Skip to main content

বিধি ১৪৯। পেশাগত অসদাচরণ, অপরাধ, চুক্তি বাতিল, ইত্যাদি

  • (১) ক্রয়কারী ও ক্রয়কার্যের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ ও চুক্তি বাস্তবায়নকালে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের নিশ্চয়তা বিধান করিবে:
    • (ক) আইনের ধারা ৬৪-এর বিধান অনুসরণ;
    • (খ) তফসিল-২০-এ বর্ণিত নৈতিক বিধি পালন;
    • (গ) উহার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা উহার পক্ষে অন্য কোনো এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী যেন উপবিধি (২)-এ বর্ণিত দুর্নীতি, প্রতারণা, চক্রান্ত, জবরদস্তি বা প্রতিবন্ধকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়; এবং
    • (ঘ) চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন হইতে বিরত থাকা।
  • (২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে—
    • (ক) ‘দুর্নীতিমূলক কর্ম’ অর্থে ক্রয়প্রক্রিয়ায় বা চুক্তিসম্পাদনকালীন ক্রয়কারী কর্তৃক কোনো কার্য, সিদ্ধান্ত বা পদ্ধতি গ্রহণে প্ররোচিত করিবার উদ্দেশ্যে, ক্রয়কারী বা অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উৎকোচ, চাকরি, মূল্যবান দ্রব্য বা সেবা বা আর্থিক সুবিধা প্রদানের কোনো প্রস্তাব প্রদান বা প্রদানের অঙ্গীকার করা বা ক্রয়কারীর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক উহা গ্রহণ বা চাওয়া বুঝাইবে এবং ক্রয়কারী বা উহার সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মচারী এই বিধিতে উল্লিখিত দুর্নীতিমূলক, প্রতারণামূলক, চক্রান্তমূলক, জবরদস্তিমূলক ও প্রতিবন্ধকতামূলক কর্মে সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়টিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
    • (খ) ‘প্রতারণামূলক কর্ম’ অর্থে ক্রয় কার্যক্রম বা চুক্তিবাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করিবার জন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো মিথ্যা বিবৃতি প্রদান বা অসাধুভাবে কোনো তথ্য গোপন করা বা তথ্যের ভুল বা বিকৃত উপস্থাপন বুঝাইবে;
    • (গ) ‘চক্রান্তমূলক কর্ম’ অর্থে ক্রয়কারীর, জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে অথবা তাহার বা তাহার কোনো কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতায়, প্রকৃত ও অবাধ প্রতিযোগিতার সুযোগ হইতে বঞ্চিত করিয়া দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের সংখ্যা ইচ্ছামত হ্রাস করা বা উহার মূল্য প্রতিযোগিতামূলক নহে এমন পর্যায়ে রাখিবার উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে কোনো চক্রান্ত বা যোগসাজশমূলক কর্ম বুঝাইবে;
    • (ঘ) ‘জবরদস্তিমূলক কর্ম’ অর্থে ক্রয় কার্যক্রমের ফলাফলকে প্রভাবিত করা বা চুক্তিবাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি বা স্বাভাবিকভাবে দরপত্র, আবেদনপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন দাখিলে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোনো ব্যক্তি বা তাহার সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করা বা ক্ষতিসাধনের হুমকি প্রদান করা বুঝাইবে; এবং
    • (ঙ) ‘প্রতিবন্ধকতামূলক কর্ম’ অর্থে ক্রয়সংশ্লিষ্ট তদন্তের সাক্ষ্য প্রমাণ ইচ্ছাপূর্বক নষ্ট করা, মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, বদলাইয়া ফেলা বা লুকাইয়া ফেলা, অথবা তদন্তকারীর নিকট মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া যাহাতে কোনো দুর্নীতিমূলক, প্রতারণামূলক, চক্রান্তমূলক, জবরদস্তিমূলক ও প্রতিবন্ধকতামূলক কর্মের অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়; অথবা তদন্তকারীকে হুমকি দেওয়া, হয়রানি করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাহাতে কেউ তদন্তসংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ না করে বা তদন্তকারী তদন্তকাজ না করেন অথবা বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইন, ২০২৩ দ্বারা বিপিপিএ-এর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিপিপিএ কর্তৃক গৃহীত কোনো কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে বুঝাইবে।
  • (৩) যদি কোনো দুর্নীতি, প্রতারণা, চক্রান্ত, জবরদস্তি বা প্রতিবন্ধকতামূলক কর্মে কোনো ব্যক্তি জড়িত হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট কোনো ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত রাখিবার পাশাপাশি ক্রয়কারী উক্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া বা থাকার বিষয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করিবে।
  • (৪) চুক্তির মৌলিক শর্ত ভঙ্গ হইবার কারণে চুক্তি বাতিল করা হইলে ক্রয়কারী আইনের ধারা ৬৪(৬) মোতাবেক অধিকতর ব্যবস্থা গ্রহণার্থ, প্রযোজ্যক্ষেত্রে, লিখিতভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করিবে: তবে শর্ত থাকে যে, চুক্তি বাতিল প্রক্রিয়াকরণকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট হইতে লিখিত ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হইয়া থাকিলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট হইতে ব্যাখ্যা গ্রহণের আবশ্যকতা থাকিবে না।
