Skip to main content
রেজিস্টার্ড নং ডি এ-১ বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত রবিবার, মার্চ ৫, ২০২৩ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন তারিখ: ১৭ ফাল্গুন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ/২ মার্চ, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ এস, আর, ও নম্বর ৫৩/আইন/২০২৩।—বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ২০ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার, নিম্নরূপ বিধিমালা প্রণয়ন করিল, যথা :—

বিধি ১। শিরোনাম ও প্রবর্তন

  • (১) এই বিধিমালা পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।
  • (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

বিধি ২। সংজ্ঞা

  • (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই বিধিমালায়—
    • (১) “অধিদপ্তর” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (ক) এ সংজ্ঞায়িত অধিদপ্তর;
    • (২) “আইন” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন);
    • (৩) “আপিল কর্তৃপক্ষ” অর্থ বিধি ২৮ এর উপ-বিধি (১) অনুযায়ী গঠিত আপিল কর্তৃপক্ষ;
    • (৪) “তফসিল” অর্থ এই বিধিমালার তফসিল;
    • (৫) “তালিকাভুক্ত পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ” অর্থ বিধি ৩৭ এর অধীন তালিকাভুক্ত পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ;
    • (৬) “পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (Environmental Impact Assessment)” অর্থ কোনো প্রস্তাবিত প্রকল্প বা কার্যক্রমের সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব চিহ্নিতকরণ, পূর্ব-অনুমান ও মূল্যায়নের সুসংগঠিত প্রক্রিয়া;
    • (৭) “পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি” অর্থ বিধি ২৪ এর অধীন গঠিত কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি;
    • (৮) “পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা” অর্থ পরিবেশগত প্রভাব প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরিকল্পনা;
    • (৯) “প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা” অর্থ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের লক্ষ্যে প্রাথমিক সমীক্ষা;
    • (১০) “মহাপরিচালক” অর্থ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; এবং
    • (১১) “স্থিতিমাপ” অর্থ কোনো ভৌত, রাসায়নিক, বায়োলজিক্যাল বা অন্য কোনো পরিমাপযোগ্য বৈশিষ্ট্য যাহা পরিবেশের গুণগতমানের নির্ধারক।
  • (২) এই বিধিমালায় ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা প্রদান করা হয় নাই সেই সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি আইনে যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রযোজ্য হইবে।

বিধি ৩। পরিবেশ দূষণ বা অবক্ষয়জনিত ক্ষতি প্রতিকারের আবেদন ও প্রতিকার

  • (১) আইনের ধারা ৮ এর উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পরিবেশ দূষণ বা পরিবেশের অবক্ষয়জনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকাগ্রস্ত যে কোনো ব্যক্তি উক্ত ক্ষতি বা সম্ভাব্য ক্ষতির প্রতিকারের জন্য ফরম-১ অনুযায়ী মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে মহাপরিচালক গণশুনানিসহ অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উহা নিষ্পত্তি করিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে মহাপরিচালক কারণ উল্লেখপূর্বক উক্ত সময়সীমা অনধিক ১৫ (পনেরো) কার্যদিবস বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

বিধি ৪। নমুনা সংগ্রহের নোটিশ

  • (১) আইনের ধারা ১১ এর বিধান মোতাবেক মহাপরিচালকের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক বায়ু, পানি, মাটি বা অন্যবিধ পদার্থের নমুনা বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করিতে চাহিলে সংশ্লিষ্ট কারখানা, প্রাঙ্গন বা স্থানের মালিক, দখলদার বা এজেন্টকে ফরম-২ অনুযায়ী নোটিশ প্রদান করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে আইনের ধারা ১১ এর উপ-ধারা (৩) ও (৪) এর বিধানাবলি অনুসরণ করিতে হইবে।

বিধি ৫। অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের শ্রেণিবিন্যাস

  • (১) অধিদপ্তর কর্তৃক অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ও উহা হইতে সৃষ্ট সম্ভাব্য দূষণের পরিধি, মাত্রা এবং পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের উপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করিয়া শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহ নিম্নবর্ণিত শ্রেণিতে বিভক্ত হইবে, যথা :—
    • (ক) সবুজ;
    • (খ) হলুদ;
    • (গ) কমলা; এবং
    • (ঘ) লাল।
    ব্যাখ্যা।—
    • (ক) সবুজ শ্রেণিভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প বলিতে এইরূপ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পকে বুঝাইবে যাহার পরিবেশ এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর তুলনামূলকভাবে খুব কম প্রভাব রহিয়াছে এবং উক্ত শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পসমূহের পরিবেশ দূষণ প্রশমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রহিয়াছে;
    • (খ) হলুদ শ্রেণিভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প বলিতে এইরূপ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পকে বুঝাইবে যাহার পরিবেশ এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর মধ্যম মাত্রায় প্রভাব রহিয়াছে এবং উক্ত প্রভাব পরিহার করিবার জন্য এই শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পসমূহের পরিবেশ দূষণ প্রশমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন;
    • (গ) কমলা শ্রেণিভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প বলিতে এইরূপ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পকে বুঝাইবে যাহার পরিবেশ এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর যথেষ্ট প্রভাব রহিয়াছে, যাহা পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিহার করা প্রয়োজন এবং উপযুক্ত পরিবেশ দূষণ প্রশমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পসমূহের পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করা আবশ্যক; এবং
    • (ঘ) লাল শ্রেণিভুক্ত বলিতে যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পসমূহের পরিবেশ এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর তীব্র প্রভাব রহিয়াছে যাহা পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত মাত্রায় পরিহার করা প্রয়োজন এবং উক্ত শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পসমূহের পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করিবার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিবেশ দূষণ প্রশমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত বিভিন্ন শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহের তালিকা তফসিল-১ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, তফসিল-১ এ উল্লিখিত সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত নহে এমন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের শ্রেণিকরণ তফসিল-১৪ অনুযায়ী হইবে।

