Skip to main content

সপ্তম অধ্যায়

বিবিধ

বিধি ৬২। ল্যান্ডস্কেপিং এবং পার্ক

  • (১) সকল সরকারি ইমারত, বাণিজ্যিক ইমারত এবং বৃহদাকার ভবন বা এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি যথোচিত ল্যান্ডস্কেপ নকশা থাকিতে হইবে।
  • (২) পাবলিক পার্ক এবং খোলা পরিসরে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন হইবে এবং অনুরূপ স্থানে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো কাঠামো বা স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন প্রদান করা হইবে না, যথা:
    • (ক) খেলাধুলা সংক্রান্ত ইমারত বা কাঠামো; এবং
    • (খ) পার্ক অথবা খোলা পরিসরের সর্বোচ্চ ৫% ক্ষেত্রফল এবং ৪ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত সাধারণ জনগণের সুবিধা প্রদানের সহিত জড়িত কোনো ইমারত বা কাঠামো।
  • (৩) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন কমিটির সুপারিশ বা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হইবে, যথা:—
    • (ক) যেকোনো ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে; এবং
    • (খ) যেকোনো কাঠামো নির্মাণ।

বিধি ৬৩। ঐতিহ্যবাহী ইমারত, স্থান, এলাকা সংরক্ষণ (Conservation and Preservation)