  • (৫) উপবিধি (৩) ও (৪)-এ বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমা প্রদান করিতে হইবে।
  • (৬) উপবিধি (৩) ও উপবিধি (৪)-এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি, ঠিকাদার, সরবরাহকারী, সেবাপ্রদানকারী বা পরামর্শকের বিরুদ্ধে ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়াকালে উক্তরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবা মাত্রই তাহার উপর সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী সংস্থায় ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (Suspension) আরোপ করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (Suspension) আরোপ করিবার তারিখ হইতে ৪২ (বিয়াল্লিশ) দিনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে অযোগ্য ঘোষণার (Debarment) বিষয়টি নিষ্পত্তি করিতে হইবে, অন্যথায় উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্তমাত্রই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর হইয়া যাইবে।
  • (৭) উপবিধি (৩) ও উপবিধি (৪)-এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান না করিলে অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাহার বা তাহাদের ব্যাখ্যা ক্রয়কারীর নিকট দাখিল করা হইলে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে—
    • (ক) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাখ্যা প্রদান না করিলে বা ব্যাখ্যা অগ্রহণযোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইলে, ক্রয়কারী সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, প্রযোজ্যক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত ব্যাখ্যা ও অন্যান্য তথ্যাদি সহকারে একটি প্রতিবেদন ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিবে;
    • (খ) দফা (ক)-এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে অথবা প্রয়োজনে কেবল উপবিধি (৩)-এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধি ১৮ মোতাবেক বারিতকরণ প্রস্তাব পর্যালোচনা কমিটি গঠন করিতে পারিবে;
    • (গ) দফা (খ)-তে বর্ণিত কমিটি ক্রয়কারীর সুপারিশ পর্যালোচনা করিয়া তফসিল-২-এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত বিষয়ে উহার সুপারিশ প্রদানপূর্বক একটি প্রতিবেদন ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিকট পেশ করিবে; এবং
    • (ঘ) দফা (গ)-এর অধীন প্রদত্ত সুপারিশ বিবেচনাক্রমে প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে উপবিধি (৮) অনুযায়ী ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
  • (৮) উপবিধি (৭)-এর দফা (ক) অনুযায়ী ক্রয়কারী প্রেরিত প্রস্তাব এবং উপবিধি (৭)-এর দফা (খ) অনুযায়ী, বারিতকরণ প্রস্তাব পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করিয়া ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান নিম্নরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে—
    • (ক) উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ প্রদান বা চুক্তিস্বাক্ষর করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিল করিবার উদ্যোগ গ্রহণ;
    • (খ) উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে সকল সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনধিক দুই(২) বৎসরের জন্য অযোগ্য বলিয়া ঘোষণা।
  • (৯) উপবিধি (৮)-এর দফা (খ) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে বিরত রাখার (Debarment) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাহা হইলে ক্রয়কারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ হইতে বঞ্চিত করিবার বিষয়টি উহাকে সম্বোধনকৃত একটি পত্রযোগে অবহিত করিবে এবং বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইটে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ হইতে বারিত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া প্রকাশের জন্য বিপিপিএকে উহার কপি প্রদান করিবে।
  • (১০) উপবিধি (৮)-এর অধীন গৃহীত কার্যক্রমের বিবরণ ক্রয়কারী কর্তৃক বিপিপিএ-এর জ্ঞাতার্থে প্রেরণ করিতে হইবে এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত ও উহার কারণ ক্রয় কার্যক্রমের রেকর্ডে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।
  • (১১) কোনো ক্রয়কারী কর্তৃক উপবিধি (৮)-এর দফা (খ) অনুসরণে কোনো ব্যক্তি, ঠিকাদার, সরবরাহকারী, সেবাপ্রদানকারী বা পরামর্শকের বিরুদ্ধে ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ হইতে বারিত (Debarment) করিবার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যক্তি, ঠিকাদার, সরবরাহকারী, সেবাপ্রদানকারী বা পরামর্শক সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি বা তাহারা, তফসিল ২১-তে বর্ণিত বিধানমতে গঠিত, ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড (Debarment Review Board)-এর নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবে।