বিধি ৬। অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা

  • (১) বিধি ৫ এ উল্লিখিত হলুদ, কমলা ও লাল শ্রেণির নূতন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে অধিদপ্তরের নিকট হইতে প্রথমে অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরবর্তীতে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, সবুজ শ্রেণির নূতন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে, উহা যেখানেই স্থাপন করা হউক না কেন, অবস্থানগত ছাড়পত্র গ্রহণের প্রয়োজন হইবে না, অধিদপ্তরের নিকট হইতে কেবল পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করিতে হইবে: আরও শর্ত থাকে যে, সরকারি বা বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল বা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের শিল্প নগরীতে স্থাপিতব্য সকল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবস্থানগত ছাড়পত্র গ্রহণের প্রয়োজন হইবে না, অধিদপ্তরের নিকট হইতে কেবল পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করিতে হইবে।
  • (২) অবস্থানগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতীত হলুদ, কমলা ও লাল শ্রেণির কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা প্রকল্পের জন্য ভূমির উন্নয়ন বা এতদুদ্দেশ্যে কোনো প্রকার অবকাঠামো নির্মাণ করা যাইবে না।
  • (৩) অবস্থানগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতিরেকে হলুদ, কমলা ও লাল শ্রেণির নূতন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদান করা যাইবে না।
  • (৪) পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতিরেকে সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল শ্রেণির নূতন শিল্প প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক উৎপাদন করা বা প্রকল্প চালু করা যাইবে না।

বিধি ৭। অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আবেদন দাখিলের পদ্ধতি

  • (১) যে শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হইবে উহার অবস্থান, যদি—
    • (ক) অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় রহিয়াছে এমন কোনো জেলায় হয় তাহা হইলে আবেদন উক্ত জেলা কার্যালয়ে দাখিল করিতে হইবে;
    • (খ) অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নাই এমন কোনো জেলায় হয় তাহা হইলে আবেদন সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রাধীন জেলা কার্যালয়ে বা বিভাগীয় কার্যালয়ে দাখিল করিতে হইবে;
    • (গ) কোনো মহানগরে হয় তাহা হইলে আবেদন সংশ্লিষ্ট মহানগর কার্যালয়ে দাখিল করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, মহানগরের জন্য পৃথক কোনো কার্যালয় না থাকিলে আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে দাখিল করিতে হইবে;
    • (ঘ) একই বিভাগের আওতাভুক্ত একাধিক জেলায় হয় তাহা হইলে আবেদন সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ে বা বিভাগীয় কার্যালয়ে দাখিল করিতে হইবে; এবং
    • (ঙ) একাধিক বিভাগে বিস্তৃত হয় তাহা হইলে আবেদন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে দাখিল করিতে হইবে।
  • (২) কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদন অনলাইনে দাখিল করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কারণে অনলাইনে আবেদন দাখিল করা সম্ভব না হইলে সরাসরি আবেদন দাখিল করা যাইবে।
  • (৩) মহাপরিচালক নির্দিষ্টকৃত সময়ের মধ্যে অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট আবেদনসমূহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করিবেন।

বিধি ৮। অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়সমূহ

কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিতে হইবে, যথা:-
  • (ক) সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরকারের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা, নীতিমালা বা সিদ্ধান্তের পরিপন্থী কী না; এবং
  • (খ) সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তফসিল-৯ এর নির্দেশিকা অনুসরণ করা হইয়াছে কী না।

বিধি ৯। সবুজ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহকে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতি

  • (১) সবুজ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য ফরম-৩ অনুযায়ী প্রযোজ্য অংশ পূরণ করিয়া আবেদন দাখিল করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন করিবার ক্ষেত্রে তফসিল-৯ এর নির্দেশিকা অনুসরণ করিতে হইবে।
  • (৩) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদনের সহিত সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, বিবরণ এবং তফসিল-৭ এ উল্লিখিত ফি জমা প্রদান করিতে হইবে।
  • (৪) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন বিবেচনা করিবার ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করিতে হইবে।
  • (৫) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়—
    • (ক) সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাবলি পরীক্ষা করিয়া সন্তুষ্ট হইলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করিবে; অথবা
    • (খ) আবেদনকারী পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের অযোগ্য হইলে তাহার আবেদনটি নামঞ্জুর করিয়া উহার কারণ উল্লেখক্রমে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।

বিধি ১০। হলুদ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহকে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতি

  • (১) হলুদ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অবস্থানগত ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য ফরম-৩ অনুযায়ী প্রযোজ্য অংশ পূরণ করিয়া আবেদন দাখিল করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন করিবার ক্ষেত্রে তফসিল-৬ এ উল্লিখিত আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, বিবরণ এবং তফসিল-৯ এর নির্দেশিকা অনুসরণ করিতে হইবে।
  • (৩) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন বিবেচনা করিবার ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করিয়া যৌক্তিকতা ও অভিমতসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করিতে হইবে।
  • (৪) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির ৮(আট) কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাবলি পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করিয়া অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সন্তুষ্ট হইলে আবেদনকারীকে তফসিল-৭ এ উল্লিখিত ফি জমা প্রদানের জন্য অবহিত করিবে।
  • (৫) উপ-বিধি (৪) এর অধীন অবহিত হইবার পর আবেদনকারী প্রযোজ্য ফি জমা প্রদান করিলে ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর অনুকূলে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান করিতে হইবে।
  • (৬) উপ-বিধি (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাবলি পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করিয়া অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সন্তুষ্ট না হইলে আবেদনটি নামঞ্জুর করিয়া উহার কারণ উল্লেখক্রমে আবেদন প্রাপ্তির ১৫(পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।

বিধি ১১। হলুদ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহকে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতি

  • (১) অবস্থানগত ছাড়পত্র পাইবার পর হলুদ শেণির সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে উহা চালু করিবার লক্ষ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রাপ্তির জন্য আবেদন করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন বিবেচনা করিবার ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করিয়া যৌক্তিকতা ও অভিমতসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করিতে হইবে।
  • (৩) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলকৃত আবেদন, পরিদর্শন প্রতিবেদন, অবস্থানগত ছাড়পত্রের শর্তাবলি প্রতিপালন, ইত্যাদি বিবেচনা করিয়া অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সন্তুষ্ট হইলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করিবে, অথবা সন্তুষ্ট না হইলে আবেদনটি নামঞ্জুর করিয়া উহার কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।

বিধি ১২। কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহকে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতি

  • (১) কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অবস্থানগত ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য ফরম-৩ অনুযায়ী প্রযোজ্য অংশ পূরণ করিয়া আবেদন দাখিল করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন করিবার ক্ষেত্রে তফসিল-৬ এ উল্লিখিত আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, বিবরণ, প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন এবং তফসিল-৯ এর প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুসরণ করিতে হইবে।
  • (৩) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন বিবেচনা করিবার ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করিয়া যৌক্তিকতা ও অভিমতসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করিতে হইবে।
  • (৪) অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় তফসিল-১ এর কমলা শ্রেণির ক্রমিক নং ১ (এক) হইতে ক্রমিক নং ৬২ (বাষট্টি) এ উল্লিখিত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে উপ-বিধি (৩) এর অধীন প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন আবেদনসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আঞ্চলিক, বিভাগীয় বা মহানগর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটিতে প্রেরণ করিবে এবং উক্ত তফসিলের ক্রমিক নং ৬৩ (তেষট্টি) হইতে ক্রমিক নং ১১৩ (একশত তেরো) এ উল্লিখিত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিবেদন আবেদনসহ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটিতে প্রেরণ করিবে ও উহার অনুলিপি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আঞ্চলিক ও বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করিবে।
  • (৫) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন এবং উপ-বিধি (৩) এর অধীন প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
  • (৬) সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি আবেদনকারীর অনুকূলে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে আবেদনকারীকে তফসিল-৭ এ উল্লিখিত ফি জমা প্রদানের জন্য অবহিত করিবে।
  • (৭) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী আবেদন দাখিলের অনধিক ২১ (একুশ) কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীর অনুকূলে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, আবেদন নামঞ্জুর করা হইলে উহার কারণ উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনধিক ৫ (পাঁচ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে।

বিধি ১৩। কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহকে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতি

  • (১) কমলা শ্রেণির সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প চালু করিবার উদ্দেশ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য বিধি ৭ অনুযায়ী অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন বিবেচনা করিবার ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শনক্রমে অবস্থানগত ছাড়পত্রের শর্তাবলি প্রতিপালন ও প্রাসঙ্গিক সকল বিষয় পর্যালোচনা করিয়া পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান বা আবেদন নামঞ্জুর সংক্রান্ত বিষয়ে যৌক্তিকতা ও অভিমতসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে।
  • (৩) অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় তফসিল-১ এর কমলা শ্রেণির ক্রমিক নং ১ (এক) হইতে ক্রমিক নং ৬২ (বাষট্টি) এ উল্লিখিত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে উপ-বিধি (৯) এর অধীন প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন আবেদনসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আঞ্চলিক, বিভাগীয় বা মহানগর কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটিতে প্রেরণ করিবে এবং উক্ত তফসিলের ক্রমিক নং ৬৩ (তেষট্টি) হইতে ক্রমিক নং ১১৩ (একশত তেরো) এ উল্লিখিত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিবেদন আবেদনসহ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটিতে প্রেরণ করিবে ও উহার অনুলিপি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আঞ্চলিক ও বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করিবে।
  • (৪) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন এবং উপ-বিধি (২) এর অধীন প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
  • (৫) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী আবেদন দাখিলের অনধিক ২০ (বিশ) কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীর অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, আবেদন নামঞ্জুর করা হইলে উহার কারণ উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে আবেদন নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনধিক ৫ (পাঁচ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে।
  • (৬) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটির নিকট কমলা শ্রেণির কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনান্তে যদি প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প কর্তৃক সৃষ্ট দূষণ পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলিতে পারে তাহা হইলে কমিটি উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের জন্য পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা পরিচালনার সুপারিশ করিতে পারিবে এবং মহাপরিচালক কর্তৃক উক্ত সুপারিশ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা পরিচালনা করিতে হইবে।

বিধি ১৪। লাল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহকে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতি

  • (১) লাল শ্রেণিভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অবস্থানগত ছাড়পত্রের জন্য ফরম-৩ অনুযায়ী প্রযোজ্য অংশ পূরণ করিয়া অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন করিবার ক্ষেত্রে তফসিল-৬ এ উল্লিখিত আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, বিবরণ, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ এর খসড়া কার্যপরিধি (terms of reference) দাখিল করিতে হইবে এবং এবং তফসিল-৯ এ উল্লিখিত প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুসরণ করিতে হইবে।
  • (৩) পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ এর খসড়া কার্যপরিধি (terms of reference) তফসিল-১০ এ উল্লিখিত নির্দেশিকা অনুসারে প্রণয়ন করিতে হইবে।
  • (৪) আবেদন প্রাপ্তির পর অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন এবং কাগজপত্র ও প্রাসঙ্গিক সকল বিষয় পর্যালোচনা করিয়া অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদানের যৌক্তিকতা সম্পর্কে অভিমতসহ একটি প্রতিবেদন এবং পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ এর খসড়া কার্যপরিধি (terms of reference) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটিতে প্রেরণ করিবে ও উহার অনুলিপি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অঞ্চলিক ও বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করিবে।
  • (৫) উপ-বিধি (৪) এর অধীন দলিলাদি প্রাপ্তির পর পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি সকল বিষয়বস্তু মূল্যায়ন ও বিবেচনা করিয়া এতদসংক্রান্ত প্রতিবেদন মহাপরিচালকের নিকট অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করিবে।
  • (৬) মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে আবেদন প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় হইতে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ এর খসড়া কার্যপরিধির (terms of reference) অনুমোদন প্রদান করা হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজাদির প্রয়োজন হইলে আবেদনকারীকে অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে উহা জমা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা যাইবে: আরও শর্ত থাকে যে, সার্বিক দিক পর্যালোচনাক্রমে আবেদনটি নামঞ্জুর করা হইলে উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে কারণ উল্লেখপূর্বক লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে।