  • (১) সরকার কর্তৃক ঘোষিত ঐতিহ্যবাহী ইমারত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং এলাকাসমূহ যথাযথ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে, যথা:—
    • (ক) সরকার কর্তৃক ঢাকা মহানগরীর সকল ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহের তালিকা প্রস্তুত করিতে হইবে;
    • (খ) সরকার ঢাকা মহানগরীর সকল ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহের তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদপূর্বক উহাদের ইমারতের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করিবে এবং মালিক এবং বসবাসকারীগণকে অনুরূপ তালিকাভুক্তির বিষয়ে অবহিতকরণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করিবে এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে;
    • (গ) দফা (খ)-তে উল্লিখিত তালিকা প্রণয়ন, হালনাগাদ, স্থাপনা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান স্থপতির নেতৃত্বে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করিবে এবং উক্ত কমিটিতে কর্তৃপক্ষ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং উক্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ স্থপতি, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ, ইতিহাসবিদ ও শিল্পীগণ সদস্য হিসাবে নিযুক্ত থাকিবেন;
    • (ঘ) উক্ত সকল ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহ তালিকাভুক্ত করিবার সময় কোড অনুসারে তিন শ্রেণিতে (গ্রেড-১, গ্রেড-২, গ্রেড-৩) ভাগ করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসারে (গ্রেড-১, গ্রেড-২, গ্রেড-৩) শ্রেণিবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ সংক্রান্ত বিদ্যমান গেজেটের তালিকাভুক্ত ইমারত গ্রেড-১ হিসাবে নকশা অনুমোদিত হইবে;
    • (ঙ) যদি কোনো ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি বা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমতি ব্যতীত তালিকাভুক্ত ইমারতের কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন বা ধ্বংস সাধন করে, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত ইমারতের মালিক বা দখলদারকে কাজ বন্ধ করিবার নির্দেশ প্রদান করিবে এবং সেইক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ উক্ত জমিতে নির্মাণের জন্য নূতন কোনো ভবনের নকশার অনুমোদন প্রদান করিবে না;
    • (চ) ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি যদি মনে করে যে, কোনো তালিকাভুক্ত ইমারত ও এলাকাসমূহে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের যথাযথ তত্ত্বাবধান হইতেছে না তাহা হইলে সরকার এইরূপ ইমারত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ করিবে;
    • (ছ) ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহের চারপাশে ২৫ মিটার সংরক্ষিত এলাকায় স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত নূতন ইমারতের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি প্রযোজ্য হইবে;
      • (১) গ্রেড-১, তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ইমারত/স্থাপনার ক্ষেত্রে:
        • (i) ঐতিহ্য ইমারত হইতে অন্যূন ৯ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে খালি রাখিতে হইবে এবং উক্ত দূরত্বের মধ্যে কোনো প্রকার নির্মাণ/উন্নয়ন/পরিবর্তন করা যাইবে না;
        • (ii) ঐতিহ্যবাহী ইমারত সংলগ্ন ২৫ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ইমারতের উচ্চতা ১৫ মিটার বা সর্বোচ্চ ৪ তলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকিবে (সিঁড়িঘরের উচ্চতা বাদে);
        • (iii) ঐতিহ্যবাহী এলাকার অভ্যন্তরে আলাদাভাবে কোনো তালিকাভুক্ত ইমারত অবস্থিত হইয়া থাকিলেও ঐ ইমারত সংলগ্ন প্লটসমূহের ক্ষেত্রে বিধি ৬১ এর উপ-বিধি (১) ও (২) অনুসরণ করিতে হইবে;
        • (iv) তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহের ২৫ মিটার পর্যন্ত সংরক্ষিত এলাকার অভ্যন্তরে প্রস্তাবিত নূতন ইমারতের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে গাড়ি পার্কিং এর ন্যূনতম নিয়মাবলি শিথিলযোগ্য হইবে এবং ক্ষেত্র বিশেষে কেবল পথচারীর জন্য pedestrian precinct হিসাবে ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করা যাইবে;
        • (v) তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহের এবং তাহার সীমানার সমান্তরালে ন্যূনতম সংরক্ষিত এলাকা (যাহা অবশ্যই খালি রাখিতে হইবে) সহ ২৫ মিটার পর্যন্ত সকল ইমারতের ব্যবহারের জন্য স্বল্প পরিসরে পর্যটন বান্ধব ভূমি ব্যবহার করা যাইবে যেমন- দোকানপাট, আর্ট গ্যালারি, মিউজিয়াম, পাঠাগার, প্রদর্শনীস্থল, ইত্যাদি যাহা স্থানীয় ঐতিহ্যের সহিত সংগতিপূর্ণ;
      • (২) গ্রেড-২, তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ইমারত/স্থাপনার ক্ষেত্রে:
        • (i) ঐতিহ্যবাহী ইমারত হইতে ন্যূনতম ৯ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে খালি রাখিতে হইবে এবং উক্ত দূরত্বের মধ্যে কোনো প্রকার নির্মাণ/উন্নয়ন/পরিবর্তন করা যাইবে না;
        • (ii) ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহের জন্য সংরক্ষিত ৯ মিটার দূরত্ব পরবর্তী সংলগ্ন প্লটসমূহে এই বিধিমালা অনুসরণ করিয়া নূতন ভবন নির্মাণ করা যাইবে;
        • (iii) ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহের জন্য সংরক্ষিত অংশে উন্নয়ন সিদ্ধান্তরিত হইলে অন্য এলাকায় উন্নয়ন স্বত্ব হস্তান্তর ও নির্মাণের অনুমতিপত্র TDR (Transfer of Development Right) এর নীতিমালা অনুসরণপূর্বক আবেদন করা যাইবে;
      • (৩) গ্রেড-৩, তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ইমারত/স্থাপনার ক্ষেত্রে:
        • (i) তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ইমারতের জন্য শুধু রাস্তা সংলগ্ন সেটব্যাক এলাকার আদিভবনের অংশটুকু সংরক্ষণ করিতে হইবে;
        • (ii) ক্রমিক নং ১ এ উল্লেখিত আদি স্থাপনার অংশটুকু সংরক্ষণ পূর্বক পরবর্তী ভূমিতে বিদ্যমান ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী নূতন ভবন নির্মাণ করা যাইবে;
        • (iii) নূতন ভবনটি আদি স্থাপনার অংশটুকুর সংলগ্ন বা সম্মুখ সেটব্যাক ব্যতীত করা যাইবে এবং পার্শ্ববর্তী সেটব্যাক বিধিমালা অনুযায়ী করিতে হইবে।
  • (২) ঐতিহ্যবাহী ইমারত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও এলাকাসমূহের কারণে সংরক্ষিত এলাকায় যেকোনো প্লটের উচ্চতা, সেটব্যাক বা ভূমি আচ্ছাদন নিয়ন্ত্রিত হইলে এবং সেই প্লটসমূহের যে কোনোটিতে প্রাপ্ত FAR সূচক সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা সম্ভব না হইলে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ফরমে মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্ত প্লটে ব্যবহৃত FAR সূচকের অবশিষ্টাংশটুকু অন্য এলাকায় হস্তান্তর ও নির্মাণের অনুমতিপত্র TDR নীতিমালা অনুসরণপূর্বক করিতে পারিবে এবং উক্ত TDR সংক্রান্ত অনুমতিপত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ উল্লেখিত থাকিবে, যথা:—
    • (ক) যে প্লটের ক্ষেত্রে FAR সূচক সম্পূর্ণ ব্যবহৃত হয় নাই, সেই প্লটের অবস্থান, মালিকের নাম ও ঠিকানা;
    • (খ) অব্যবহৃত FAR সূচকের পরিমাণ ও ক্ষেত্রফল (বর্গমিটারে);
    • (গ) অব্যবহৃত FAR সূচক অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষেত্রফল অন্য যে এলাকায় কোনো প্রকল্পের জন্য FAR সূচক অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষেত্রফলের সহিত অতিরিক্ত ক্ষেত্রফল হিসাবে সংযুক্ত করা হইবে সেই এলাকার নাম ও ভূমি ব্যবহারের ধরন (আবাসিক ব্যতিরেকে);
    • (ঘ) অব্যবহৃত FAR সূচক অনুযায়ী প্রাপ্ত এই অতিরিক্ত ক্ষেত্রফল ন্যূনতম ১৮ মিটার প্রশস্ত রাস্তার পাশে অবস্থিত প্লটে মহাপরিকল্পনা অনুসরণপূর্বক ব্যবহার করা যাইবে;
    • (ঙ) অনুমতিপত্র (TDR Certificate) একের অধিকবার হস্তান্তর যোগ্য নহে।

