা
  * (১২) দুই পর্যায়বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে, প্রথম পর্যায়ে দরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট হইতে ব্যাখ্যা গ্রহণের সময় গোপনীয়তা রক্ষার শর্ত লঙ্ঘন করা হইলে।

* (গ) প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ জ্ঞাপনের ক্ষেত্রে—
  * (১) কারিগরি প্রস্তাবের খাম উন্মুক্তকরণের পর ক্রয়কারী উহার গোপনীয়তা রক্ষা করিতে ব্যর্থ হইলে; বা
  * (২) কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্তকরণের সময় আর্থিক প্রস্তাব খোলা হইলে; বা
  * (৩) প্রস্তাব দলিলে উল্লিখিত নির্ণায়কের ভিত্তিতে প্রস্তাব মূল্যায়ন করিতে ব্যর্থ হইলে; বা
  * (৪) মূল্য যেখানে মূল্যায়নের একটি নিয়ামক (Factor), সেইক্ষেত্রে নেগোসিয়েশনের সময় আবেদনকারীকে তৎপ্রস্তাবিত ফিসের হার পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হইলে; বা
  * (৫) দুর্নীতি বা চক্রান্তমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে সন্দেহ হইলে।

### বিধি ৭৩। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের, নিষ্পত্তি, ইত্যাদি

* (১) কোনো ব্যক্তিকে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে লিখিতভাবে তাহার অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে।

* (২) ক্রয়কারী কার্যালয়ের যে কর্মকর্তা কর্তৃক দরপত্র বা প্রস্তাব দলিল জারি করা হইয়াছে প্রথমত, সেই কর্মকর্তার নিকট (যেমন—প্রকল্প পরিচালক, লাইন ডাইরেক্টর, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, ক্রয় কর্মকর্তা, ক্রয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করিবে।

* (৩) উপবিধি (২)-এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়বস্তু বিবেচনাক্রমে উহা বাতিল বা কোনো সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে কি-না তদবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

* (৪) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে, অভিযোগ বাতিলের কারণ বা উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কী কী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা (যেমন- দরপত্র বা প্রস্তাব দলিলের অগ্রহণযোগ্য শর্তের সংশোধনী আদেশ জারি) গ্রহণ করা হইয়াছে বা হইবে তদবিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবহিত করিবে।

* (৫) কোনো ব্যক্তি উপবিধি (৪)-এর অধীন ক্রয়কারী কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হইলে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিকট লিখিতভাবে পুনরায় একই অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে।

* (৬) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উপবিধি (৫)-এর অধীন ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিকট অভিযোগ দাখিল করা হইলে—
  * (ক) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান যদি মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারপারসন বা সদস্য হন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অভিযোগ প্রাপ্তির পর তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে, উহা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবের নিকট প্রেরণপূর্বক তৎসম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীকে অবহিত করিবে; বা
  * (খ) উক্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টি তাহার আওতাভুক্ত হইলে, তিনি অভিযোগের বিষয়বস্তু বিবেচনাক্রমে উহা বাতিল বা কোনো সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে কি-না তদবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন এবং তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে কারণ উল্লেখপূর্বক অভিযোগ বাতিল বা গৃহীত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে তাহার সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবহিত করিবে।

* (৭) কোনো ব্যক্তি ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হইলে, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবের নিকট উহার অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে।

* (৮) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে, উপবিধি (৬) অথবা (৭)-এর অধীন দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয়বস্তু বিবেচনাক্রমে উহা বাতিল বা কোনো সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে কি-না তদবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং কারণ উল্লেখপূর্বক অভিযোগ বাতিল বা কী কী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে তদবিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে অবহিতক্রমে উক্ত সিদ্ধান্তের কপি সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী ও বিপিপিএকে প্রদান করিবে।

* (৯) কোনো ব্যক্তি প্রত্যেকটি স্তরের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত প্রাপ্ত না হইলে, উক্ত ব্যক্তি তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সরাসরি উক্ত কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে।

* (১০) ক্রয়কারী এবং অন্যান্য স্তরের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ রেজিস্টার খুলিয়া উহাতে অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করিবে।

* (১১) কোনো ব্যক্তি যদি সচিব কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি রিভিউ প্যানেলের নিকট আপিল করিতে পারিবে।

* (১২) এই বিধির অধীন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়েরের সকল বিধান নিঃশেষ করিবার পরই কেবল কোনো ব্যক্তি রিভিউ প্যানেলের নিকট আপিল করিতে পারিবে।