বিধি ১৫। পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা

  • (১) লাল শ্রেণির কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত নির্দেশিকা অনুসারে তালিকাভুক্ত পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শকের দ্বারা অনুমোদিত কার্যপরিধির ভিত্তিতে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা পরিচালনা করিয়া পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে: তবে শর্ত থাকে যে, যেসকল সেক্টরের জন্য অধিদপ্তরের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ নির্দেশিকা নাই সেই সকল সেক্টরের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা পরিচালনার জন্য কোনো আন্তর্জাতিক বা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ নির্দেশিকা অনুসরণ করা যাইবে এবং এইক্ষেত্রে উহা সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা, নীতিমালা বা সিদ্ধান্তের পরিপন্থি কিনা উহা বিবেচনা করিতে হইবে।
  • (২) তালিকাভুক্ত পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শক পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের সহিত আলোচনাক্রমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তাহাদের কার্যক্রম সম্পাদন করিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও পরিবীক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার সহিত আলোচনা ও পরামর্শ করা যাইবে।
  • (৩) তালিকাভুক্ত পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শকগণ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা প্রতিবেদন ও এই প্রতিবেদনের অংশ হিসাবে পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রতিবেদন প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তফসিল-১১ এ উল্লিখিত নির্দেশিকা অনুসরণ করিবেন।
  • (৪) লাল শ্রেণির কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় উল্লিখিত সকল কার্যক্রম, পদক্ষেপ, পরিকল্পনাসমূহ বা পরিবীক্ষণ কর্মসূচিসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হইবে মর্মে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাকে ফরম-৬ অনুযায়ী ঘোষণা প্রদান করিতে হইবে।
  • (৫) লাল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহের উদ্যোক্তাকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটির নিকট দাখিল করিতে হইবে।

বিধি ১৬। পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের জন্য জনমত যাচাই

  • (১) লাল শ্রেণির কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের অংশ হিসেবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রকল্পের বিষয় সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনমত যাচাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, বৃহদাকার ও বিশেষায়িত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিংবা শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অবস্থান একাধিক বিভাগে বিস্তৃত হইলে আঞ্চলিক বা জাতীয় পর্যায়ে জনমত যাচাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
  • (২) জনমত যাচাইয়ের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন ও এতদসংশ্লিষ্ট বাংলা সার-সংক্ষেপের ৩ (তিন) টি সেটসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করিতে হইবে এবং উহার অনুলিপি প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করিতে হইবে।
  • (৩) উপ-বিধি (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা জনমত যাচাইয়ের তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করিয়া বহুল প্রচারিত একটি স্থানীয় ও একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিবেন ।
  • (৪) জনমত যাচাই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাবলি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তার ওয়েবসাইটে, যদি থাকে, প্রচার করিতে হইবে।
  • (৫) পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদনের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবস পর্যন্ত অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে মতামত প্রদান করা যাইবে: তবে শর্ত থাকে যে, খসড়া পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন প্রস্তুতের ৪৫ (পয়ঁতাল্লিশ) কার্যদিবসের মধ্যে জনমত যাচাই সম্পন্ন করিতে হইবে: আরও শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জনমত যাচাই শেষ করা সম্ভব না হইলে অনধিক ১৫ (পনেরো) কার্যদিবস সময় বৃদ্ধি করা যাইবে।
  • (৬) জনমত যাচাই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোগের সহিত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত এবং এতদ্‌বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে যথাসম্ভব সম্পৃক্ত করিতে হইবে।
  • (৭) জনমত যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে নিম্নলিখিত তথ্যাদি উপস্থাপন করিতে হইবে, যথা :—
    • (ক) শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রাথমিক তথ্য;
    • (খ) প্রকল্পের সম্ভাব্য সুফল;
    • (গ) শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সামাজিক প্রভাব;
    • (ঘ) পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব প্রশমনের উপায়সমূহ; এবং
    • (ঙ) এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়।
  • (৮) জনমত যাচাই এর জন্য সভা আয়োজনের অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃক উক্ত সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন করিতে হইবে।
  • (৯) উপ-বিধি (৮) অনুযায়ী অনুমোদিত কার্যবিবরণী পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদনের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে।
  • (১০) জনমত যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত পরিবেশগত মতামতের আলোকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করিতে হইবে।