বিধি ৬৪. বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, জলাভূমির নিকটস্থ এবং পাহাড়ি এলাকায় উন্নয়ন ও নির্মাণ

  • (১) বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, জলাশয়ের নিকটস্থ বা পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত সাইটের ক্ষেত্রে ভূমি ভরাট ও খননকালে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে এবং এতদ্বিষয়ে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় বর্ণিত বিধানাবলি অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য হইবে।
  • (২) ভূমি ভরাট ও খনন এলাকাসমূহ স্পষ্টরূপে প্রদর্শন করিতে হইবে এবং নিম্নবর্ণিত তথ্যসমূহ পেশ করিতে হইবে, যথা:—
    • (ক) সাইট ও সাইট সন্নিহিত রাস্তাসমূহের বিদ্যমান কন্টুয়ার (Contour), স্পট লেভেল ও ভূমির ঢাল; এবং
    • (খ) নূতন ঢাল বা বাঁধ (যদি প্রস্তাবে থাকে) এবং প্রস্তাবিত ঢাল বা বাঁধ সুদৃঢ়করণের জন্য যোগ্য কারিগরি ব্যক্তি কর্তৃক নিরূপিত এবং সুপারিশকৃত রিটেইনিং ওয়াল বা অন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।
  • (৩) নির্মাণ অনুমোদনপত্রের জন্য আবেদনের সময়ে রিটেইনিং ওয়াল বা বাঁধের প্রয়োজনীয় নকশা সংযোজন করিতে হইবে।
  • (৪) পাহাড় হিসাবে দৃশ্যমান জমিতে যেকোনো ধরনের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কন্টুয়ার ম্যাপ অনুসরণ করিতে হইবে।
  • (৫) এইরূপ ভূমিতে কোনো অবস্থাতেই শিল্প স্থাপনা নির্মাণ করা যাইবে না।
  • (৬) পাহাড়ের ভূমিধ্বস এড়াইবার উদ্দেশ্যে পাহাড়ের পাদদেশে অন্যান্য যেকোনো কাজ আরম্ভের পূর্বে নিরাপত্তামূলক রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করিতে হইবে।
  • (৭) পাহাড় হইতে আগত পানির স্বাভাবিক প্রবাহের গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয় এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ড করা যাইবে না।
  • (৮) সকল ক্ষেত্রে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থাপনা নির্মাণ করিতে হইবে।

