Skip to main content
[বিধি ১৪৯(১১) দ্রষ্টব্য]
  • ১। বোর্ড গঠন।—(১) বিপিপিএ কোনো ক্রয়কারী কর্তৃক কোনো দরপত্রদাতা বা আবেদনকারী বা পরামর্শক বা ইকনোমিক অপারেটরকে অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে বিরত রাখিবার (Debarment) সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি কর্তৃক দায়েরকৃত কোনো আপিল পর্যালোচনা এবং তৎসম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য অনুচ্ছেদ (২)-এ উল্লিখিত বিশেষজ্ঞগণের সমন্বয়ে ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড গঠন করিবে। (২) ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড গঠন করিবার উদ্দেশ্যে বিপিপিএ নিম্নবর্ণিতভাবে ৩ (তিন) শ্রেণির প্রতিটির জন্য ৭ (সাত) জন করিয়া সুবিদিত বিশেষজ্ঞগণের একটি তালিকা প্রস্তুত করিবে—
    • (ক) ক্রয়সংক্রান্ত আইনগত বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সুখ্যাত বিশেষজ্ঞগণ, যাহাদের মধ্যে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বা কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্মকর্তাগণ অন্তর্ভুক্ত হইতে পারে;
    • (খ) জাতীয় ক্রয় প্রশিক্ষকবৃন্দ অথবা আন্তর্জাতিকভাবে সুবিদিত কোনো ক্রয় বা সাপ্লাই চেইন বিষয়ক সংগঠনের (যেমন: CIPS, ইত্যাদি) নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ সদস্য; এবং
    • (গ) ক্রয়কার্য ও চুক্তি ব্যবস্থাপনার রীতিনীতি এবং অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সুখ্যাত বিশেষজ্ঞগণ, যাহারা ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক মনোনীত হইতে পারে।
    (৩) উপর্যুক্ত ৩ (তিন) শ্রেণির প্রতিটি হইতে ১ (এক) জন করিয়া সদস্য সমন্বয়ে ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড গঠন করিতে হইবে এবং তাহাদের মধ্যে একজন সভাপতি হিসাবে মনোনীত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা উক্ত বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হইতে পারিবে না। (৪) বিপিপিএ, উহার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর পূর্বানুমোদনক্রমে ৩ (তিন) হইতে ৫ (পাঁচ)টি বোর্ড গঠন এবং যথোপযুক্ত শর্তে প্রতিটি বোর্ডের সদস্য ও সভাপতি মনোনীত করিবে। (৫) ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যকে প্রতিসভার জন্য ৮(আট) হাজার টাকা হারে প্রতিটি আপিল রিভিউয়ের জন্য সর্বাধিক ২ (দুই)টি সভার জন্য, সম্মানি প্রদেয় হইবে। (৬) বিপিপিএ, ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় অনুসরণীয় একটি বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি জারি করিবে। (৭) নিয়োগপ্রাপ্ত হইবার অব্যবহিত পরে ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের সভাপতি বিপিপিএ কর্তৃক জারীকৃত কার্যপ্রণালি মোতাবেক উহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে। (৮) বিপিপিএ কোনো অবস্থাতেই কোনো আপিল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হইতে পারিবে না, তবে ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা প্রদান করিবে।
  • ২। বোর্ড ভাঙিয়া দেওয়া বা সদস্য অপসারণ, পুনর্গঠন, ইত্যাদি।—(১) সরকার, জনস্বার্থে, যে-কোনো সময়ে এই তফসিলের প্রথম ক্লজ অনুযায়ী গঠিত যে-কোনো বা সকল ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড, কারণ উল্লেখপূর্বক, ভাঙিয়া দিতে পারিবে। (২) ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড গঠিত হইবার পর, সরকার নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে এক বা একাধিক সদস্যকে উক্ত কমিটি হইতে, অপসারণ করিতে পারিবে—
    • (ক) স্বার্থের সংঘাত ঘটিলে; বা
    • (খ) যদি আইনের ধারা ৬৪-এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া থাকে; বা
    • (গ) কোনো সদস্যের শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বা মৃত্যুর কারণে।
    (৩) অনুচ্ছেদ (২)-এর অধীন ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের কোনো সদস্য অপসারণ করা হইলে এই তফসিলের প্রথম ক্লজ অনুসারে সদস্য প্রতিস্থাপন করিতে হইবে।
  • ৩। ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড কর্তৃক ডিবারমেন্ট আপিল নিষ্পত্তি।—(১) নিবন্ধন ফি ২০ (বিশ) হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) এবং ১ (এক) লক্ষ টাকা নিরাপত্তা জামানতসহ (ফেরতযোগ্য) কোনো আপিল আবেদন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিপিপিএ-এর নিকট গৃহীত হইবার ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে বিপিপিএ পালাক্রমে একটি রিভিউ বোর্ড নির্বাচন করিয়া উহার নিকট উক্ত আপিল আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করিবে। (২) রিভিউ বোর্ড, তৎকর্তৃক অভিযোগ প্রাপ্তির ১২ (বার) কার্যদিবসের মধ্যে উহার লিখিত সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে এবং উক্ত সিদ্ধান্তের কপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব, বিপিপিএ, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান এবং ক্রয়কারীকে প্রদান করিবে। (৩) আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে রিভিউ বোর্ড নিম্নবর্ণিত যে-কোনো সিদ্ধান্ত স্বতন্ত্রভাবে বা সম্মিলিতভাবে প্রদান করিতে পারিবে, যথা:
    • (ক) কারণ উল্লেখপূর্বক আপিল আবেদন খারিজ করিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে বিরত রাখার (Debarment) কার্যকারিতা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত প্রদান;
    • (খ) দফা (ক)-এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রমতো, নিরাপত্তা জামানত বাজেয়াপ্ত (পূর্ণ বা আংশিক) করিবার সিদ্ধান্ত প্রদান;
    • (গ) আপিলকারী ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে যে মেয়াদের জন্য ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে বিরত রাখিবার (Debarment) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইয়াছে, উহা বাস্তবসম্মত নহে বলিয়া বোর্ডের নিকট প্রতীয়মান হইলে, বিধিতে উল্লিখিত উক্ত মেয়াদ হ্রাস বা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রদান;
    • (ঘ) আপিল আবেদন গ্রহণ করিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে বিরত রাখিবার (Debarment) কার্যকারিতা বাতিল করিবার সিদ্ধান্ত প্রদান;
    • (ঙ) দফা (খ) ব্যতীত অপরাপর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জামানত ফেরত প্রদানের সিদ্ধান্ত প্রদান।
    (৪) ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে। (৫) ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ উক্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। (৬) ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রদানের পর অবিলম্বে আপিলে উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রদত্ত সিদ্ধান্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাইবে না, যদি উক্ত প্রকাশ—
    • (ক) কোনো আইনের পরিপন্থী হয়;
    • (খ) কোনো আইনের প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে;
    • (গ) জনস্বার্থের পরিপন্থী হয়;
    • (ঘ) পক্ষবৃন্দের আইনানুগ ব্যবসায়িক স্বার্থকে বিঘ্নিত করে; বা
    • (ঙ) ক্রয়কার্যের অবাধ প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
    (৭) ক্রয়কারী বা ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড কর্তৃক এই বিধিমালা ও তফসিলের অধীন গৃহীত সিদ্ধান্ত, উহার সমর্থনে যৌক্তিকতা ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি রেকর্ডের অংশ হইবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মোঃ কামাল উদ্দিন
সচিব।
Last modified on September 24, 2026