বিধি ১৭। পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন মূল্যায়ন

  • (১) বিধি ১৫ এর উপ-বিধি (১) অনুযায়ী পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদনের তথ্য ও উপাত্ত সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটির সভায় আমন্ত্রণ জানানো যাইবে।
  • (২) পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি কর্তৃক প্রয়োজনীয় বলিয়া প্রতীয়মান হইলে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদনের উপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থার নিকট হইতে মতামত চাহিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূলে ছাড়পত্র প্রদানের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত মতামত গ্রহণ করিতে হইবে।
  • (৩) পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান কমিটি উহার সভায় সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নকালে নিম্নলিখিত বিষয়াবলি বিবেচনা করিবে, যথা :—
    • (ক) নিরূপিত পরিবেশগত প্রভাব, প্রস্তাবিত পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং পরিবীক্ষণ কর্মসূচি;
    • (খ) জনমত যাচাই করিয়া প্রাপ্ত মতামত এবং উক্ত মতামতের আলোকে গৃহীত ব্যবস্থা;
    • (গ) সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সম্ভাব্য বিকল্পসমূহ এবং প্রয়োজনে উক্ত প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট সরেজমিন পরিদর্শন;
    • (ঘ) প্রতিবেদনের তথ্য অপ্রতুল বলিয়া প্রতীয়মান হইলে অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের জন্য অনুরোধ; এবং
    • (ঙ) অবস্থানগত ছাড়পত্রের প্রতিপালনীয় শর্তসমূহ পর্যালোচনা।
  • (৪) পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদনের কার্যপরিধির শর্তানুসারে দাখিলকৃত অন্যান্য প্রতিবেদন যেমন, সামাজিক প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন, দুর্ঘটনা ও দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত জরুরি পরিকল্পনা, ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানান্তর ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত পরিকল্পনা, ঝুঁকি নিরূপণ ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করিবে।

বিধি ১৮। পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন অনুমোদন

  • (১) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি, লাল শ্রেণির সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর, নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিয়া সুপারিশসহ উহা অনুমোদনের জন্য মহাপরিচালকের নিকট প্রেরণ করিবে, যথা:-
    • (ক) পরিবেশগত বা সামাজিক প্রভাব পর্যাপ্ত মাত্রায় নিরূপণ করা হইয়াছে কিনা;
    • (খ) প্রস্তাবিত পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং পরিবীক্ষণ কর্মসূচি যথার্থ, কার্যকরী, বাস্তবসম্মত এবং পর্যাপ্ত কিনা;
    • (গ) প্রস্তাবিত পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রশমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রস্তাবিত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব গ্রহণযোগ্য মানমাত্রার মধ্যে থাকিবে কিনা; এবং
    • (ঘ) সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প প্রস্তাব সরকারি নীতি এবং পরিকল্পনার পরিপন্থি কিনা।
  • (২) বিধি ১৫ এর উপ-বিধি (৫) অনুযায়ী পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন দাখিলের অনধিক ৩০(ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন অনুমোদন করা হইবে।
  • (৩) পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি কর্তৃক পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন অনুমোদনের সুপারিশ মহাপরিচালক কর্তৃক অনুমোদিত হইলে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে তফসিল-৭ এ উল্লিখিত ফি জমা প্রদানের জন্য আহ্বান করিবে।
  • (৪) উপ-বিধি (২) অনুযায়ী ফি জমা প্রদানের প্রমাণক সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে দাখিলের অনধিক ৭(সাত) কার্যদিবসের মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান করা হইবে।
  • (৫) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অবস্থানগত ছাড়পত্রের আবেদনের উপর পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটির কোনো আপত্তি থাকিলে উহার উপর মহাপরিচালক কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে।
  • (৬) সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা উপ-বিধি (৩) অনুযায়ী লিখিত আপত্তি পাইবার ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হইলে সংশ্লিষ্ট আবেদন নামঞ্জুর করা যাইবে।
  • (৭) অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা ভূমি উন্নয়ন, অবকাঠামো বা স্থাপনা নির্মাণ, লেটারস্ অব ক্রেডিট (এল,সি) খোলাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরম্ভ করিতে পারিবে।
  • (৮) উপ-বিধি (২) এ উল্লিখিত অনুমোদিত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন জনসাধারণের অবগতির জন্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপলোড করিতে হইবে।

বিধি ১৯। পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান পদ্ধতি

  • (১) অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প চালু করার উদ্দেশ্য উদ্যোক্তাকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করিতে হইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদন পাইবার পর অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করিয়া অবস্থানগত ছাড়পত্রের শর্তাবলি, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদনের সুপারিশসহ প্রাসঙ্গিক সকল বিষয় পর্যালোচনাক্রমে অভিমতসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে।
  • (৩) উপ-বিধি (২) এর অধীন প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটিতে প্রেরণ করিয়া উহার অনুলিপি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলিক বা বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করিতে হইবে।
  • (৪) উপ-বিধি (২) এর অধীন প্রাপ্ত প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কাগজাদি পর্যালোচনাক্রমে পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূল পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়ে মহাপরিচালকের নিকট অভিমতসহ সুপারিশ প্রদান করিবে।
  • (৫) উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী প্রাপ্ত সুপারিশ মহাপরিচালক কর্তৃক অনুমোদিত হইবার পর সংশ্লিষ্ট কার্যালয় উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করিবে।
  • (৬) সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের নিকট হইতে পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনপত্র নামঞ্জুর করা হইলে নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে: আরও শর্ত থাকে যে, লাল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প চলমান থাকা অবস্থায় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার কার্যকারিতা ও প্রাসঙ্গিক নূতন কোনো পরিবেশগত বা সামাজিক ইস্যু বিবেচনায় পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন হালনাগাদ করিবার জন্য অধিদপ্তর কর্তৃক উদ্যোক্তাকে নির্দেশনা প্রদান করা যাইবে।

বিধি ২০। অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ

  • (১) সবুজ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ হইবে উহা ইস্যুর তারিখ হইতে ৫ (পাঁচ) বৎসর যা ৫ (পাঁচ) বৎসর অন্তর অন্তর নবায়নযোগ্য হইবে।
  • (২) হলুদ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অবস্থানগত ছাড়পত্র অথবা পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ হইবে উহা ইস্যুর তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর যা ২ (দুই) বৎসর অন্তর অন্তর নবায়নযোগ্য হইবে।
  • (৩) কমলা ও লাল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অবস্থানগত ছাড়পত্র অথবা পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ হইবে উহা ইস্যুর তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসর যা ১ (এক) বৎসর অন্তর অন্তর নবায়নযোগ্য হইবে।