বিধি ৬৫. বিশেষ নিয়ন্ত্রণ

  • (১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোনো বিশেষ এলাকার জন্য তদকর্তৃক জারীকৃত যে কোনো নিষেধাজ্ঞাসহ, যথা- প্রতিরক্ষা নিয়ন্ত্রণ, Key Point Installation (KPI), জাতীয় নিরাপত্তা, বিমান চলাচল, টেলিযোগাযোগ বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা, ইত্যাদি উক্ত এলাকায় ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
  • (২) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভিআইপি সড়কসমূহের পার্শ্বে ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থে সরকার কর্তৃক আরোপিত যেকোনো শর্তাবলি প্রযোজ্য হইবে।
  • (৩) জাতীয় স্মৃতি সৌধ, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, টাকশাল, লালবাগ দুর্গ, রেডিও এবং টেলিভিশন ট্রান্সমিশন কেন্দ্র, ইত্যাদি মহাপরিকল্পনায় চিহ্নিত বা নির্ধারিত ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ এলাকাসমূহ ভবনসহ ইমারতের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে মহাপরিকল্পনার সুপারিশ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, আরোপিত সরকারি আদেশ ও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হইবে।
  • (৪) বিমান বন্দর ও সংলগ্ন এয়ার ফানেল এর জন্য নির্ধারিত এলাকায় সকল ধরনের ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ নিয়মাবলি প্রযোজ্য হইবে।
  • (৫) কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকাতে অনুমোদনযোগ্য ইমারতের সর্বোচ্চ উচ্চতার বিষয়টি উল্লেখপূর্বক একটি নির্দেশিকা ও নকশা পেশাজীবী ও জনসাধারণের অবগতি ও অনুধাবনের জন্য প্রদর্শন বা সরবরাহের ব্যবস্থা করিবে।
  • (৬) ব্লকভিত্তিক উন্নয়ন ব্যতীত বিমান চলাচল বা অন্য কোনো কারণে উচ্চতা নিয়ন্ত্রিত এলাকাসমূহের প্লটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সর্বোচ্চ FAR প্রয়োগ করিতে না পারিলে উক্ত প্লটের জন্য আবশ্যিক অনাচ্ছাদিত স্থান সংস্থানের পরিবর্তে প্রযোজ্য সেটব্যাক স্পেস রাখিয়া অনুমোদিত উচ্চতা পর্যন্ত ইমারত নির্মাণ করা যাইবে এবং উক্ত নির্মিত ভবনের FAR ভুক্ত ক্ষেত্রফল কোনোক্রমেই উক্ত প্লটের জন্য প্রযোজ্য ফারে প্রাপ্য ক্ষেত্রফলের চাইতে বেশি হইতে পারিবে না।
  • (৭) উচ্চতা নিয়ন্ত্রিত এলাকাসমূহের কর্ণার প্লটের ক্ষেত্রে যে রাস্তাকে সম্মুখ ধরিয়া প্লটে প্রবেশ ও বাহির নিয়ন্ত্রিত হইবে শুধু উক্ত রাস্তাকে সম্মুখ বিবেচনা করিয়া রাস্তার কেন্দ্রস্থল হইতে ৪.৫ মিটার অথবা জমির সীমানা হইতে ১.৫ মিটার, যাহা অধিক তাহাই সম্মুখ সেটব্যাক হিসাবে রাখিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, কর্ণার প্লটের ক্ষেত্রে উভয় রাস্তাকে সম্মুখ হিসাবে ব্যবহারের জন্য উভয় রাস্তার দিককে সম্মুখ বিবেচনা করিয়া প্রযোজ্য সেটব্যাক রাখিতে হইবে এবং যে কোনো একটি দিককে পশ্চাৎ বিবেচনা করিয়া সেটব্যাক ও অন্য দিককে পার্শ্ব হিসাবে বিবেচনা করিয়া সেটব্যাক রাখিতে হইবে।