* (১৩) কোনো ব্যক্তি, উপবিধি (৮)-এর অধীন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির পর, বা তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত প্রাপ্ত না হইলে রিভিউ প্যানেলের সভাপতিকে সম্বোধন করিয়া ‘গোপনীয়’ বলিয়া চিহ্নিত একটি সিলগালা করা খামে বিপিপিএ-এর ঠিকানায় নিম্নবর্ণিতভাবে অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন—
  * (ক) অভিযোগ এবং উহার সমর্থনে দলিলাদি একটি সিলগালা করা খামে দায়ের করিবে, যাহা কেবল রিভিউ প্যানেলের সভাপতি কর্তৃক খোলা হইবে;
  * (খ) দফা (ক)-তে বর্ণিত সিলগালা করা ‘গোপনীয়’ খাম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিপিপিএ-কে সম্বোধনক্রমে একটি অগ্রায়নপত্রে রিভিউ প্যানেলের নিকট আপিল করিবার ইচ্ছা ব্যক্ত করিয়া এবং অভিযোগের ধরন উল্লেখপূর্বক প্রেরণ করিবে; এবং
  * (গ) দফা (খ)-তে বর্ণিত অগ্রায়নপত্রের সহিত তফসিল-২-এ বর্ণিত অঙ্কের নিবন্ধন ফি এবং ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিপিপিএ-এর অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট আকারে সংযোজন করিবে।

* (১৪) ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি করা হইয়াছে বা চুক্তিসম্পাদন করা হইয়াছে এইরূপ কোনো ক্রয়প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কোনো পর্যায়েই অভিযোগ দায়ের করা যাইবে না, তবে ত্রুটিপূর্ণ বা বিধি বহির্ভূতভাবে চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি বা চুক্তিসম্পাদন করা হইয়াছে বলিয়া ধারণা করিবার সংগত কারণ থাকিলে ক্রয়কারীর গৃহীত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রিভিউ প্যানেলের নিকট সরাসরি আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করা যাইবে।

### বিধি ৭৪। রিভিউ প্যানেল গঠন

* (১) বিপিপিএ দায়েরকৃত কোনো আপিল পর্যালোচনা এবং তৎসম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য উপবিধি (২)-এ উল্লিখিত বিশেষজ্ঞগণের সমন্বয়ে রিভিউ প্যানেল গঠন করিবে।

* (২) আইনের ধারা ৩০ অনুসারে, রিভিউ প্যানেল গঠন করিবার উদ্দেশ্যে বিপিপিএ, তফসিল-২ অনুযায়ী এবং নিম্নবর্ণিতভাবে সুবিদিত বিশেষজ্ঞগণের একটি তালিকা প্রস্তুত করিবে—
  * (ক) নিম্নবর্ণিত ৩ (তিন) শ্রেণির প্রতিটি হইতে ১ (এক) জন করিয়া সদস্য সমন্বয়ে রিভিউ প্যানেল গঠন করিতে হইবে:
    * (অ) ক্রয়সংক্রান্ত আইনগত বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সুখ্যাত বিশেষজ্ঞগণ, যাহাদের মধ্যে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বা কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্মকর্তাগণ অন্তর্ভুক্ত হইতে পারে;
    * (আ) কারিগরি বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন এবং ক্রয়কার্যে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সুখ্যাত বিশেষজ্ঞগণ; এবং
    * (ই) ক্রয়কার্য ও চুক্তি ব্যবস্থাপনার রীতিনীতি এবং অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সুখ্যাত বিশেষজ্ঞগণ, যাহারা ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক মনোনীত হইতে পারে:

      তবে শর্ত থাকে যে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা রিভিউ প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হইতে পারিবে না।

  * (খ) তফসিল-২ অনুসারে বিশেষজ্ঞগণকে কতিপয় রিভিউ প্যানেলে শ্রেণিভুক্ত করিতে হইবে;

  * (গ) রিভিউ প্যানেল কমপক্ষে ৩(তিন) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং তাহাদের মধ্যে একজন সভাপতি হিসাবে মনোনীত হইবে;

  * (ঘ) বিপিপিএ, উহার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর পূর্বানুমোদনক্রমে যথোপযুক্ত শর্তে রিভিউ প্যানেলের সদস্য ও সভাপতি মনোনীত করিবে;

  * (ঙ) রিভিউ প্যানেল, অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায়, বিপিপিএ কর্তৃক সংরক্ষিত তালিকা হইতে সর্বোচ্চ ২ (দুই) জন সদস্য কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে কো-অপট করিবার জন্য বিপিপিএ-কে অনুরোধ জানাইতে পারিবে।