বিধি ২১। অবস্থানগত ছাড়পত্র নবায়ন পদ্ধতি

  • (১) সকল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অবস্থানগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হইবার কমপক্ষে ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে উহা নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অবস্থানগত ছাড়পত্র নবায়নের জন্য ফরম-৪ পূরণ করে তফসিল-৭ এ উল্লিখিত ফি প্রদানপূর্বক বিধি ৭ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করিতে হইবে।
  • (২) সংশ্লিষ্ট কার্যালয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের সাইট সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক যদি সন্তুষ্ট হয় যে, অবস্থানগত ছাড়পত্রে উল্লিখিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হইয়াছে তাহা হইলে উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূলে প্রদত্ত অবস্থানগত ছাড়পত্র নবায়ন করিবে।

বিধি ২২। পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন পদ্ধতি

  • (১) সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নের জন্য ফরম-৫ পূরণপূর্বক তফসিল-৭ এ উল্লিখিত ফি প্রদানপূর্বক বিধি ৭ এ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করিতে হইবে।
  • (২) পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর উক্ত ছাড়পত্রে প্রদত্ত শর্তাবলি প্রতিপালন ও অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত মানমাত্রাসহ প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমসমূহ গ্রহণযোগ্য হইলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক সবুজ ও হলুদ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন করিবে: তবে শর্ত থাকে যে, কমলা ও লাল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নের বিষয়ে মতামত, পরিদর্শন প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কাগজাদি মহানগর, আঞ্চলিক বা বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করিবে।
  • (৩) উপ-বিধি (২) অনুযায়ী প্রাপ্ত সুপারিশ মহানগর, আঞ্চলিক বা বিভাগীয় কার্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত হইবার পর সংশ্লিষ্ট কার্যালয় উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন করিবে।

বিধি ২৩। অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ

  • (১) বিধি ৬ এ উল্লিখিত প্রযোজ্যক্ষেত্রে, অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতীত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প পরিচালিত হইতেছে বলিয়া তথ্য পাওয়া গেলে মহাপরিচালক উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে কারণ দর্শাইবার জন্য অনধিক ১০ (দশ) কার্যদিবস সময় প্রদান করিয়া নোটিশ প্রদান করিবেন।
  • (২) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী কারণ দর্শানোর জবাব প্রাপ্তির অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
  • (৩) উপ-বিধি (২) অনুযায়ী শুনানী গ্রহণের পর মহাপরিচালক সন্তুষ্ট না হইলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারীসহ উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করিয়া বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইত্যাদি সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করিবেন অথবা প্রয়োজনীয় অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
  • (৪) উপ-বিধি (৩) অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প পুনরায় চালু করিতে হইলে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য ফরম-৩ পূরণ করে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ও বিবরণ, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং তফসিল-৭ এ উল্লিখিত ফি প্রদানপূর্বক বিধি ৭ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করিতে হইবে।
  • (৫) কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত পরিচালনা করা হইলে মহাপরিচালক পরিবেশের ক্ষতি নিরূপণ করিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
  • (৬) উপ-বিধি (৫) অনুযায়ী মহাপরিচালক কর্তৃক কোনো ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা উহা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবেন।
  • (৭) শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদান বা নির্দেশিত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হইলে মহাপরিচালক আইনের ধারা (৭) এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

বিধি ২৪। পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটির গঠন

  • (১) আইনের ধারা ১২ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহাপরিচালক—
    • (ক) লাল শ্রেণিভুক্ত এবং প্রযোজ্য কমলা শ্রেণিভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের জন্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালক বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করিয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) সদস্যের একটি পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি গঠন করিতে পারিবেন;
    • (খ) প্রযোজ্য কমলা শ্রেণিভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের জন্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক, বিভাগীয় বা মহানগর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় প্রধানকে আহ্বায়ক করিয়া উক্ত কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ন্যূনতম ৩ (তিন) সদস্যের একটি পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি গঠন করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, মহানগর, বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র বিষয়ক কমিটিতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের আওতাধীন জেলা কার্যালয়ের কার্যালয় প্রধানকে সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।
  • (২) পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান কমিটি সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখিতে সক্ষম এইরূপ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির সহায়তা গ্রহণ করিতে পারিবে।
  • (৩) পরিবেশগত ছাড়পত্র বিষয়ক কমিটির সদস্যগণ, সরকারি বিধি মোতাবেক, সম্মানী প্রাপ্য হইবেন।

বিধি ২৫। পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান কমিটির কার্যাবলি

  • (১) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান কমিটির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :—
    • (ক) লাল শ্রেণিভুক্ত শিল্প বা প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের কার্যপরিধি এবং পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন;
    • (খ) পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের কার্যপরিধি ও পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন অনুমোদনসহ ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়ে মহাপরিচালকের নিকট সুপারিশ প্রদান;
    • (গ) শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ধরন ও বৈশিষ্ট বিবেচনাপূর্বক ছাড়পত্রের শর্তাবলি নির্ধারণ;
    • (ঘ) প্রযোজ্য কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন ও ছাড়পত্রের আবেদন পর্যালোচনাক্রমে ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়ে মহাপরিচালকের নিকট সুপারিশ প্রদান;
    • (ঙ) লাল ও প্রযোজ্য কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রতিবেদন ও ছাড়পত্রের আবেদন পর্যালোচনাক্রমে ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়ে মহাপরিচালকের নিকট সুপারিশ প্রদান;
    • (চ) কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা কর্তৃক কর্পোরেট সামাজিক এবং পরিবেশগত দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা;
    • (ছ) লাল ও প্রযোজ্য কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিনির্দেশ অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা;
    • (জ) প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শন; এবং
    • (ঝ) আইনের ধারা ১২ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহাপরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো কার্য।
  • (২) অধিদপ্তরের মহানগর, বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটির কার্যাবলি:
    • (ক) প্রযোজ্য কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন ও ছাড়পত্রের আবেদন পর্যালোচনাক্রমে ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
    • (খ) বিদ্যমান প্রযোজ্য কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রতিবেদন ও ছাড়পত্রের আবেদন পর্যালোচনাক্রমে ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
    • (গ) শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ধরন ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনাপূর্বক ছাড়পত্রের শর্তাবলি নির্ধারণ;
    • (ঘ) প্রযোজ্য কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিনির্দেশ অনুমোদন;
    • (ঙ) প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শন; এবং
    • (চ) আইনের ধারা ১২ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহাপরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো কার্য।