বিধি ৬৬. প্রতিবন্ধীসহ সার্বজনীনগম্যতা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

যে কোনো ইমারতে প্রতিবন্ধীসহ সার্বজনীনগম্যতা নিশ্চিত করিবার জন্য নিম্নরূপ বিশেষ ব্যবস্থা থাকিতে হইবে, যথা:—
  • (ক) সকল ইমারতে পার্কিং স্পেস হইতে সংলগ্ন তলার লিফট লবি (যদি থাকে) পর্যন্ত সার্বজনীনগম্যতার ব্যবস্থা;
  • (খ) হোটেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্য সেবা, সমাবেশ, ১০০ বর্গমিটারের অধিক ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট কোনো গণব্যবহার উপযোগী ইমারত, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক ব্যবহার, ইত্যাদিসহ এ—
    • (১) প্রতিবন্ধীসহ সার্বজনীনগম্যতা;
    • (২) প্রতি তলায় অন্যূন একটি টয়লেট অথবা সর্বমোট টয়লেট সংখ্যার ৫% (যাহা অধিক) পরিমাণ টয়লেট সহজেই প্রবেশযোগ্য এবং সুনির্দিষ্টভাবে দিক নির্দেশিত করিয়া নির্দিষ্ট করিতে হইবে;
  • (গ) সকল আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে অন্যূন একটি টয়লেট এর দরজার বাঁধামুক্ত প্রশস্ততা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে হুইল চেয়ারসহ ব্যবহারের জন্য অন্যূন ৯০০ মি.মি. প্রশস্ত; এবং
  • (ঘ) এতদ্বিষয়ে সকল ইমারতের সার্বজনীনগম্যতার অন্যূন মান কোড ও পরিশিষ্ট-২ অনুযায়ী নির্ধারিত হইতে হইবে।

বিধি ৬৭. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম

  • (১) ২০০ (দুই শত) বা তদূর্ধ্ব আবাসন ইউনিট বিশিষ্ট ইমারতের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিতে হইবে।
  • (২) নির্মাণ অনুমোদনের জন্য দাখিলকৃত নকশায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্পেস, যাহা FAR মুক্ত কিন্তু অতিরিক্ত ভূমি আচ্ছাদনের আওতাভুক্ত হইবে।
  • (৩) ইমারত নির্মাণ, অপসারণ, ও পরিমার্জন সংশ্লিষ্ট কাজ ও কাজের নিমিত্ত মালামাল পরিবহনে এতদ্‌সংক্রান্ত পরিবেশ দূষণ বিষয়ক সকল আইন, বিধিবিধান, পরিপত্র ও নীতিমালা অনুসরণ করিতে হইবে।

বিধি ৬৮. পানির পুনঃব্যবহার

  • (১) ২০০ (দুই শত) বা তদূর্ধ্ব আবাসন ইউনিট বিশিষ্ট ইমারত বা অকুপেন্সি টাইপ-A-5 (৫০ বা তদূর্ধ্ব কক্ষ), E-1, E-2 ও I (৭৫০০ বর্গ মিটার ক্ষেত্রফল বা তদূর্ধ্ব) ধরনের ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে বেসিন এবং গোসলখানায় ব্যবহৃত পানির পুনঃব্যবহারের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।
  • (২) নির্মাণ অনুমোদনের জন্য দাখিলকৃত আবেদনের সহিত পানির পুনঃব্যবহারের স্থাপনা, যাহা FAR মুক্ত হইবে কিন্তু অতিরিক্ত ভূমি আচ্ছাদনের আওতাভুক্ত হইবে এবং ইহার বিস্তারিত নকশা দাখিল করিতে হইবে।