* (৩) রিভিউ প্যানেল ও বিশেষজ্ঞগণের তালিকা বিপিপিএ সংরক্ষণ করিবে এবং উহা আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রাপ্তিসাধ্য করিবে।

* (৪) রিভিউ প্যানেলের প্রত্যেক সদস্যকে তফসিল-২-এ বর্ণিত আকারে উৎসাহ ভাতা বা সম্মানি প্রদানের সংস্থান রাখিতে হইবে।

* (৫) বিপিপিএ, রিভিউ প্যানেলের কার্যক্রম পরিচালনায় অনুসরণীয় একটি বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি জারি করিবে।

* (৬) বিপিপিএ কোনো অবস্থাতেই কোনো অভিযোগ বা আপিল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হইতে পারিবে না, তবে রিভিউ প্যানেলের দায়িত্ব ও কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা প্রদান করিবে।

### বিধি ৭৫। রিভিউ প্যানেল ভাঙিয়া দেওয়া বা সদস্য অপসারণ, পুনর্গঠন, ইত্যাদি

* (১) সরকার, জনস্বার্থে, যে-কোনো সময়ে বিধি ৭৪ অনুযায়ী গঠিত যে-কোনো বা সকল রিভিউ প্যানেল, কারণ উল্লেখপূর্বক, ভাঙিয়া দিতে পারিবে।

* (২) রিভিউ প্যানেল গঠিত হইবার পর, সরকার নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে এক বা একাধিক সদস্যকে উক্ত কমিটি হইতে, অপসারণ করিতে পারিবে—
  * (ক) স্বার্থের সংঘাত ঘটিলে; বা
  * (খ) যদি আইনের ধারা ৬৪-এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া থাকে; বা
  * (গ) কোনো সদস্যের শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বা মৃত্যুর কারণে।

* (৩) উপবিধি (২)-এর অধীন রিভিউ প্যানেলের কোনো সদস্য অপসারণ করা হইলে বিধি ৭৪ অনুসারে সদস্য প্রতিস্থাপন করিতে হইবে।

### বিধি ৭৬। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি করা হইতে বিরত থাকিবার জন্য নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা

* (১) বিপিপিএ, বিধি ৭৩(১৩)(গ) এর বিপরীতে তফসিল-২-এ বর্ণিত নির্ধারিত নিবন্ধন ফি এবং নিরাপত্তা জামানতসহ কোনো আপিল আবেদন প্রাপ্তির পর, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে, পালাক্রমে একটি রিভিউ প্যানেল নির্বাচন করিয়া উহার নিকট উক্ত আপিল আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করিবে এবং উক্ত বিষয়ে রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত রিভিউ প্যানেলের বিবেচনাধীন কোনো ক্রয়কার্য বিষয়ে চুক্তিসম্পাদন করা হইতে বিরত থাকার জন্য ক্রয়কারীকে নির্দেশ প্রদান করিয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব ও আবেদনকারীকে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে পত্র মারফত অবহিত করিবে।

* (২) ক্রয়কারী বা রিভিউ প্যানেলের নিকট কোনো অভিযোগ বা আপিল বিবেচনাধীন থাকিলে উক্ত অভিযোগ বা আপিলের উপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি করা যাইবে না, তবে অভিযোগ বিবেচনাধীন থাকাকালীন দরপত্র মূল্যায়ন ও উহার অনুমোদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা যাইবে।

* (৩) উপবিধি (১)-এর অধীন চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারি করা হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশনা প্রদানের বিষয়টি প্রযোজ্য হইবে না যদি ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান, সংশ্লিষ্ট সচিব বা মন্ত্রীর অনুমোদন গ্রহণপূর্বক এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করে যে, জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ক্রয় কার্য পরিচালনা করা অপরিহার্য।

* (৪) উপবিধি (৩)-এর অধীন প্রদত্ত সনদপত্রে উক্ত ক্রয়কার্য পরিচালনার অপরিহার্যতা বিবেচনার ভিত্তি ক্রয়কার্যক্রমের রেকর্ডে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিতে হইবে এবং উক্ত সনদপত্র বিচার বিভাগীয় পুনর্বিবেচনা ব্যতীত অভিযোগের সকল পর্যায়ে চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