বিধি ২৬। অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্র হস্তান্তর

  • (১) কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তরিত হইলে উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূলে প্রদত্ত অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্র কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রতিনিধি, দাতা বা গ্রহীতার লিখিত আবেদনক্রমে এবং মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে উহা হস্তান্তর করা যাইবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী কোনো অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্র হস্তান্তরিত হইলে উহার বিপরীতে অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ বা ক্ষতিপূরণের দাবীসহ, যদি থাকে, উহা হস্তান্তরিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

বিধি ২৭। আপিল

  • (১) কোনো ব্যক্তি, শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা আইন বা এই বিধিমালার অধীন প্রদত্ত কোনো নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি উক্ত নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশ প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেন নাই এইরূপ কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা আপিল দায়ের করিতে পারিবেন না।
  • (২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আপিলের সহিত নিম্নবর্ণিত কাগজাদি দাখিল করিতে হইবে, যথা:—
    • (ক) যে নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইয়াছে উহার সত্যায়িত অনুলিপি;
    • (খ) হালনাগাদ পরিবেশগত ছাড়পত্রের অনুলিপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে;
    • (গ) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে আপিল ফি বাবদ ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা জমা প্রদানের প্রমাণক;
    • (ঘ) আইনের ধারা ৭ এর অধীন ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইলে ধার্যকৃত অর্থের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করিতে হইবে; এবং
    • (ঙ) নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশ অনুযায়ী দূষণ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রহিয়াছে মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা।

বিধি ২৮। আপিল কর্তৃপক্ষ

  • (১) আইন ও বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি আপিল কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবে, যথা:—
    • (ক) সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
    • (খ) অতিরিক্ত-সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়;
    • (গ) যুগ্ম-সচিব (পরিবেশ-২), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়;
    • (ঘ) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি; এবং
    • (ঙ) উপ-সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধিশাখা), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
  • (২) চেয়ারম্যান আপিল কর্তৃপক্ষের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত-সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) আপিল কর্তৃপক্ষের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
  • (৩) আপিল কর্তৃপক্ষের সভার কোরামের জন্য চেয়ারম্যানসহ অন্যূন ২ (দুই) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
  • (৪) আপিল কর্তৃপক্ষের সদস্যগণ, সরকারি বিধি মোতাবেক, সম্মানী প্রাপ্য হইবেন।

বিধি ২৯। আপিল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি

  • (১) আপিল কর্তৃপক্ষ আপিলের আবেদনের উপর শুনানী গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করিয়া সংশ্লিষ্ট সকলকে নোটিশ প্রদান করিবে।
  • (২) আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল শুনানীর সুবিধার্থে উভয় পক্ষকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর প্রতিবেদন দাখিল করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
  • (৩) আপিলের কোনো আবেদন পাইবার পর আপিল কর্তৃপক্ষ আবেদনের সহিত দাখিলকৃত সংশ্লিষ্ট কাগজাদি, লিখিত বিবরণ এবং প্রয়োজনে মৌখিকভাবে সাক্ষ্য গ্রহণপূর্বক সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করিয়া আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।
  • (৪) শুনানী গ্রহণক্রমে আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল দায়েরের ৯০ (নব্বই) কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশ দ্বারা গৃহীত সিদ্ধান্ত বাতিল, পরিবর্তন বা সংশোধন করিয়া তদ্‌বিবেচনায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে পারিবে।

বিধি ৩০। আপিল শুনানির পদ্ধতি

  • (১) শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখে আপিলকারী উপস্থিত না হইলে আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল খারিজ করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, আপিল কর্তৃপক্ষ আপিলকারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানীর জন্য উপস্থিত হইবার সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
  • (২) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী আপিলের কোনো আবেদন খারিজ করা হইলে খারিজের উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ২১ (একুশ) কার্যদিবসের মধ্যে উহা পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা যাইবে।
  • (৩) আপিল কর্তৃপক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের স্বাক্ষরে লিখিতভাবে আদেশ জারি করিবে এবং উহার অনুলিপি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় এবং মহাপরিচালকের নিকট প্রেরণ করিবে।
  • (৪) আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূলে প্রদত্ত অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান ও নবায়ন করা যাইবে না।

বিধি ৩১। পরিবেশগত মানমাত্রা নির্ধারণ

পানির মানমাত্রা তফসিল-২ অনুযায়ী এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদানের মানমাত্রা সংশ্লিষ্ট বিধিমালার বিধান অনুসারে নির্ধারিত হইবে।

বিধি ৩২। তরল বর্জ্য নির্গমনের মানমাত্রা

কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের পয়ঃনির্গমন মানমাত্রা তফসিল-৩ অনুযায়ী, তরল বর্জ্য নির্গমন মানমাত্রা তফসিল-৪ অনুযায়ী এবং শিল্পশ্রেণি ভিত্তিক তরল বর্জ্য নির্গমনের মানমাত্রা তফসিল-৫ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