বিধি ৬৯. সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার

  • (১) ইমারতের মালিককে ইমারতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
  • (২) সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণ করিতে হইবে।
  • (৩) সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্যানেলসমূহ স্থাপনের জন্য নির্মিত কাঠামো সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত উচ্চতার অধিক হইবে না।

বিধি ৭০. Sewage Treatment Plant (STP)

  • (১) ভবনের নকশা অনুমোদনকালে ৫ (পাঁচ) কাঠা বা তদূর্ধ্ব জমির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক STP এর সংস্থান রাখিতে হইবে এবং নির্মাণকালে তা বাস্তবায়ন করিতে হইবে।
  • (২) বিদ্যমান ভবনসমূহের ক্ষেত্রে উক্ত বিধিমালা জারির এক বৎসরের মধ্যে STP স্থাপন করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, যৌক্তিক কারণ বিবেচনায় উপরোক্ত সময়সীমা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সর্বোচ্চ আরও এক বৎসর বর্ধিত করা যাইবে।
  • (৩) ঢাকা ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেটওয়ার্কের সহিত যে সকল ভবনের সংযোগ রহিয়াছে, সেই সকল ভবনের ক্ষেত্রে STP স্থাপনের প্রয়োজন হইবে না।

বিধি ৭১. বিধিমালা লঙ্ঘন

কোনো ব্যক্তি এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

বিধি ৭২. ব্যত্যয়কৃত ও অননুমোদিত ইমারতের সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন

  • (১) অননুমোদিত অথবা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটাইয়া নির্মিত সকল ভবন অবৈধ বলিয়া বিবেচিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা জারির পূর্বে নির্মিত ব্যত্যয়কৃত বা অননুমোদিত ভবনসমূহ কর্তৃপক্ষ এই বিধিমালা ও কোড অনুসরণপূর্বক অনুমোদন বা সংশোধন বা অপসারণ করিতে পারিবে।
  • (২) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় অননুমোদিত ও ব্যত্যয়কৃত ভবনের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একটি নীতিমালা প্রণয়ন করিবে এবং তদানুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

বিধি ৭৩. অপসারণ

  • (১) ইমারতের মালিককে (ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান) ঢাকা মহানগর এলাকায় অনুমোদিত বা অননুমোদিত ইমারত অপসারণের পূর্বে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অবহিত করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী অপসারণের সময় নিরাপত্তাজনিত বিষয়ের জন্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সস বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত এবং ইমারতের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য অন্যূন একজন স্ট্রাকচারাল প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে কোড অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করিতে হইবে।
  • (৩) উপ-বিধি (১) উল্লিখিত মালিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করিয়া ইমারত অপসারণ করিলে বা অপসারণের ক্ষেত্রে কোড অমান্য করিলে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

বিধি ৭৪. বিধিমালার প্রাধান্য

  • (১) এই বিধিমালা ও কোডের মধ্যে কোনো প্রকার অসংগতির ক্ষেত্রে বিধিমালা প্রাধান্য পাইবে।
  • (২) পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মহাপরিকল্পনা ও বিধিমালার মধ্যে কোনো অসংগতির ক্ষেত্রে মহাপরিকল্পনা প্রাধান্য পাইবে।

বিধি ৭৫. রহিতকরণ ও হেফাজত

  • (১) ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮ এতদ্দ্বারা রহিত করা হইলো।
  • (২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও—
    • (ক) রহিত বিধিমালার অধীনকৃত সকল কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই বিধিমালার অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
    • (খ) রহিত বিধিমালার অধীন অনিষ্পন্ন কাজকর্ম বা গৃহীতব্য ব্যবস্থা, রহিত বিধিমালার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ ও এই বিধিমালার সহিত সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে, চলমান ও অব্যাহত থাকিবে।
Last modified on September 3, 2026