  • (১২) উপবিধি (১১)-এ বর্ণিত ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের নিকট আপিল দায়ের এবং উক্ত বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় অনুসরণের জন্য বিপিপিএ একটি বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন করিবে।
  • (১৩) আইন ও এই বিধিমালা প্রযোজ্য হওয়া সাপেক্ষে, কোনো ব্যক্তি বা ক্রয়কারীর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি পেশাগত অসদাচরণ সংক্রান্ত কোনো অপরাধ করে তাহা হইলে তাঁহার বিরুদ্ধে আইনের ধারা ৬৪(৩) ও (৪), দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। উদাহরণ ১।—ক্রয়প্রক্রিয়াকরণ বা চুক্তি বাস্তবায়নকালে কোনো কাজ করা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কোনো পদ্ধতি প্রয়োগে প্ররোচিত করিবার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা উহার কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা উহার পক্ষে কোনো মধ্যস্থতাকারী, ক্রয়কারীর কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বা ক্রয়প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আইনত প্রাপ্য সম্মানি ব্যতীত, কোনো চাকুরী বা অন্য কোনো মূল্যবান দ্রব্য বা সেবাপ্রদান, উৎকোচপ্রদান বা প্রদানের অঙ্গীকারকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং ক্রয়কারীর ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মকর্তাবৃন্দ দুর্নীতিমূলক কর্মে জড়িত বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code)-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ (ধারা ১৬১ হইতে ১৭১) অথবা Prevention of Corruption Act, 1947-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য হইবে। উদাহরণ ২।—কোনো ক্রয়কার্যক্রমে বা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানকে প্রভাবিত করিবার জন্য কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা কোনো ব্যক্তি প্রতারণা বা অসততার সহিত কোনো দলিল বা উহার অংশবিশেষ প্রস্তুত স্বাক্ষর ও মোহরযুক্ত করে বা সম্পাদন করে বা কোনো দলিল যে জাল তাহা বিশ্বাস করিবার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি থাকা সত্ত্বেও উহা ব্যবহার করে বা কোনো মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করে বা নকল ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে, তাহা হইলে উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা ব্যক্তি দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী (ধারা ৪৬৫ হইতে ৪৮৯) উহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে। উদাহরণ ৩।—অযৌক্তিকভাবে দরপত্রের সংখ্যা হ্রাস বা সাজানো মূল্যসংবলিত দরপত্র দাখিলের জন্য ক্রয়কারীর জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে অথবা তাহার বা তাহার কোনো কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুফল হইতে উহাকে বঞ্চিত করিবার লক্ষ্যে, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো অসৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বা উহার আয়োজনে লিপ্ত হয়, তাহা হইলে উহা চক্রান্তমূলক অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১২০-এ এবং ধারা ১২০-বি(২) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হইবে। উদাহরণ ৪।—প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতি বা হুমকির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা তাঁহার সম্পত্তির উপর বিপদাশঙ্কা সৃষ্টি করিয়া কোনো বেআইনি কাজ করিতে বাধ্য করিবার চেষ্টা বা আইনত করণীয় কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ আবেদন, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলে বাধাপ্রদান দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৫০৩ অনুযায়ী অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং ধারা ৫০৬ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হইবে। উদাহরণ ৫।—কোনো ক্রয়কারী কর্তৃক প্রক্রিয়াকৃত ক্রয়ের বিপরীতে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের নিমিত্ত গঠিত তদন্ত কমিটির চাহিদা মোতাবেক তথ্য বা দলিলাদি প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন অথবা অহেতুক বা ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করা, অসত্য তথ্য প্রদান বা প্রকৃত তথ্য গোপন করা, ইত্যাদিতে জড়িত থাকিলে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী বা তাহার সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মচারী অথবা কোনো দরপত্রদাতা বা ইকনোমিক অপারেটর প্রতিবন্ধকতামূলক কর্মে জড়াইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৭৫, ১৭৭ এবং ১৮৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হইবে।
Last modified on September 24, 2026