বিধি ৩৩। শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের তরল বর্জ্য পরিশোধন

কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার বা পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ, উহার অনুমোদন এবং পরিচালনা, তরল বর্জ্যের নির্গমন পরিবীক্ষণ, তরল বর্জ্যের নির্গমন মানমাত্রা, তরল বর্জ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতি, তরল বর্জ্য নির্গমন পয়েন্ট, স্লাজ পরিত্যজন, ইত্যাদি বিষয় তফসিল-১২ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

বিধি ৩৪। বিভিন্ন সেবা ও উহার ফি

অধিদপ্তর কোনো ব্যক্তি, শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের উদ্যোক্তা বা সংস্থার আবেদনক্রমে, তফসিল-৮ অনুযায়ী সেবা ফি গ্রহণ করিয়া, পানি, তরল বর্জ্য, বায়ু বা শব্দের নমুনা বিশ্লেষণ এবং বিশ্লেষণজাত তথ্য ও উপাত্ত সরবরাহ সেবা প্রদান করিতে পারিবে।

বিধি ৩৫। ফিসমূহ প্রদানের পদ্ধতি

এই বিধিমালার অধীন নির্ধারিত ফিসমূহ ট্রেজারি চালান, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিতে হইবে এবং ফি জমা প্রদানের প্রমাণক জমা প্রদানকারী কর্তৃক সংরক্ষণ করিতে হইবে।

বিধি ৩৬। পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ ও ক্ষতিপূরণ আদায়

  • (১) আইনের ধারা ৭ এর অধীন কার্যক্রম গ্রহণের অতিরিক্ত হিসাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত দায়ী ব্যক্তি, শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত করা যাইবে।
  • (২) ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের অনুকূলে প্রদত্ত অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্র স্থগিত, বাতিল করা যাইবে বা নবায়ন করা যাইবে না।

বিধি ৩৭। পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ তালিকাভুক্তি

  • (১) কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্য আগ্রহী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ হিসাবে অধিদপ্তরের নিকট তালিকাভুক্ত হইতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো দেশি বা বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তির প্রয়োজন হইবে না।
  • (২) মহাপরিচালক, পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে আবেদন আহ্বান করিয়া ২ (দুই) টি বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, ১ (এক) টি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিবেন।
  • (৩) পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ হিসাবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য বিষয়াদি তফসিল-১৩ এর ‘ক’ অংশ অনুযায়ী হইবে।
  • (৪) পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে প্রাপ্ত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করিবার জন্য মহাপরিচালক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করিবেন।
  • (৫) উপ-বিধি (৪) এ উল্লিখিত কমিটি আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করিয়া একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন মহাপরিচালকের নিকট পেশ করিবে।
  • (৬) মহাপরিচালক উপ-বিধি (৫) এর অধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর অনুকূলে তালিকাভুক্তির অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবেন অথবা আবেদন বাতিল করিতে পারিবেন।
  • (৭) পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ হিসাবে তালিকাভুক্তির আবেদন ফি, তালিকাভুক্তির ফি এবং নবায়ন ফি তফসিল-১৩ এর ‘খ’ অংশ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।
  • (৮) পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ হিসাবে তালিকাভুক্তির মেয়াদ হইবে ৩ (তিন) বৎসর যা ৩ (তিন) বৎসর অন্তর অন্তর নবায়নযোগ্য হইবে।

বিধি ৩৮। পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ তালিকাভুক্তি বাতিলকরণ, হালনাগাদকরণ, ইত্যাদি

  • (১) কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা ত্রুটিপূর্ণ, অসত্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করিয়া তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করিলে বা কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের মালিক বা উদ্যোক্তার নিকট হইতে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিলে মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞকে শুনানীর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিয়া তালিকা হইতে বাদ প্রদান করিবেন।
  • (২) তালিকাভুক্তি হইতে বাদ পড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ সাপেক্ষে পুনরায় তালিকাভুক্ত করিতে পারিবেন।
  • (৩) মহাপরিচালক, সময় সময়, পরিবেশ পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞের তালিকা হালনাগাদ করিবেন।

বিধি ৩৯। বিশেষ ঘটনা অবহিতকরণ

কোনো স্থানে নির্ধারিত মানমাত্রার অতিরিক্ত পরিবেশ দূষক নির্গত বা নিঃসৃত হইলে বা কোনো দুর্ঘটনা বা অদৃষ্টপূর্ব কোনো ক্রিয়া বা ঘটনার কারণে কোনো স্থান এইরূপ আশংকাযুক্ত হইলে সেই দূষণের ঘটনাস্থল বা দূষণ আশংকাযুক্ত স্থানের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ঘটনা বা আশংকা সম্পর্কে মহাপরিচালককে অবহিত করিতে হইবে।

বিধি ৪০। রহিতকরণ ও হেফাজত

  • (১) পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭, অতঃপর উক্ত বিধিমালা বলিয়া উল্লিখিত, এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে জারীকৃত স্মারক নং ২২.০০.০০০০.০৭৫.০৬.০০১.১৮-০২ এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
  • (২) উপ-বিধি (১) এর অধীন উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও প্রযোজ্যক্ষেত্রে উক্ত বিধিমালার অধীন—
    • (ক) কৃত সকল কাজ এই বিধিমালার অধীন কৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
    • (খ) প্রদত্ত অবস্থানগত ছাড়পত্র, পরিবেশগত ছাড়পত্র, নোটিশ, আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন এবং আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ এই বিধিমালার অধীন প্রদত্ত এবং আদায় হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং
    • (গ) নিষ্পন্নাধীন সকল কাজ যতদূর সম্ভব, এই বিধিমালার অধীন নিষ্পন্ন করিতে হইবে।
Last modified on September 24, 2026