* (৫) কোনো আপিল আবেদনের সহিত উপবিধি (১)-এর অধীন নির্ধারিত নিবন্ধন ফিস এবং নিরাপত্তা জামানত জমা না দেওয়া হইলে, উক্ত কারণে আবেদনটি রিভিউ প্যানেলের নিকট উপস্থাপন করা যাইবে না মর্মে বিপিপিএ সংশ্লিষ্ট আপিল আবেদনকারীকে অবহিত করিয়া ক্রয়কারীকে উহার অনুলিপি প্রদান করিবে।

* (৬) নিয়োগপ্রাপ্ত হইবার অব্যবহিত পরে রিভিউ প্যানেলের সভাপতি বিপিপিএ কর্তৃক জারীকৃত কার্যপ্রণালি মোতাবেক উহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।

### বিধি ৭৭। রিভিউ প্যানেল কর্তৃক আপিল নিষ্পত্তি

* (১) কোনো আপিল আবেদন রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করা হইলে এবং উক্ত আপিল যথাযথ নিরাপত্তা জামানত ও নিবন্ধন ফিসসহ দায়েরকৃত হইলে রিভিউ প্যানেল, উহার সিদ্ধান্ত প্রদানের সময় পর্যন্ত, চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ জারিসংক্রান্ত স্থগিতাদেশ অব্যাহত রাখিতে ক্রয়কারীকে পরামর্শ দিবে।

* (২) রিভিউ প্যানেল, তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে উহার লিখিত সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে এবং উক্ত সিদ্ধান্তের কপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব, বিপিপিএ এবং ক্রয়কারীকে প্রদান করিবে।

* (৩) তুচ্ছ (Frivolous) কারণে অভিযোগ দায়েরের কারণে উহা খারিজ এবং ক্ষেত্রমতো, নিরাপত্তা জামানত বাজেয়াপ্ত করিবার ক্ষেত্র ব্যতীত, আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, রিভিউ প্যানেল নিম্নবর্ণিত যে-কোনো সিদ্ধান্ত স্বতন্ত্রভাবে বা সম্মিলিতভাবে প্রদান করিতে পারিবে, যথা—
  * (ক) কারণ উল্লেখপূর্বক আপিল আবেদন খারিজ করিয়া ক্রয়কারীকে ক্রয়কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত প্রদান;
  * (খ) আপিল আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়বস্তু নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও নীতি উল্লেখপূর্বক উহার আওতায় অভিযোগকৃত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পক্ষবৃন্দকে সিদ্ধান্ত প্রদান;
  * (গ) ক্রয়কারী কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ এই বিধিমালার পরিপন্থি হইলে উহার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত প্রদান;
  * (ঘ) ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকরণে গৃহীত ব্যবস্থা বা সিদ্ধান্ত ব্যতীত, ক্রয়কারী কর্তৃক বিধি-বিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ কোনো কার্য বা সিদ্ধান্ত, সম্পূর্ণ বা আংশিক, বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রদান;
  * (ঙ) ক্রয়কারী, এই বিধিমালার অধীন উহার বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়া থাকিলে, রিভিউ প্যানেল আপিল আবেদন দাখিলকারী ব্যক্তিকে দরপত্র দলিল প্রস্তুতকরণ ও আইনসংক্রান্ত ব্যয় এবং অভিযোগ দাখিলসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয় বাবদ ক্ষতিপূরণসহ বিধি ৭৩(১৩)(গ)-এর অধীন প্রদত্ত নিরাপত্তা জামানত ফেরত প্রদানের সিদ্ধান্ত প্রদান; এবং
  * (চ) ক্রয়কার্যক্রম সমাপ্তির জন্য সিদ্ধান্ত প্রদান।

* (৪) রিভিউ প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।

* (৫) রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ উক্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

* (৬) রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত প্রদানের পর অবিলম্বে আপিলে উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রদত্ত সিদ্ধান্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখিতে হইবে:

  তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাইবে না, যদি উক্ত প্রকাশ—

  * (ক) কোনো আইনের পরিপন্থি হয়;
  * (খ) কোনো আইনের প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে;
  * (গ) জনস্বার্থের পরিপন্থি হয়;
  * (ঘ) পক্ষবৃন্দের আইনানুগ ব্যবসায়িক স্বার্থকে বিঘ্নিত করে; বা
  * (ঙ) ক্রয়কার্যের অবাধ প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে।

* (৭) ক্রয়কারী বা রিভিউ প্যানেল কর্তৃক এই বিধির অধীন গৃহীত সিদ্ধান্ত, উহার সমর্থনে যৌক্তিকতা ও অনুষঙ্গিক বিষয়াদি রেকর্ডের অংশ হইবে।
